উইকেন্ড এলেই মনটা পালাই পালাই করে। কিন্তু দীঘা, মন্দারমণি, বকখালি সব তো ঘোরা হয়ে গেছে। ভিড় এড়িয়ে একটু নিরিবিলিতে নদীর হাওয়া খেতে চান? তাহলে আপনার জন্য পারফেক্ট ডেস্টিনেশন হল গাদিয়ারা এবং তার ঠিক পাশের গোপন রত্ন গড়চুমুক ও ৫৮ গেট।

উইকেন্ড এলেই মনটা পালাই পালাই করে। কিন্তু দীঘা, মন্দারমণি, বকখালি সব তো ঘোরা হয়ে গেছে। ভিড় এড়িয়ে একটু নিরিবিলিতে নদীর হাওয়া খেতে চান? তাহলে আপনার জন্য পারফেক্ট ডেস্টিনেশন হল গাদিয়ারা এবং তার ঠিক পাশের গোপন রত্ন গড়চুমুক ও ৫৮ গেট।

হাওড়া জেলার একদম শেষ প্রান্তে অবস্থিত গাদিয়ারা। এখানে মিশেছে তিনটি নদী - হুগলি, রূপনারায়ণ ও দামোদর। নদীর মোহনায় সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। কিন্তু আসল ম্যাজিকটা লুকিয়ে আছে গাদিয়ারা থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার আগে।

হাওড়ার গোপন স্পট: গড়চুমুক - ৫৮ গেট

অনেকেই গাদিয়ারা চলে যান, কিন্তু মাঝপথে গড়চুমুককে মিস করে যান। এখানেই দামোদর নদীর উপর রয়েছে ৫৮টি লকগেট দিয়ে তৈরি বিশাল বাঁধ, তাই নাম ৫৮ গেট। বর্ষাকালে যখন সব গেট খুলে দেওয়া হয়, তখন তার গর্জন শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে।

কেন যাবেন এখানে? মানসিক শান্তির ৩টি কারণ:

১. ডিয়ার পার্ক ও নির্জন নদীপাড়: ৫৮ গেটের পাশেই রয়েছে গড়চুমুক ডিয়ার পার্ক। ছোট্ট জঙ্গলের মধ্যে হরিণ ঘুরে বেড়াচ্ছে, ময়ূর ডাকছে। পার্কের ভিতর থেকে সোজা নেমে যাওয়া যায় দামোদর নদের পাড়ে। এখানে কোনও দোকানের চিৎকার নেই, মাইকের আওয়াজ নেই। শুধু নদীর বয়ে চলার শব্দ আর পাখির ডাক। একা বসে থাকলেও মন ভালো হয়ে যাবে।

২. ভিড় একদম নেই: গাদিয়ারায় আজকাল পিকনিকের সময় প্রচণ্ড ভিড় হয়। কিন্তু গড়চুমুক এখনও পর্যন্ত অফবিট। সপ্তাহের মাঝে গেলে আপনি পুরো নদীপাড়টা নিজের মতো করে পাবেন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, বই পড়া বা শুধু জলের দিকে তাকিয়ে বসে থাকার জন্য আদর্শ।

৩. ফোর্ট মর্নিংটন বা ক্লাইভের কেল্লা: গাদিয়ারা পৌঁছে নৌকো নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ভগ্নপ্রায় ফোর্ট মর্নিংটন থেকে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর রবার্ট ক্লাইভ এই কেল্লাটি বানিয়েছিলেন। কেল্লার উপর থেকে তিন নদীর সঙ্গম দেখা যায়, যা এক কথায় অপূর্ব।

কীভাবে যাবেন? ঠিকানা ও খরচ:

কলকাতা থেকে দূরত্ব মাত্র ৭৫-৮০ কিলোমিটার। বাইক বা গাড়িতে NH16 ধরে উলুবেড়িয়া, তারপর শ্যামপুর হয়ে সোজা গড়চুমুক। ট্রেনে গেলে হাওড়া থেকে উলুবেড়িয়া স্টেশনে নেমে টোটো বা অটোতে ৩০ মিনিট।

থাকা-খাওয়া: থাকতে চাইলে গাদিয়ারাতে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের রূপনারায়ণ ট্যুরিস্ট লজ আছে, ভাড়া ১২০০ টাকা থেকে শুরু। না থাকতে চাইলে একদিনেই ঘুরে আসা যায়। দুপুরে নদীর টাটকা মাছ ভাত খেতে ভুলবেন না। এই উইকেন্ডে শপিং মল নয়, একবার ঘুরে আসুন এই নদীর পাড় থেকে। কথা দিচ্ছি, ফিরে এসে মনটা অনেক হালকা লাগবে।