বহুদিন কোথাও অফবিট জায়গায় ঘোরা হয়নি? এই পুজোয় বা শীতে মনটা পাহাড় পাহাড় করছে? তাহলে দার্জিলিংয়ের ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন মেঘের রাজ্য গুফাপাতাল থেকে। এত সুন্দর জায়গা হয়তো আগে কখনও দেখেননি।

নামটা শুনেই কেমন রহস্যময় ও অ্যাডভেঞ্চারে ভরা লাগছে, তাই না? দার্জিলিং থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে, ভারত-নেপাল সীমান্তে অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রামটি এখনও অনেকের কাছেই অচেনা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামকে স্থানীয়রা বলেন মেঘের গ্রাম।

এখানে কী কী দেখবেন?

১. মেঘের ওপরে বসবাস: এখানে গেলে মনে হবে আপনি মেঘের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। সকালবেলা ঘুম ভাঙবে জানালা দিয়ে ঢুকে আসা মেঘের ভেলায়। দুপুরে রোদ, বিকেলে আবার মেঘে ঢাকা চারপাশ - এই খেলাই চলতে থাকে সারাদিন।

২. কাঞ্চনজঙ্ঘার ১৮০ ডিগ্রি ভিউ: আকাশ পরিষ্কার থাকলে হোমস্টের বারান্দা থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘার যে ১৮০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়, তা আপনি জীবনে ভুলবেন না। এখান থেকে স্লিপিং বুদ্ধও দেখা যায়।

৩. নিরিবিলি প্রকৃতি: চারদিকে ঘন পাইন বন, আর তার মাঝে ছোট্ট কাঠের হোমস্টে। এখানে কোনও হোটেলের কোলাহল নেই, গাড়ির হর্ন নেই। আছে শুধু নানা রঙের পাখির ডাক আর ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ। যারা ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি স্বর্গ।

৪. আশেপাশে ঘোরার জায়গা: গুফাপাতালকে কেন্দ্র করেই আপনি ঘুরে নিতে পারেন টংলু, টুমলিং, কালাপোখরি। অনেক ট্রেকার এখান থেকেই সান্দাকফু ট্রেক শুরু করেন।

কীভাবে যাবেন এবং থাকবেন কোথায়?

যাওয়ার রুট: শিলিগুড়ি বা NJP থেকে প্রথমে আপনাকে আসতে হবে মানেভঞ্জনে। শেয়ার গাড়িতে ঘণ্টা তিনেক লাগে। সেখান থেকে ল্যান্ডরোভার বা ছোট গাড়ি রিজার্ভ করে মাত্র ১ ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন গুফাপাতাল। রাস্তার সৌন্দর্য এতটাই যে, যাওয়ার ক্লান্তি টেরই পাবেন না।

থাকা-খাওয়ার খরচ: থাকার জন্য এখানে ৪-৫টি সুন্দর হোমস্টে আছে। জনপ্রতি ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে থাকা ও তিন বেলা খাওয়া হয়ে যাবে। হোমস্টের মানুষদের আতিথেয়তা আপনার মন জয় করে নেবে। গরম গরম মোমো আর দার্জিলিং চা খেতে খেতে মেঘের খেলা দেখার অনুভূতিই আলাদা।

তাই এই পুজো বা শীতে দার্জিলিং নয়, একবার ঘুরে আসুন গুফাপাতাল থেকে, কথা দিচ্ছি নিরাশ হবেন না।