বর্ষা নামলেই শুরু হয় পোকা-মাকড়ের অত্যাচার। রান্নাঘরে পিঁপড়ের লাইন, বাথরুমে আরশোলা আর সন্ধ্যা হলেই মশার ঝাঁক। অগত্যা আমরা হাতে তুলে নিই কড়া কেমিক্যাল স্প্রে। তাতে পোকা মরে ঠিকই, কিন্তু সেই বিষ বাতাসে মিশে ক্ষতি করে বাচ্চা, বয়স্ক আর পোষ্যদের।
বৃষ্টি পড়লেই মনটা ভালো হয়ে যায়, কিন্তু ঘরের কোণে কোণে শুরু হয় নতুন উপদ্রব। দেওয়াল বেয়ে পিঁপড়ের মিছিল, আনাচে-কানাচে আরশোলার লুকোচুরি আর কানের কাছে মশার ভনভন। বিশেষ করে কলকাতার মতো স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বর্ষাকাল মানেই পোকাদের বংশবৃদ্ধির সময়। আমরা তাড়াহুড়ো করে দোকান থেকে চড়া গন্ধের কেমিক্যাল স্প্রে কিনে আনি। দুমিনিটে ঘর পোকাশূন্য হয় ঠিকই, কিন্তু তারপর শুরু হয় হাঁচি, কাশি, মাথা ধরা। বাচ্চারা যদি সেই স্প্রে করা মেঝেতে হামাগুড়ি দেয় বা পোষ্যরা চেটে ফেলে, তাহলে বিপদ আরও বাড়ে। WHO বলছে, ঘরের ভিতর কেমিক্যাল কীটনাশকের নিয়মিত ব্যবহার শ্বাসকষ্ট আর নার্ভের সমস্যা ডেকে আনে।

তাহলে উপায়? উপায় আছে আপনার কিচেন ক্যাবিনেটেই। প্রথম ম্যাজিক স্প্রে হল নিম তেলের। নিমের গন্ধ পোকামাকড় একদম সহ্য করতে পারে না। একটা স্প্রে বোতলে ১ লিটার জল নিন। তাতে ২ চামচ নিম তেল আর ১ চামচ লিকুইড সোপ বা হ্যান্ডওয়াশ মেশান। সাবানটা দিলে তেল আর জল ভালো করে মিশে যাবে। এবার ভালো করে ঝাঁকিয়ে জানালার গ্রিল, দরজার কোনা, খাটের নিচ, রান্নাঘরের সিঙ্কের তলায় স্প্রে করুন। মশা, মাছি, আরশোলা সব পালাবে। গাছে পোকা লাগলেও এই স্প্রে দিতে পারেন, গাছের ক্ষতি হবে না। সপ্তাহে ২ দিন স্প্রে করলেই হবে।
দ্বিতীয় স্প্রে পিঁপড়ের যম। পিঁপড়ে অ্যাসিডের গন্ধ সহ্য করতে পারে না। তাই ভিনিগার এদের সবচেয়ে বড় শত্রু। একটা বাটিতে হাফ কাপ হোয়াইট ভিনিগার আর হাফ কাপ জল মেশান। সাথে ১০-১২ ফোঁটা পিপারমেন্ট এসেনশিয়াল অয়েল দিলে গন্ধটা ভালো হবে আর পিঁপড়েও আরও তাড়াতাড়ি পালাবে। তেল না থাকলেও শুধু ভিনিগার-জলেই কাজ হবে। এবার এই মিশ্রণটা স্প্রে বোতলে ভরে যেখান দিয়ে পিঁপড়ে ঢুকছে, সেই লাইন ধরে স্প্রে করে দিন। রান্নাঘরের স্ল্যাব, চিনির কৌটোর চারপাশ, দরজার নিচের ফাঁক, সব জায়গায় দিন। পিঁপড়ে নিজেদের গন্ধের ট্রেইল হারিয়ে ফেলবে আর ১০ মিনিটে উধাও হবে।
তৃতীয় আর সবচেয়ে সুগন্ধি স্প্রে হল দারচিনির। আরশোলা, মাকড়সা আর ছোট টিকটিকি দারচিনির কড়া গন্ধ একদম পছন্দ করে না। এক গ্লাস জল ফুটিয়ে তাতে ২টো দারচিনি স্টিক বা ১ চামচ দারচিনি গুঁড়ো দিয়ে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। জলটা ঠান্ডা হলে ছেঁকে স্প্রে বোতলে ভরুন। চাইলে এর সাথে ৪-৫টা লবঙ্গও ফোটাতে পারেন। এবার বাথরুমের ড্রেনের মুখ, রান্নাঘরের তাকের কোনা, আলমারির পিছনে, যেখানে আরশোলা বেশি দেখেন, সেখানে স্প্রে করুন। ঘরে সুন্দর গন্ধ হবে আর পোকাও পালাবে। এই স্প্রে বাচ্চার জামাকাপড়ের আলমারিতেও দিতে পারেন, কোনো ক্ষতি নেই।
এই ৩টি স্প্রে বানাতে খরচ হবে মেরেকেটে ২০-৩০ টাকা, আর একবার বানালে ১৫ দিন চলে যাবে। কেমিক্যাল স্প্রের মতো দমবন্ধ করা গন্ধ নেই, বারবার ঘর বন্ধ করে রাখতে হয় না। স্প্রে করার সময় শুধু খেয়াল রাখবেন চোখে যেন না লাগে। আর বর্ষায় শুধু স্প্রে করলেই হবে না, বাড়ির আনাচে-কানাচে জল জমতে দেবেন না, ডাস্টবিন রোজ পরিষ্কার করুন আর খাবার খোলা ফেলে রাখবেন না। পোকা আসার রাস্তা বন্ধ করলে স্প্রের দরকারই কম পড়বে। তাই বর্ষায় পোকার উপদ্রব কমাতে বিষ দিয়ে নিজের ক্ষতি করবেন না। রান্নাঘরের এই তিন ম্যাজিক উপাদানই আপনার বাড়িকে রাখবে সেফ, ফ্রেশ আর পোকামুক্ত। আজই বানিয়ে ফেলুন, আর নিশ্চিন্তে বর্ষা উপভোগ করুন।


