Travel Tips: বিচ, ক্লাব, সানসেট, সব দেখা শেষ? এবার গোয়ার অন্ধকার দিকটা দেখুন। রাত ৮টার পর গোটা গ্রাম ঘুমিয়ে পড়ে এমন ৩টে জায়গা আছে যেখানে পর্তুগিজ আমলের ভূতের গল্প এখনও জ্যান্ত। থ্রি কিংস চার্চের অভিশাপ, জলের তলায় ডুবে যাওয়া গ্রাম কুর্ডি, আর সালভাদোর ডু মুন্ডোর গোরস্থান। ভয় পাবেন? তাহলে ল্যাপটপ বন্ধ করে ৩ দিনের জন্য ‘ভূতুড়ে গোয়া’ ট্রিপে চলুন।
Travel Tips: গোয়া মানে শুধু ফেনি আর পার্টি না। গোয়ার ৪৫০ বছরের পর্তুগিজ ইতিহাসে যত আলো আছে, তার ডবল অন্ধকার আছে। গুগল ম্যাপে পিন ড্রপ করেও এই গোয়া পাবেন না। কোনো ট্যুর অপারেটর নিয়ে যাবে না। কারণ এই গোয়ায় সেলফি চলে না, চলে গা ছমছমে নীরবতা।

দিন ১: ক্যানসাউলিম, থ্রি কিংস চার্চের অভিশাপ
সাউথ গোয়ার পাহাড়ের উপর এই চার্চ। লোকালরা বলে, এখানে তিনজন পর্তুগিজ রাজা একে অপরকে বিষ খাইয়ে মেরেছিল ক্ষমতার লোভে। তাদের আত্মা নাকি এখনও সিংহাসনের জন্য ঘোরে। ব্রিটিশ আর্কিওলজিক্যাল সার্ভেও এই চার্চকে ‘হন্টেড’ লিস্টে রেখেছে।
বিকেল ৫টার মধ্যে পৌঁছে যান। সূর্যাস্ত দেখুন, আরব সাগর থেকে জুয়ারি নদী, পুরো গোয়া দেখা যায়। ৬টার পর লোকাল কেউ থাকে না। গার্ডও চলে যায়। চার্চের ভেতর থেকে বাচ্চার কান্না, চেয়ার টানার আওয়াজ পাওয়া যায় বলে শোনা যায়। সাহস থাকলে একা ১০ মিনিট চুপ করে বসুন। ফোন সাইলেন্ট করে নেবেন, নেটওয়ার্ক এমনিই থাকে না।
লোকাল টিপস: চার্চের পেছনে একটা পুরনো কুয়ো আছে। লোকালরা ওই দিকে রাতে যায় না। দিনের বেলায় দেখে আসতে পারেন।
থাকা: কাছেই ভারকা বা কাভেলোসিম বিচের হোমস্টে নিন। রাত ৯টার পর চার্চের রাস্তা পুরো অন্ধকার। বাইক নিয়ে একা ফিরবেন না।
দিন ২: কুর্ডি, জলের তলায় ডুবে যাওয়া গ্রাম
এটা গোয়ার সবচেয়ে দুঃখের গল্প। সাঙ্গুয়েমে সালাউলিম ড্যাম বানানোর জন্য ১৯৮৬ সালে গোটা কুর্ডি গ্রাম ডুবিয়ে দেওয়া হয়। ৬০০ পরিবারকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কথা ছিল ড্যামের জলে ওদের নতুন জমি হবে। কিন্তু সেটা হয়নি।
এপ্রিল-মে মাসের গরমে ড্যামের জল শুকিয়ে গেলে মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে গোটা গ্রাম। চার্চ, সোমেশ্বর মন্দির, বাড়ির ভিটে, স্কুলের মাঠ, সব। ১১ মাস জলের তলায় থাকার পর ১ মাসের জন্য গ্রামটা দেখা যায়। পুরনো গ্রামবাসীরা এই সময় এসে নিজের ভিটেতে মোমবাতি জ্বালায়, পূজা করে। সোমেশ্বর মন্দিরের ভাঙা শিবলিঙ্গে জল ঢালে। সেই দৃশ্য দেখলে গায়ে কাঁটা দেবেই। বাকি সময় বোটে করে ড্যামের উপর ঘুরলে নিচে চার্চের ক্রস আর মন্দিরের চূড়া দেখা যায়।
নোট: ২০২৬-এ জল কবে শুকাবে আগে ড্যাম অথরিটির কাছে খোঁজ নিন। গরম বেশি পড়লে এপ্রিলেই জল নামে। লোকাল ফিশারম্যান ৩০০ টাকায় বোটে ঘোরায়।
সতর্কতা: ভাঙা বাড়িতে উঠবেন না। জলের তলায় ১১ মাস থাকায় স্ট্রাকচার নড়বড়ে।
দিন ৩: সালভাদোর ডু মুন্ডো, গোরস্থানের গ্রাম
পোরভোরিমের কাছে এই গ্রাম। নামের মানেই ‘বিশ্বের ত্রাণকর্তা’। কিন্তু গ্রামের মাঝখানে ৪০০ বছরের পুরনো বিশাল পর্তুগিজ গোরস্থান। দিনের বেলাতেও শুনশান। গোরস্থানের গেটে লেখা ‘আমরাও তোমাদের মতো ছিলাম, তোমরাও আমাদের মতো হবে’।
গ্রামের একমাত্র বার ‘জোসেফ বার’-এ যান। ৮০ বছরের মালিক জোসেফ আঙ্কেলের কাছে গল্প শুনুন। উনি বলবেন, রাত ১২টার পর গোরস্থান থেকে সাদা গাউন পরা এক মহিলা বেরিয়ে মেইন রোড দিয়ে হাঁটে। অনেক বাইক আরোহী তাকে লিফট দিতে গিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। ২০১৯-এ একজন ডেলিভারি বয় মারা যায়। তারপর থেকে গ্রামের লোক রাত ৮টার পর টর্চ ছাড়া বের হয় না। সাহস থাকলে রাত ১০টায় গোরস্থানের গেটের বাইরে ৫ মিনিট দাঁড়ান। লোকাল ট্যাক্সিও আপনাকে নামিয়ে দিতে চাইবে না।
আরও দেখুন: গ্রামে ‘সালভাদোর ডু মুন্ডো চার্চ’ আছে। ৪০০ বছরের পুরনো। সেখানে ফাদারের কাছে গ্রামের ইতিহাস শুনুন।
খরচ: জোসেফ বারে একটা কিংফিশার ৮০ টাকা, চিকেন ক্যাফ্রিয়াল ২৫০ টাকা। গল্প ফ্রি, কিন্তু আঙ্কেলকে একটা ড্রিঙ্ক অফার করবেন।
বোনাস দিন ৪: ইগরজে ডি সান্তা মোনিকা, পুরনো গোয়া
হাতে সময় থাকলে ওল্ড গোয়ার এই কনভেন্টে যান। পর্তুগিজ আমলে এখানে নানদের রাখা হতো। লোকালরা বলে, এক নানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল। রাতে তার কান্না শোনা যায়। ASI এখন রাত ৬টার পর ঢুকতে দেয় না। কিন্তু দিনের বেলায় গেলেও গা ভারী লাগবে।
এই ট্রিপ কেন আলাদা?
১. জিরো ট্যুরিস্ট: এই ৩টে জায়গায় সেলফি তোলার ভিড় নেই। আপনি, ৪০০ বছরের ইতিহাস আর গা ছমছমে নিস্তব্ধতা।
২. লোকাল স্টোরি: গাইড বইয়ে এই গল্প পাবেন না। একমাত্র জোসেফ আঙ্কেল বা কুর্ডির বুড়ো-বুড়িরাই জানে। তাদের সাথে বসে ফেনি খেতে খেতে গল্প শুনুন। এটাই আসল গোয়া।
৩. অ্যাড্রেনালিন রাশ: টিটোস লেনে নেচে যে থ্রিল পান না, থ্রি কিংস চার্চে একা ৫ মিনিট বসে তার ডবল পাবেন। বিনা পয়সায়।
৪. রিস্পেক্ট: এই ট্রিপ আপনাকে গোয়ার মানুষ আর তাদের কষ্টের ইতিহাসকে সম্মান করতে শেখাবে।
টোটাল খরচ ৩ দিনে:
থাকা + স্কুটি + তেল: ৪,০০০ টাকা
খাওয়া + বার + বোট: ৩,০০০ টাকা
জনপ্রতি ৭,০০০ টাকা। গ্রুপে গেলে ৬,০০০-এ হয়ে যাবে।
সেফটি রুলস, মানতেই হবে:
১. একা যাবেন না: অন্তত ২ জন থাকুন। রাতে এই স্পটগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে না।
২. লোকালকে সম্মান: চার্চ, গোরস্থান, ডুবে যাওয়া গ্রাম, এগুলো লোকালদের ইমোশন। চিৎকার, রিল বানানো, পাথরে নাম লেখা করবেন না।
৩. টর্চ + পাওয়ার ব্যাঙ্ক: মাস্ট। রাত ৭টার পর গোটা এলাকা ঘুটঘুটে অন্ধকার।
৪. দুর্বল হার্ট, প্রেগন্যান্ট, একা মেয়ে: রাতে এই স্পটগুলো অ্যাভয়েড করুন। দিনের বেলায় ঘুরুন।
৫. ফেনি খেয়ে বাইক না: গোয়ার পুলিশ এসব রুটে চেকিং করে। আর ভূতের ভয়ের চেয়ে অ্যাক্সিডেন্টের ভয় বেশি।
কী নেবেন:
টর্চ, এক্সট্রা ব্যাটারি, ওডোমস, সাহস, আর একজন এমন বন্ধু যে ভূতে বিশ্বাস করে না কিন্তু ভয় পায়।
কী নেবেন না:
দুর্বল হার্ট, ওভার কনফিডেন্স, আর ‘ভূত বলে কিছু নেই’ মার্কা অ্যাটিটিউড।
গোয়ার এই দিকটা দেখার পর বাগা-কালাঙ্গুট আর ভালো লাগবে না। গ্যারান্টি। কারণ এটা শুধু ঘোরা না, এটা একটা এক্সপেরিয়েন্স।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


