বয়স ধরে রাখতে আর ক্রিম নয়, এবার লাগবে পাসপোর্টে স্ট্যাম্প। অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটির নতুন গবেষণা বলছে, ভ্রমণ করলে শরীরের জৈবিক বয়স আসল বয়সের চেয়ে কমে যায়। 

বয়স লুকোতে আর বোটক্স নয়, ফেসলিফ্ট নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। পাসপোর্টে যত স্ট্যাম্প, শরীর তত জওয়ান।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটির (ECU) ‘স্কুল অফ বিজনেস অ্যান্ড ল’-এর গবেষকরা ২০২৪-২০২৬ ধরে ট্রাভেল আর হেলথের সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছেন। জার্নাল ‘Journal of Travel Research’-এ প্রকাশিত পেপারে দাবি: পজিটিভ ট্রাভেল এক্সপেরিয়েন্স মানুষের জৈবিক বয়স কমায়।

১. ম্যাজিকটা আসলে কী? বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা মানুষের দুটো বয়স। একটা ‘ক্রোনোলজিক্যাল এজ’ – জন্ম সার্টিফিকেটে যা লেখা। আরেকটা ‘বায়োলজিক্যাল এজ’ – শরীর আসলে কতটা বুড়ো হয়েছে। স্ট্রেস, ঘুমের অভাব, খারাপ ডায়েট, একঘেয়েমি – এগুলো বায়োলজিক্যাল এজ বাড়িয়ে দেয়।

ভ্রমণ ঠিক উল্টোটা করে: * স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কমায়: নতুন জায়গা, প্রকৃতি, সমুদ্র দেখলে ব্রেন ‘রিল্যাক্স মোড’-এ যায়। কর্টিসল কমা মানে হার্ট, সুগার, প্রেশার ভালো থাকে।

* শারীরিক অ্যাক্টিভিটি বাড়ে: এয়ারপোর্টে হাঁটা, সাইটসিয়িং, সাঁতার, ট্রেক – অজান্তেই এক্সারসাইজ হয়। রক্ত চলাচল বাড়ে, কোষে অক্সিজেন যায়।

* সামাজিক মেলামেশা: নতুন লোক, নতুন খাবার, নতুন ভাষা – ব্রেনের নিউরন অ্যাক্টিভ থাকে। ডিমেনশিয়া, অ্যালঝাইমারের ঝুঁকি কমে।

* টেলোমেয়ার বাঁচায়: DNA-র শেষে থাকে টেলোমেয়ার। বয়স বাড়লে এটা ছোট হয়। স্ট্রেসে আরও দ্রুত ছোট হয়। গবেষণা বলছে, নিয়মিত ঘুরলে টেলোমেয়ারের ক্ষয় ধীরে হয়। মানে কোষের বয়স কমে।

২. উল্টোটাও সত্যি: না ঘুরলে বয়স বাড়ে গবেষকরা বলছেন, নেগেটিভ ট্রাভেল এক্সপেরিয়েন্স – যেমন ফ্লাইট মিস, চুরি, অসুস্থ হওয়া, খারাপ হোটেল – উল্টে স্ট্রেস বাড়িয়ে বয়স বাড়াতে পারে। আবার একদম না ঘুরে বছরের পর বছর একই রুটিনে থাকলে ক্রনিক স্ট্রেস, ডিপ্রেশন হয়। সেটাও জৈবিক বয়স বাড়ায়।

৩. কতদিন ঘুরলে লাভ? গবেষণায় কোনও ‘ম্যাজিক নাম্বার’ নেই। তবে দেখা গেছে: ১. বছরে ২-৩ বার ছোট ট্রিপ, ৪-৭ দিনের – সবচেয়ে কার্যকর। ২. প্রকৃতির কাছে যাওয়া – পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল – শহরের থেকে বেশি অ্যান্টি-এজিং। ৩. ‘রিল্যাক্স’ করা জরুরি। শুধু ছবি তুলে ইনস্টাগ্রামে দিলে হবে না। ফোন অফ করে জায়গাটা ফিল করতে হবে। ৪. ৩৫-এর পর থেকে রেগুলার ট্রাভেল করলে ৬০-এ গিয়েও বায়োলজিক্যাল এজ ৫-৭ বছর কম থাকতে পারে।

৪. ভারতীয়দের জন্য কী মানে? ECU-র গবেষক ফাংলি হু বলছেন, “Travel is not just about leisure. It’s a health intervention.” মানে, ঘোরা এখন চিকিৎসার অংশ।

ভারতে কাজের চাপ, দূষণ, ট্রাফিক – স্ট্রেস লেভেল হাই। সপ্তাহান্তে লোনাভালা, গোয়া, কুর্গ, বা বছরে একবার কেরালা, হিমাচল – এগুলো ওষুধের মতো কাজ করবে। LTA-র টাকা তুলে শুধু শপিং নয়, ঘুরতে খরচ করুন।

শেষ কথা: পাসপোর্টে স্ট্যাম্প পড়া মানে শুধু ভিসা অফিসারের সিল নয়। ওটা আপনার শরীরের ‘রিসেট বাটন’।

বয়স আটকানো যাবে না, কিন্তু ‘বুড়ো’ হওয়া আটকানো যাবে। তাই নেক্সট স্যালারি ঢুকলে ক্রিম নয়, টিকিট কাটুন।

কারণ বিজ্ঞান বলছে, সবচেয়ে ভালো অ্যান্টি-এজিং ক্রিমের নাম – ‘ভ্রমণ’।