গ্রীষ্মের চড়া রোদে অনেক গাছ নেতিয়ে পড়ে। কিন্তু ঢেঁড়স, ঝিঙে, লাউ, করলা আর পুঁইশাক এই গরমেই তরতরিয়ে বাড়ে। ৩৫-৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা এদের জন্য আদর্শ। বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় টবেই ফলাতে পারবেন। বীজ থেকে ফলন মাত্র ৪৫-৬০ দিনে।
গরমকাল মানেই সব্জির আগুন দাম। ৮০ টাকা কেজি ঢেঁড়স, ৬০ টাকা ঝিঙে। তার উপর কীটনাশক দেওয়া কি না কে জানে। অথচ এই গরমেই বাড়ির টবে, ছাদে বা এক চিলতে জমিতে দিব্যি ফলাতে পারেন ৫টা সব্জি। রোদ যত চড়া, ফলন তত ভালো। জল আর একটু যত্ন দিলেই ২ মাসে আপনার পাতেই উঠবে নিজের হাতে ফলানো সব্জি।
গরমের জন্য সেরা ৫ সব্জি ও চাষের সহজ টিপস:
১. ঢেঁড়স: ৪৫ দিনেই ফলন ঢেঁড়স গরমের রাজা। ৩৫ ডিগ্রির উপর তাপমাত্রা পেলেই হু হু করে বাড়ে। ১২ ইঞ্চি টবে বা গ্রো ব্যাগে ২টো গাছ লাগান। দোআঁশ মাটির সঙ্গে ৫০% গোবর সার মেশান। বীজ রাতভর জলে ভিজিয়ে সকালে পুঁতুন। ৪-৫ দিনে চারা বেরোবে। ৪৫ দিন পর থেকে টানা ২ মাস ফল দেবে। রোজ জল দেবেন, কিন্তু গোড়ায় জল যেন না জমে। সাদা মাছি এড়াতে নিম তেল স্প্রে করুন।
২. ঝিঙে: মাচা দিন, ফলন নিন ঝিঙে লতানো গাছ। রোদ আর মাচা পেলেই খুশি। ১৪ ইঞ্চি টবে একটা গাছই যথেষ্ট। মাটি তৈরি করুন ৪০% মাটি, ৪০% গোবর, ২০% বালি দিয়ে। বীজের মুখটা একটু ঘষে নিয়ে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে পুঁতলে তাড়াতাড়ি গজাবে। ১৫ দিন পরেই লতা বাড়তে শুরু করবে। দড়ি বা নেট দিয়ে মাচা করে দিন। ৫০-৫৫ দিনে ফুল, তার ১০ দিনের মধ্যে ঝিঙে। একটা গাছে ২০-২৫টা ঝিঙে হয়। ফল হলুদ হওয়ার আগেই তুলুন, নইলে বীজ শক্ত হয়ে যাবে।
৩. লাউ: একটাতেই গোটা পরিবার হবে গরমে লাউয়ের ঝোল অমৃত। ছাদে একটা বড় ড্রামে বা সিমেন্টের বস্তায় লাউ লাগান। প্রচুর জৈব সার লাগবে। গোবর, পাতা পচা, ভার্মি কম্পোস্ট দিন। লাউয়ের পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদা হয়। সকালে তুলির সাহায্যে হ্যান্ড পলিনেশন করলে ১০০% ফল ধরবে। স্ত্রী ফুলের নিচে ছোট লাউ থাকে। ৬০ দিনে প্রথম লাউ পাবেন। একটা গাছে ৮-১০টা লাউ হয়। গরমে রোজ ২ বেলা জল দিন।
৪. করলা: পোকা নেই, রোগ নেই করলার তেতো স্বাদ পোকামাকড় পছন্দ করে না। তাই কীটনাশক লাগেই না। ঝিঙের মতোই মাচায় হবে। ১২ ইঞ্চি টবে লাগান। বীজের খোসা শক্ত, তাই হালকা হাতুড়ি দিয়ে ফাটিয়ে ২ দিন ভিজিয়ে পুঁতুন। ৫০ দিনে ফলন শুরু। নিয়মিত করলা তুললে গাছ আরও ফল দেয়। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য বাড়ির করলা সেরা ওষুধ।
৫. পুঁইশাক: একবার লাগান, সারা গরম খান পুঁইশাক গরম আর বৃষ্টি দুটোই ভালবাসে। ডাঁটা বা বীজ থেকে হয়। টবের ধারে লাগিয়ে দড়ি বেঁধে দিন, বেয়ে উঠবে। ৩০ দিন পর থেকেই ডগা কাটা শুরু করুন। যত কাটবেন, তত নতুন ডগা গজাবে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা শাক পাবেন। আয়রন আর ভিটামিনে ভরপুর। ৫-৬টা গাছ একটা পরিবারের জন্য যথেষ্ট।
৩টে এক্সট্রা টিপস: ১. জল: গরমে টবের মাটি তাড়াতাড়ি শুকায়। সকালে বা বিকেলে জল দিন। দুপুরে দেবেন না। মালচিং করুন। টবের মাটির উপর শুকনো পাতা বা খড় বিছিয়ে দিন। জল কম লাগবে। ২. সার: রাসায়নিক সার নয়। ১৫ দিন অন্তর পাতলা করে সর্ষের খোল পচা জল বা সব্জির খোসা ভেজানো জল দিন। ৩. রোদ: এই ৫টা গাছের দিনে ৬-৮ ঘণ্টা কড়া রোদ চাই। ছায়াতে ফলন হবে না।
এই গরমে বাজার না গিয়ে ছাদে যান। ৫০০ টাকার বীজ, সার আর টবে ২ মাস পরেই ৫০০০ টাকার সব্জি ঘরে তুলবেন। বিষমুক্ত খাবেন, শরীরও ভালো থাকবে।


