পিরিয়ডের ব্যথায় কষ্ট পান? কোনও বড় রোগের লক্ষণ নয় তো? এক্ষুনি সাবধান হন

পিরিয়ডের ব্যথা সাধারণত জরায়ুর সংকোচন বা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন হরমোনের কারণে হয়, যা সাধারণ। তবে তীব্র ব্যথা, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে (যেমন: বমি, অজ্ঞান হওয়া), তা এন্ডোমেট্রিওসিস, ফাইব্রয়েড বা পেলভিক ইনফেকশনের মতো রোগ এর লক্ষণ হতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্যথা বাড়লে বা অসহ্য হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পিরিয়ডের ব্যথা: স্বাভাবিক বনাম অস্বাভাবিক পিরিয়ডের ব্যথা দুই ধরনের হয়:

* প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া (স্বাভাবিক): সাধারণত অল্প বয়স থেকে শুরু হয় এবং প্রতি পিরিয়ডে ১-২ দিন স্থায়ী হয়।

* সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া (অস্বাভাবিক): যদি বয়সের সাথে সাথে ব্যথা বাড়তে থাকে বা হঠাৎ নতুন করে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, তবে এটি কোনো রোগের সংকেত হতে পারে।

গোপনে দানা বাঁধা রোগসমূহ (যা থেকে ব্যথা হয়): অসহ্য বা অস্বাভাবিক পিরিয়ডের ব্যথার পেছনে নিচের কারণগুলো থাকতে পারে:

* এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis): জরায়ুর ভেতরের কোষ যখন বাইরে বাড়তে থাকে। এর ফলে ডিম্বাশয়ে 'চকলেট সিস্ট' হতে পারে এবং তীব্র ব্যথা হয়।

* জরায়ুর ফাইব্রয়েড (Uterine Fibroids): জরায়ুর দেয়ালে হওয়া অ-ক্যান্সারজনিত টিউমার, যা তীব্র ব্যথার কারণ।

* অ্যাডেনোমায়োসিস (Adenomyosis): জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ যখন জরায়ুর পেশীতে বেড়ে ওঠে।

* পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID): জরায়ু বা ডিম্বাশয়ে সংক্রমণ।

* সারভিক্যাল স্টেনোসিস (Cervical Stenosis): জরায়ুর মুখ সরু হয়ে যাওয়া, যা পিরিয়ডের রক্ত বের হতে বাধা দেয় এবং চাপ সৃষ্টি করে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

* ব্যথা যদি সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধেও না কমে। * ব্যথার কারণে প্রতিদিনের কাজ ব্যাহত হলে। * রক্তক্ষরণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হলে। * বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্যথার তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে।

করণীয়:

* ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার (কলা, ডার্ক চকলেট, সবুজ শাকসবজি) খাওয়া। * পর্যাপ্ত জল পান করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা। * ব্যথা অসহ্য হলে অবশ্যই গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সতর্কীকরণ: এই তথ্য শুধুমাত্র সচেতনতার জন্য। যেকোনো চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।