টানা কয়েকদিন ঠাকুর দেখা, রাত জাগা, বাইরের তেল-মশলাদার খাবার খেয়ে পুজো শেষে শরীর একেবারে ছেড়ে দিয়েছে? সকালে উঠতে ইচ্ছা করছে না, কাজে মন বসছে না, মাথা ভার? একে বলে Post-Festival Blues বা Detox Crash।

পুজোর ৪-৫ দিনের অনিয়ম, রাত জেগে প্যান্ডেল হপিং, ফুচকা-বিরিয়ানি-রোল—আনন্দ হলেও পেট আর শরীরের ওপর দিয়ে ঝড় যায়। বেশি চিনি, তেল, আর ঘুম কম হওয়ায় শরীরে জল কমে যায়, হজমের গন্ডগোল হয়, আর এনার্জি লেভেল একদম পড়ে যায়। তাই পুজোর পর ২-৩ দিন শরীরকে একটু ডিটক্স করা জরুরি।

১. ডাবের জল ও লেবু-জল দিয়ে দিন শুরু:

সকালে উঠে চা-কফি নয়। এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জলে লেবু আর এক চিমটে সৈন্ধব লবণ, অথবা ডাবের জল খান। পুজোর সময় ডিহাইড্রেশন আর ইলেক্ট্রোলাইট লস হয়, এটা তা পূরণ করে শরীরকে ইনস্ট্যান্ট চাঙ্গা করে। লিভারও পরিষ্কার হবে।

২. টক দই ও ঘোল:

বাইরের খাবার খেয়ে পেটের ভালো ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়। টক দই হলো প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক। দুপুরে ভাতের সঙ্গে এক বাটি টক দই বা বিকেলে এক গ্লাস পাতলা ঘোল, সঙ্গে একটু ভাজা জিরে গুঁড়ো— হজম ফিরবে, গ্যাস-অম্বল কমবে, আর পেট ঠান্ডা থাকলে মাথাও ঠান্ডা থাকবে।

৩. কলা ও খেজুর - ইনস্ট্যান্ট এনার্জি:

কাজে মন বসছে না মানেই শরীরে পটাশিয়াম ও আয়রন কমেছে। একটি কলা আর ২-৩টে খেজুরে আছে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ, পটাশিয়াম। বিকেলে যখন ঝিমুনি আসবে, বিস্কুট-চিপসের বদলে এটি খান। ১০ মিনিটে এনার্জি ফিরে পাবেন।

৪. মুগ ডালের খিচুড়ি ও পেঁপে:

২-৩ দিন ভারী খাবার বাদ দিন। রাতে হালকা মুগ ডালের পাতলা খিচুড়ি সঙ্গে পেঁপে সেদ্ধ বা সবজি স্যুপ খান। মুগ ডাল সহজপাচ্য, প্রোটিনে ভরপুর, পেঁপেতে আছে হজমে সাহায্যকারী এনজাইম। লিভারকে রেস্ট দিন।

৫. আমলকী, তুলসী ও বাদাম:

পুজোর পর ইমিউনিটি পড়ে যায়, তাই সর্দি-কাশি হয়। রোজ সকালে ১টি আমলকী বা ৪-৫টি তুলসী পাতা চিবিয়ে খান— ভিটামিন C-এর সেরা উৎস। আর সকালে ৫-৬টি ভেজানো আমন্ড ও আখরোট। এতে থাকা ওমেগা-৩ ব্রেন ফগ কাটিয়ে মনোযোগ বাড়াবে।

যে খাবার গুলো এড়িয়ে চলবেন: আগামী ৩ দিন— কোল্ড ড্রিংকস, অতিরিক্ত চা-কফি, মিষ্টি, ভাজাভুজি আর ময়দা একদম নয়। রাত ১১টার মধ্যে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, পুজোর আনন্দের রেশ কাটাতে শরীরকে একটু সময় দিন। এই ডিটক্স ডায়েট ২ দিন করলেই দেখবেন, আপনি আবার আগের মতো ফুরফুরে।