Parenting Tips: পরীক্ষায় ৯৫% পেলেই কি জীবনে জিতে যাবে? আসল পরীক্ষা তো নেয় জীবন। একটা বন্ধু ছেড়ে গেলে, একটা কম্পিটিশনে হারলে, বা বকা খেলে যে বাচ্চা ভেঙে পড়ে না, উঠে দাঁড়ায়—সেই আসল স্ট্রং। আর এই মনের জোর ক্লাসে শেখানো যায় না, বাড়িতে তৈরি করতে হয়।

Parenting Tips: পরীক্ষায় ৯৫% পেলেই কি জীবনে জিতে যাবে? আসল পরীক্ষা তো নেয় জীবন। একটা বন্ধু ছেড়ে গেলে, একটা কম্পিটিশনে হারলে, বা বকা খেলে যে বাচ্চা ভেঙে পড়ে না, উঠে দাঁড়ায়—সেই আসল স্ট্রং। আর এই মনের জোর ক্লাসে শেখানো যায় না, বাড়িতে তৈরি করতে হয়। ‘না’ বলতে শেখানো, নিজের ভুলের দায় নেওয়া, বোর হতে দেওয়া—এমন ৭টা ছোট অভ্যাসই আপনার বাচ্চাকে ভিতর থেকে ইস্পাতের মতো শক্ত করে দেবে। ডিগ্রির থেকেও দামি এই স্কিল, আজই শুরু করুন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রেজিলিয়েন্স মানে পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা

আমরা বাচ্চাকে ম্যাথ, সায়েন্স, কোডিং সব শেখাই। কিন্তু মন খারাপ হলে কী করতে হয়, হারলে কীভাবে সামলাতে হয়, সেটা শেখাই কি? ফলে একটু প্রেশার পড়লেই বাচ্চা অ্যাংজাইটিতে ভোগে, সুইসাইডের খবরও আসে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, রেজিলিয়েন্স মানে পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। এটা জিনে থাকে না, অভ্যাসে তৈরি হয়। আর সেই ৭টা অভ্যাস আপনার হাতে।

মানসিক ভাবে শক্তিশালী বাচ্চা মানে সে রোবট না, যে কাঁদে না। বরং সে কাঁদে, ভয় পায়, রাগ করে—কিন্তু সেই ইমোশনকে হ্যান্ডেল করতে জানে। সে জানে হার মানেই শেষ না, আবার চেষ্টা করার শুরু। এই স্কিলগুলো বই পড়ে হয় না, রোজের ছোট ছোট ঘটনায় তৈরি হয়। দেখে নিন কোন ৭টা অভ্যাস বাচ্চার ভিত পোক্ত করবে।

প্রথম অভ্যাস হল ‘বোর’ হতে দেওয়া। সারাদিন স্ক্রিন, টিউশন, অ্যাক্টিভিটি ক্লাসে বাচ্চার ব্রেন রেস্ট পায় না। একটু ফাঁকা সময় পেলেই আমরা বলি, “যা, ড্রয়িং কর”। বোরডম থেকেই ক্রিয়েটিভিটি আসে। বাচ্চা যখন একা বসে বোর হয়, তখন ওর ব্রেন নিজে থেকে প্রবলেম সলভ করা শেখে। একটা কাঠি দিয়ে খেলে, গল্প বানায়। এটাই সেল্ফ-সুদিং। যে বাচ্চা নিজেকে নিজে ব্যস্ত রাখতে পারে, সে বড় হয়ে একাকিত্ব বা ডিপ্রেশনে কম ভোগে। তাই দিনে ৩০ মিনিট ‘বোরিং টাইম’ দিন। কোনও গ্যাজেট না, কোনও ইন্সট্রাকশন না।

দ্বিতীয় হল ‘না’ শোনার অভ্যাস। আমরা বাচ্চার সব আবদার মেটাই, ভাবি ভালোবাসা। আসলে ক্ষতি করি। জীবন তো রোজ ‘না’ বলবে। চাকরি পাবে না, প্রপোজাল রিজেক্ট হবে। ছোটবেলায় চকোলেট বা খেলনার জন্য ‘না’ শুনলে যে কষ্টটা হয়, সেটা হ্যান্ডেল করা শিখতে দিন। কাঁদুক, রাগ করুক। আপনি শান্ত থাকুন, বুঝিয়ে বলুন কেন ‘না’। এতে ওর ইমোশনাল মাসল তৈরি হয়। যে বাচ্চা ‘না’ হজম করতে পারে, সে রিজেকশনেও ভাঙে না।

তৃতীয় অভ্যাস, ভুলের দায় নিজে নিতে শেখান। গ্লাস ভেঙে গেলে “আমি করিনি, বিড়াল করেছে” বলতে দেবেন না। বকবেন না, কিন্তু বলুন, “ঠিক আছে, ভুল হয়েছে। এবার চলো একসাথে পরিষ্কার করি।” এতে ও বোঝে ভুল করা ক্রাইম না, কিন্তু দায় এড়ানো দুর্বলতা। যে বাচ্চা নিজের ভুল স্বীকার করে, সে অন্যকে দোষ দেয় না। এরাই বড় হয়ে ভালো লিডার হয়, কারণ এরা শেখে ও শোধরায়।

জীবনে কেউ হারাতে পারে না

চতুর্থ হল ‘গ্রিট’ বা লেগে থাকার ক্ষমতা। সাইকেল চালাতে গিয়ে ১০ বার পড়ে গেল। আপনি দৌড়ে তুললেন, আর চড়তে দিলেন না। এতে ওর মেসেজ গেল, “পড়ে গেলে মা-বাবা বাঁচাবে, আমাকে চেষ্টা করতে হবে না।” বরং পড়ে গেলে বলুন, “লাগেনি তো? বেশ, আবার ওঠো। তুমি পারবে।” ট্যালেন্টের থেকে ‘লেগে থাকা’ বেশি জরুরি। যে বাচ্চা জানে হেরে গেলেও আবার ট্রাই করা যায়, তাকে জীবনে কেউ হারাতে পারে না।

পঞ্চম অভ্যাস হল ইমোশনকে নাম দিতে শেখানো। বাচ্চা কাঁদলে আমরা বলি, “কাঁদে না, চুপ”। মানে ওকে শেখালাম কান্না খারাপ। ফলে বড় হয়ে ও ফিলিং চেপে রাখে, আর ভিতরে ভিতরে শেষ হয়ে যায়। বরং জিজ্ঞেস করুন, “তোমার কি মন খারাপ? রাগ হচ্ছে? ভয় লাগছে?” ফিলিংসের নাম জানলে ও কন্ট্রোল করতে শেখে। যে বাচ্চা বলতে পারে “আমার অ্যাংজাইটি হচ্ছে”, সে প্যানিক অ্যাটাক সামলাতে পারে। ইমোশনাল ভোকাবুলারি হল মেন্টাল স্ট্রেংথের প্রথম ধাপ।

ষষ্ঠ অভ্যাস, তুলনা বন্ধ করুন। “দেখ, পাশের বাড়ির রিয়া ফার্স্ট হয়েছে, তুই কেন হলি না?” এই একটা লাইন বাচ্চার সেল্ফ-এস্টিম শেষ করে দেয়। প্রতিটা বাচ্চা আলাদা। ওর কম্পিটিশন ওর নিজের সাথে। কালকের থেকে আজ ১% ভালো হয়েছে কিনা, সেটাই দেখুন। বলুন, “তুই গতবার অঙ্কে ৬০ পেয়েছিলি, এবার ৬৫। ইউ আর ইমপ্রুভিং।” এতে ও অন্যের সাথে না, নিজের সাথে লড়তে শেখে। সেল্ফ-ওয়ার্থ বাইরে থেকে না, ভিতর থেকে আসে।

সপ্তম আর শেষ অভ্যাস হল কৃতজ্ঞতা প্র্যাকটিস। রোজ রাতে শোওয়ার আগে বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করুন, “আজকের দিনের ৩টে ভালো জিনিস কী হল?” প্রথমে বলবে না, ভাবতে হবে। খেলতে গিয়ে পড়ে যায়নি, মা পছন্দের তরকারি করেছে, বন্ধু টিফিন শেয়ার করেছে—ছোট জিনিস। এই প্র্যাকটিস ব্রেনকে পজিটিভ খুঁজতে শেখায়। হার্ভার্ডের রিসার্চ বলছে, কৃতজ্ঞ বাচ্চাদের ডিপ্রেশন ১৫% কম হয়। কারণ ওরা জানে, জীবন খারাপ হলেও, ভালোটা খুঁজে নিতে হয়।

এই ৭টা অভ্যাস কোনও ম্যাজিক না। রোজ একটু একটু করে করতে হবে। আপনি পারফেক্ট প্যারেন্ট হবেন না, দরকারও নেই। আপনি যদি ভুল করে সরি বলেন, হার স্বীকার করেন, বাচ্চা সেটাই শিখবে। মনে রাখবেন, আপনার বাচ্চার সবচেয়ে বড় রোল মডেল আপনি। আপনি ভেঙে না পড়লে, ও-ও শিখবে ঝড়ের মধ্যে ছাতা ধরতে, ভিজতে নয়।

এই আর্টিকেল সাধারণ প্যারেন্টিং গাইডেন্স ও সাইকোলজির তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। প্রতিটি শিশু আলাদা। বাচ্চার ব্যবহারে গভীর অ্যাংজাইটি, ডিপ্রেশন বা সেল্ফ-হার্মের লক্ষণ দেখলে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চাইল্ড সাইকোলজিস্ট বা ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এটি প্রফেশনাল থেরাপির বিকল্প নয়।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।