অনেকেই মনে করেন, বিয়ে হয়ে গিয়েছে মানেই সম্পর্কের যত্নের আর প্রয়োজন নেই। তাতেই শুরু হয় সমস্যা।

বিয়ের পর সঙ্গীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়লে তা সম্পর্কের অবনতির ইঙ্গিত, যা দূর করতে ৫টি প্রধান শত্রু—যোগাযোগের অভাব, ইগো, অন্যের সঙ্গে তুলনা, শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় অনীহা এবং ব্যক্তিগত সময়ের অভাব—চিনতে হবে। এগুলো উপেক্ষা করলে সম্পর্কে বিষাক্ততা বাড়ে, যার ফলে বিচ্ছেদ অনিবার্য হতে পারে। এই সমস্যাগুলো থেকে বাঁচতে খোলামেলা কথা বলা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জরুরি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সম্পর্কের ৫টি প্রধান শত্রু এবং বিস্তারিত আলোচনা:

১. যোগাযোগের অভাব (Lack of Communication): বিয়ের পর অনেকেই ভাবেন আর যত্নের প্রয়োজন নেই। দিনভর ফোন-মেসেজ কমে যাওয়া বা একে অপরকে এড়িয়ে চলার প্রবণতা সম্পর্কের মূল শত্রু। নিজেদের অনুভূতি, ভয় বা চাহিদার কথা সঙ্গীকে স্পষ্টভাবে না জানালে দূরত্ব বাড়ে।

২. ইগো বা অহংকার (Ego): ‘আমি কেন আগে কথা বলব?’—এই মানসিকতা সম্পর্ককে ধ্বংস করে। ঝগড়া বা ভুল বোঝাবুঝির পর নিজের ইগো বা জেদ ধরে রাখলে সমস্যা মেটে না, বরং বাড়ে। ৩. অন্যের সঙ্গে তুলনা (Comparison): সঙ্গীকে অন্য কারো স্বামী/স্ত্রীর সাথে তুলনা করা একটি মানসিক নির্যাতন। এটি অসুস্থ প্রতিযোগিতার জন্ম দেয় এবং সঙ্গীর আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।

৪. শারীরিক দূরুত্ব ও অনীহা (Lack of Physical Intimacy): বিয়ের পর রোমান্টিকতা বা যৌন চাহিদা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না করা এবং একে অপরকে সময় না দেওয়া দূরত্ব বাড়ায়। একসঙ্গে থেকেও যদি শারীরিক ও মানসিক সান্নিধ্য না থাকে, তবে সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে ।

৫. একে অপরের প্রতি আগ্রহ হারানো ও ব্যক্তিগত সময়ের অভাব (Lack of Individual Space): একসাথে থাকতে থাকতে আকর্ষণ কমে যাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু নতুনত্ব আনার চেষ্টা না করলে সম্পর্কে একঘেয়েমি আসে। আবার, নিজের জন্য বা সঙ্গীর জন্য ব্যক্তিগত সময় না বের করতে পারলেও মানসিক চাপ বাড়ে ।

দূরত্ব দূর করার উপায়:

* খোলামেলা কথা বলুন: নিজের চাহিদা ও সমস্যা নিয়ে দ্বিধাবোধ না করে আলোচনা করুন।

* নতুনত্ব আনুন: একসাথে ঘুরতে যান বা সারপ্রাইজ দেওয়ার চেষ্টা করুন।

* বিশ্বাস বজায় রাখুন: একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, টিকে থাকার লড়াইয়ে সবচেয়ে জরুরি।

এই পরামর্শগুলো সাধারণ সম্পর্কের মনস্তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে তৈরি। বিশেষ পরিস্থিতিতে পেশাদার কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।