শরৎ মানেই মরসুম বদলের সময়। দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা, সঙ্গে জমে থাকা বর্ষার জল। আর এই সময়টাই সংক্রামক রোগের আদর্শ সময়। পুজোর আনন্দ যাতে অসুখে না বদলায়, তাই আগে থেকেই জেনে নিন কোন ৫টি রোগ থেকে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

পুজো এসে গেল মানেই মরসুম বদলাচ্ছে। বর্ষা যাচ্ছে, শরৎ আসছে। সকালে রোদ, বিকেলে বৃষ্টি, রাতে হালকা ঠান্ডা। আর এই আবহাওয়াতেই ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ডাক্তাররা বলছেন, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে প্রতিবছরই হাসপাতালে জ্বর, সর্দি, পেটের রোগের রোগী বেড়ে যায়। প্যান্ডেল হপিংয়ের প্ল্যান যাতে হাসপাতালে শেষ না হয়, তাই এই রোগগুলো নিয়ে এখনই সতর্ক হন।

প্রথম এবং সবচেয়ে ভয়ের নাম হল ডেঙ্গু। বর্ষার জমা জলে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি হয়। পুজোর সময়টাই ডেঙ্গুর পিক সিজন। হঠাৎ করে তীব্র জ্বর, চোখের পিছনে ব্যথা, গায়ে লাল র‍্যাশ, গাঁটে গাঁটে ব্যথা হল ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ। বাড়ির আশেপাশে জল জমতে দেবেন না, ফুলের টব, এসির জল, টায়ারে জল জমলে এখনই পরিষ্কার করুন।

দ্বিতীয়ত, ভাইরাল ফিভার এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা। আবহাওয়া বদলের কারণে ঠান্ডা-গরম লেগে সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, হালকা জ্বর খুব সাধারণ। ভিড়ের মধ্যে প্যান্ডেলে ঘুরলে একজনের থেকে আরেকজনের মধ্যে খুব দ্রুত ছড়ায়। মাস্ক ব্যবহার করুন, হাত ধোয়ার অভ্যাস রাখুন।

তৃতীয়ত, টাইফয়েড এবং পেটের সংক্রমণ। পুজোর সময় বাইরের খাবার, ফুচকা, রোল, কাটা ফল খাওয়া বাড়ে। দূষিত জল বা খাবার থেকে টাইফয়েড, ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং হয়। বাইরের জল এড়িয়ে চলুন, খাবার গরম এবং টাটকা খাওয়ার চেষ্টা করুন।

চতুর্থত, চিকুনগুনিয়া। এটিও মশাবাহিত রোগ। ডেঙ্গুর মতোই জ্বর আসে, কিন্তু এর প্রধান কষ্ট হল জ্বরের পরেও মাসের পর মাস জয়েন্টে অসহ্য ব্যথা থেকে যায়। মশারি এবং মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা খুব জরুরি।

পঞ্চমত, চোখের সংক্রমণ বা কনজাংটিভাইটিস। এই সময় ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস খুব ছড়ায়। চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি, জল পড়া এর লক্ষণ। চোখে হাত দেবেন না, অন্যের রুমাল, তোয়ালে ব্যবহার করবেন না।

ডাক্তারদের পরামর্শ, পুজোর আনন্দের মাঝে শরীরের যত্ন নিন। প্রচুর জল খান, হালকা খাবার খান, রাতে ভালো ঘুম দিন। জ্বর ২ দিনের বেশি থাকলে নিজে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।