চাল ধোয়া জলে থাকে ইনোসিটল, অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন B, E আর মিনারেল। এটা চুলের ড্যামেজ সারায়, মুখের পোরস টাইট করে, আর গাছের জন্য NPK-র কাজ করে। ফারমেন্ট করলে পাওয়ার ১০ গুণ বেড়ে যায়। ড্রেনে না ফেলে এই ৫টা কাজে লাগান। পকেটের টাকা বাঁচবে, কেমিক্যালও বাঁচবে।

আমাদের ঠাকুমা-দিদিমারা কোনও দিন কন্ডিশনার কেনেনি, তাও চুল ছিল কোমর অবধি। গাছে ইউরিয়া দিত না, তাও লাউ-কুমড়ো ফলত দেদার। সিক্রেট একটাই—চাল ধোয়া জল। আমরা মডার্ন হতে গিয়ে এই ‘হোয়াইট গোল্ড’ নর্দমায় ঢালছি। ১ কেজি চালে প্রায় ৩ লিটার জল লাগে ধুতে। মাসে ৯০ লিটার তরল সার, হেয়ার টনিক, ফেস সিরাম ফেলে দিচ্ছেন। দাঁড়ান। আজ থেকে আর এক ফোঁটাও নষ্ট না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চাল ধোয়া জলে কী থাকে? প্রথমবার ধুলে বেরোয় চালের গুঁড়ো, ধুলো, কেমিক্যাল। ওটা ফেলে দিন। ২য় ও ৩য় বারের জলটা হল আসল জিনিস। এতে থাকে স্টার্চ, ইনোসিটল, অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন B1, B6, E, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক। ইনোসিটল চুলের কার্বোহাইড্রেট। ড্যামেজ হেয়ার রিপেয়ার করে, খুশকি তাড়ায়। স্টার্চ স্কিনের জন্য ন্যাচারাল টোনার। আর N-P-K মানে নাইট্রোজেন-ফসফরাস-পটাশিয়াম গাছের জন্য কমপ্লিট ফুড।

*১. চুলের জন্য: ৩০০ টাকার কন্ডিশনার ফেল*

চাল ধোয়া জল ১টা কাঁচের বোতলে ভরে ২৪ ঘণ্টা ঘরে রেখে দিন। হালকা টক গন্ধ বেরোলে বুঝবেন ফারমেন্ট হয়েছে। এটাই বেস্ট। pH কমে গিয়ে চুলের কিউটিকল বন্ধ করে, ফলে চুল হয় সিল্কি। শ্যাম্পুর পর এই জল স্ক্যাল্প থেকে আগা অবধি ঢালুন। ৫ মিনিট ম্যাসাজ করে নরমাল জলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন। ১ মাসে চুল পড়া ৬০% কমবে, খুশকি ভ্যানিশ। জাপানের ‘ইয়াও’ মহিলারা এভাবেই মেঝে ছোঁয়া চুল রাখে। চাইলে কমলালেবুর খোসা বা ল্যাভেন্ডার তেল ২ ফোঁটা মিশিয়ে নিন, গন্ধ ভালো হবে।

*২. মুখের জন্য: কোরিয়ান গ্লাস স্কিন ফ্রি-তে*

ফারমেন্টেড রাইস ওয়াটার তুলোয় নিয়ে মুখ মুছুন, বা স্প্রে বোতলে ভরে টোনার হিসেবে ইউজ করুন। স্টার্চ ওয়েল কন্ট্রোল করে, পোরস ছোট করে, দাগ হালকা করে। ফ্রিজে রাখলে ৭ দিন ভালো থাকে। আইস ট্রে-তে জমিয়ে রাইস ওয়াটার কিউব বানান। সকালে মুখে ঘষুন। পাফিনেস কমবে, ইন্সট্যান্ট গ্লো আসবে। সেনসিটিভ স্কিনেও সেফ। তবে প্রথমে কানের পাশে প্যাচ টেস্ট করুন।

*৩. গাছের জন্য: ফ্রি-তে NPK সার*

চাল ধোয়া জল ১:১ রেশিওতে নরমাল জল মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিন। সপ্তাহে ১ বার। স্টার্চ মাটির মাইক্রোবসকে খাবার দেয়, ফলে মাটি উর্বর হয়। পটাশিয়াম ফুল-ফল আনতে হেল্প করে। মানিপ্ল্যান্ট, জবা, গোলাপ, লঙ্কা গাছে ম্যাজিকের মতো কাজ দেয়। পাতা হলুদ হওয়া, গ্রোথ না হওয়া—২ সপ্তাহে ঠিক। তবে ক্যাকটাস বা সাকুলেন্টে দেবেন না, ফাঙ্গাস হতে পারে। টক গন্ধ হলে আরও ১ দিন রেখে ডাইলুট করে দিন।

*৪. বাসন-কোসন ও রূপোর জিনিস চকচকে করুন*

স্টার্চ ন্যাচারাল ক্লিনার। পোড়া হাঁড়ি ৩০ মিনিট চাল ধোয়া জলে ভিজিয়ে রাখুন। তেল-কালি সহজে উঠবে। রূপোর গয়না, সিঁদুর কৌটো ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে নরম কাপড়ে ঘষুন। কেমিক্যাল পলিশ লাগবে না। কালো ছোপ ভ্যানিশ।

*৫. পোষা প্রাণীর গায়ের গন্ধ তাড়ান*

কুকুর-বিড়ালকে শ্যাম্পু করার পর শেষ মগে চাল ধোয়া জল ঢেলে দিন। স্কিন অ্যালার্জি কমবে, লোম সফট হবে, ভ্যাপসা গন্ধ কাটবে। কোনও সাইড এফেক্ট নেই।

*কোন জলটা বেস্ট?*

সাদা চালের জল সব কাজে দেবে। ব্রাউন রাইস বা লাল চালের জলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আরও বেশি, স্কিনের জন্য টপ। বাসমতি ধোয়া জল সুগন্ধি, হেয়ার রিন্সে ভালো। তবে প্লাস্টিকের বোতলে ফারমেন্ট করবেন না। কাঁচের বোতল ইউজ করুন। ৩ দিনের বেশি রাখলে ফ্রিজে রাখুন, নাহলে খুব টক হয়ে চুল রুক্ষ করতে পারে।

*ভুলেও যে কাজ করবেন না*

এক, প্রথম ধোয়ার ঘোলা জল ইউজ করবেন না। ওতে ময়লা, কীটনাশক থাকে। দুই, ফারমেন্টেড জল না ধুয়ে চুলে রেখে দেবেন না। গন্ধ হবে, চুল শক্ত হবে। তিন, গাছে রোজ দেবেন না। ওভারডোজে শিকড় পচবে। সপ্তাহে ১ বারই যথেষ্ট।

আজ থেকে কিচেনকে জিরো-ওয়েস্ট বানান। ভাতের হাঁড়ি বসানোর আগে একটা বোতল রেডি রাখুন। চাল ধোয়া জল জমিয়ে নিন। এই ফ্রি-র ‘হোয়াইট গোল্ড’ দিয়ে চুল, স্কিন, গাছ—তিনটেই বাঁচান। আপনার ৫০০ টাকার সিরাম আর ২০০ টাকার সার কোম্পানি কাঁদবে, আপনি হাসবেন।

চাল ধোয়া জল সাধারণ ঘরোয়া টোটকা। স্ক্যাল্প ইনফেকশন, সিভিয়ার অ্যাকনে বা গাছের ফাঙ্গাল ডিজিজে ডাক্তার বা কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ফারমেন্টেড জলে অতিরিক্ত টক গন্ধ বা ছাতা পড়লে ব্যবহার করবেন না।