Cafe Business Tips: ইনস্টাগ্রামে ক্যাফের ছবি দেখে মনে হয় দারুণ ব্যবসা, কফি বানালেই টাকা। বাস্তবটা উল্টো। ভারতে প্রতি ১০টা নতুন ক্যাফের মধ্যে ৮টা প্রথম ২ বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। কারণটা কফি নয়, ব্যবসার অঙ্ক না বোঝা। লোকেশন ভুল বাছা, ভাড়ার হিসেব না করা, ভুল মেনু, স্টাফ ম্যানেজমেন্ট না জানা আর লাইসেন্সের ঝামেলা।  

Cafe Business Tips: “চাকরি ভালো লাগছে না, একটা ছোট ক্যাফে খুলে ফেলি” - বন্ধুদের আড্ডায় এই কথাটা এখন খুব কমন। পিন্টারেস্টের মতো ইন্টেরিয়র, লাটে ক্যাপুচিনো আর কাস্টমারের ভিড়, স্বপ্নটা সুন্দর। কিন্তু NRAI-এর রিপোর্ট বলছে, ভারতে ফুড সার্ভিস ব্যবসায় ফেল করার রেট ৮০% এর বেশি। ক্যাফের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরও ভয়ঙ্কর। কারণ কফি বানানো আর ক্যাফে চালানো এক জিনিস নয়। স্বপ্নপূরণ করতে গেলে এই ৮টা পয়েন্ট মুখস্ত করে নিন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কোন কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন?

এক, লোকেশন ইজ গড। আপনি যত ভালো কফিই বানান, ক্যাফে যদি গলির ভিতরে হয় বা পার্কিং না থাকে, কেউ আসবে না। কলেজ, অফিস পাড়া, বা মেট্রো স্টেশনের কাছাকাছি ফুটফল দেখে জায়গা বাছুন। আর মনে রাখবেন, ভাড়া যেন আপনার টোটাল প্রজেক্টেড সেলের ১০% এর বেশি না হয়। ১ লাখ টাকা ভাড়া হলে মাসে অন্তত ১০ লাখ টাকার বিক্রি টার্গেট রাখতে হবে। নইলে শুধু বাড়িওয়ালার জন্যই খাটবেন। 

দুই, লাইসেন্সের পাহাড় টপকাতে হবে। শুধু ট্রেড লাইসেন্স নয়। লাগবে FSSAI ফুড লাইসেন্স, ফায়ার NOC, শপ অ্যান্ড এস্টাবলিশমেন্ট লাইসেন্স, মিউজিক বাজালে PPL লাইসেন্স, সাইনবোর্ডের পারমিশন। কলকাতায় KMC আর পুলিশ পারমিশনও লাগে। এগুলো জোগাড় করতে ২-৩ মাস আর ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। আগে থেকে কনসালট্যান্টের সাথে কথা বলে বাজেট করুন।

তিন, মেনু ছোট রাখুন, প্রফিট বড় হবে। শুরুতেই ৫০ পদের মেনু বানাবেন না। ৮-১০টা সিগনেচার আইটেম রাখুন যা আপনি বেস্ট বানাতে পারেন। মেনু বড় হলে ইনভেন্টরি কস্ট বাড়ে, ওয়েস্টেজ বাড়ে, কিচেন স্লো হয়। প্রতিটা আইটেমের ‘ফুড কস্ট’ হিসেব করুন। ১০০ টাকার স্যান্ডউইচ বানাতে যদি ৪০ টাকার মাল লাগে, আপনার ফুড কস্ট ৪০%। এটাকে ৩০% এর নিচে রাখার চেষ্টা করুন।

চার, ইন্টেরিয়রে সব টাকা ঢেলে দেবেন না। সুন্দর ইন্টেরিয়র দরকার, কিন্তু কাস্টমার একবার সেলফি তুলে চলে গেলে লাভ নেই। তারা ফেরে খাবার আর সার্ভিসের জন্য। মোট বাজেটের ২৫% এর বেশি ডেকোরে খরচ করবেন না। আগে কিচেন ইকুইপমেন্ট, ভালো এসি, আর কমফোর্টেবল বসার জায়গায় ইনভেস্ট করুন। দেওয়ালে নিওন লাইট পরে লাগালেও চলবে।

পাঁচ, স্টাফ ইজ এভরিথিং। একজন ভালো বারিস্তা আর একজন অলরাউন্ডার কুক আপনার ক্যাফের সম্পদ। কিন্তু ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে স্টাফ টিকিয়ে রাখা সবচেয়ে কঠিন। স্যালারি টাইমে দিন, ওভারটাইমের পয়সা দিন, সপ্তাহে একদিন ছুটি দিন, আর সম্মান করুন। আপনি নিজে যদি ১২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কাজ না করতে পারেন, স্টাফের থেকে আশা করবেন না। মালিককে প্রথম ১ বছর কাউন্টারে দাঁড়াতেই হবে।

ছয়, মার্কেটিং মানে শুধু ইনস্টাগ্রাম নয়। খুলে গেলাম পোস্ট দিলেই লোক আসবে না। লোকাল মার্কেটিং করুন। আশেপাশের অফিসে স্যাম্পল পাঠান, কলেজের ফেস্ট স্পনসর করুন, Zomato-Swiggy তে রেজিস্টার করুন। ‘লয়্যালটি কার্ড’ দিন, যেমন ৫টা কফি কিনলে ১টা ফ্রি। একজন রিপিট কাস্টমার ১০টা নতুন কাস্টমারের চেয়ে দামি।

সাত, ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হাতে রাখুন। ক্যাফে খুলে গেল মানেই পরের মাস থেকে প্রফিট আসবে না। প্রথম ৬ মাস লস হবে ধরেই নামুন। ভাড়া, স্যালারি, কারেন্ট বিল, মালের দাম - এই সব মেটানোর জন্য খোলার খরচের উপর আরও ৬ মাসের খরচ হাতে রাখুন। একে বলে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল। এটা না থাকলেই ভালো চলা ক্যাফেও টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

আট, নিজের ‘কেন’টা পরিষ্কার করুন। আপনি কেন ক্যাফে খুলছেন? শুধু টাকার জন্য হলে এই ব্যবসা আপনার জন্য নয়। এখানে মার্জিন কম, কম্পিটিশন বেশি, আর ১৪-১৬ ঘণ্টা খাটতে হয়। প্যাশন থাকতে হবে খাবার নিয়ে, মানুষকে সার্ভ করার নিয়ে। যখন রাত ১১টায় কাস্টমার এসে বলবে ‘দাদা, এক কাপ চা হবে?’, তখন মুখে হাসি রাখতে পারবেন কিনা ভাবুন।

তাই ভেবে দেখুন ক্যাফে ব্যবসা রোমান্টিক নয়, এটা পুরোদস্তুর ম্যাথস আর HR এর খেলা। স্বপ্ন দেখুন, কিন্তু প্ল্যান করুন কাগজে-কলমে। লোকেশন, লাইসেন্স, কস্টিং, স্টাফ আর ধৈর্য - এই ৫টা স্তম্ভের উপরেই দাঁড়িয়ে থাকে একটা সফল ক্যাফে। নামার আগে ৩ মাস সময় দিন শুধু রিসার্চ করতে, অন্য ক্যাফেতে পার্টটাইম কাজ করুন। গ্রাউন্ড রিয়ালিটি বুঝে গেলে আপনার সাকসেস রেট ২০% থেকে ৮০% হয়ে যাবে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।