অফিসে একজন ভালো বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু অফিসের বন্ধুত্ব আর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব এক নয়। আবেগের বশে কিছু গোপন কথা সহকর্মীর সঙ্গে শেয়ার করলে তা আপনার কেরিয়ারের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে। জেনে নিন কোন ৫টি কথা অফিসের বন্ধুকেও বলা উচিত নয়।

সকাল ১০টা থেকে সন্ধে ৬টা, দিনের সবচেয়ে বেশি সময়টা আমরা সহকর্মীদের সঙ্গেই কাটাই। লাঞ্চ একসঙ্গে, কাজের চাপ ভাগ করে নেওয়া, মনের কথা বলা - এই করতে করতে অনেক সহকর্মীই প্রিয় বন্ধু হয়ে ওঠে। মনে হয়, ওকে সব বলা যায়। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় ভুলটা হয়। অফিস হল একটি প্রফেশনাল জায়গা। আজ যে আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড, কাল প্রমোশনের দৌড়ে সেই-ই আপনার প্রতিযোগী হতে পারে। তাই বন্ধুত্ব থাকুক, কিন্তু কিছু সীমারেখা মেনে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।

১. আপনার স্যালারি এবং ইনক্রিমেন্ট

এটি হল অফিসের সবচেয়ে গোপন বিষয়। আপনি কত টাকা বেতন পান, কত ইনক্রিমেন্ট পেলেন বা বোনাস পেলেন - ভুলেও অফিসের বন্ধুকে বলবেন না। এতে হিংসা, তুলনা এবং অপ্রয়োজনীয় আলোচনা তৈরি হয়। আপনার বেতন বেশি হলে বন্ধু কষ্ট পাবে, কম হলে আপনি নিজে ছোট হয়ে যাবেন। HR-এর নিয়ম অনুযায়ী স্যালারি নিয়ে আলোচনা করাও উচিত নয়।

২. বস বা অন্য কলিগের নামে সমালোচনা

বন্ধু ভেবে যদি বসের নামে বা অন্য কোনও সহকর্মীর নামে খারাপ কথা বলেন, তাহলে সেই কথাই ঘুরে-ফিরে বসের কানে যেতে পারে। অফিসে কোনও কথাই গোপন থাকে না। আজ আপনার বন্ধু মন দিয়ে আপনার কথা শুনবে, কাল নিজের স্বার্থে সেই কথাই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। সমালোচনা করতে হলে অফিসের বাইরে করুন।

৩. আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা - চাকরি ছাড়া বা ইন্টারভিউ

আপনি নতুন চাকরি খুঁজছেন, অন্য কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিয়েছেন - এই খবরটি অফিসে কাউকে, এমনকি সবচেয়ে কাছের বন্ধুকেও আগাম বলবেন না। যদি কোনও কারণে নতুন চাকরিটা না হয়, তাহলে বর্তমান অফিসে আপনার ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। সবাই ভাববে আপনি চলে যাচ্ছেন। নতুন চাকরি কনফার্ম হওয়ার পরেই জানান।

৪. আপনার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা

আপনার সংসারে অশান্তি চলছে, সঙ্গীর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে, আর্থিক সমস্যায় আছেন - এই ধরনের গভীর ব্যক্তিগত সমস্যা অফিসের বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করবেন না। এতে অফিসে আপনার দুর্বলতা প্রকাশ পায়। অনেকেই এই ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে আপনাকে প্রফেশনালি দুর্বল করে দিতে পারে বা আপনার পিছনে আলোচনা করতে পারে।

৫. কোম্পানির গোপন তথ্য বা অন্যের গোপন কথা

যদি বস আপনাকে বিশ্বাস করে কোনও গোপন প্রজেক্ট বা তথ্য দিয়ে থাকে, তা বন্ধুকেও বলবেন না। এতে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে। একইভাবে, এক সহকর্মী আপনাকে বিশ্বাস করে কিছু বললে, সেটা অন্য সহকর্মীকে বলবেন না। অফিসে "বিশ্বাসযোগ্য" তকমা পাওয়াটা খুব জরুরি।

বন্ধুত্ব থাকুক, কিন্তু প্রফেশনাল বাউন্ডারি মেনে চলুন। অফিসে বন্ধুর সঙ্গে চা খান, আড্ডা দিন, কাজে সাহায্য করুন, কিন্তু এই ৫টি বিষয় এড়িয়ে চলুন। এতে বন্ধুত্বও টিকবে, কেরিয়ারও সুরক্ষিত থাকবে।