ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ডেটিং অ্যাপে আলাপ, তারপর দিনরাত মিষ্টি কথা, ভবিষ্যতের স্বপ্ন— আর তারপরই টাকা চাওয়ার গল্প! এই ফাঁদের নাম রোমান্স স্ক্যাম বা মায়ার বাঁধনে প্রতারণা। সম্প্রতি এই প্রতারণা ভয়ঙ্করভাবে বেড়েছে। কীভাবে বুঝবেন আপনি প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়েছেন?

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ডেটিং অ্যাপে আলাপ, তারপর দিনরাত মিষ্টি কথা, ভবিষ্যতের স্বপ্ন— আর তারপরই টাকা চাওয়ার গল্প! এই ফাঁদের নাম রোমান্স স্ক্যাম বা মায়ার বাঁধনে প্রতারণা। সম্প্রতি এই প্রতারণা ভয়ঙ্করভাবে বেড়েছে। কীভাবে বুঝবেন আপনি প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়েছেন? সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানালেন ৭টি লাল সঙ্কেত, যা দেখলেই সতর্ক হোন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ এক সুন্দরী বিদেশি মহিলা বা এক হ্যান্ডসাম আর্মি অফিসারের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। প্রোফাইল দেখলেই মনে হবে স্বপ্নের মানুষ। তারপরই শুরু হয়— "গুড মর্নিং", "তোমাকে ছাড়া বাঁচব না"— দিনে ১০০টা মেসেজ।

আপনি ভাবছেন, আপনি প্রেমে পড়েছেন। কিন্তু সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনি আসলে ‘লাভ বম্বিং’-এর ফাঁদে পড়েছেন।

কী এই মায়ার বাঁধনে প্রতারণা?

একে সাইবার ভাষায় বলে Romance Scam। প্রতারকরা ভুয়ো প্রোফাইল বানিয়ে আপনাকে প্রেমের জালে ফাঁসায়। একবার বিশ্বাস জিতে নিলেই শুরু হয় আসল খেলা— বিপদের গল্প, টাকা চাওয়া, গিফট পাঠানোর নামে কাস্টমস ফি, ক্রিপ্টোতে বিনিয়োগ।

কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ জানাচ্ছে, গত ৬ মাসে শুধু কলকাতাতেই এই ধরনের প্রতারণায় ৩ কোটি টাকার বেশি খোয়া গেছে।

৭টি লাল সঙ্কেত, দেখলেই ব্লক করুন—

সাইবার কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা ৭টি লক্ষণকে রেড ফ্ল্যাগ বলছেন—

১. অতিরিক্ত দ্রুত প্রেম: আলাপের ৩-৪ দিনের মধ্যেই "আই লাভ ইউ", বিয়ের প্রস্তাব, ভবিষ্যতের স্বপ্ন। স্বাভাবিক সম্পর্কে এত তাড়াতাড়ি কিছু হয় না। একে বলে Love Bombing।

২. কখনও ভিডিও কলে আসবে না: হাজার বার বললেও নানা অজুহাত— "আমি মিলিটারি ক্যাম্পে", "আমার ফোনে ক্যামেরা খারাপ", "নেটওয়ার্ক নেই"। ছবি দিলেও সেটা অন্য কারও, গুগল থেকে নেওয়া।

৩. প্রোফাইলটা টু গুড টু বি ট্রু: প্রোফাইলে হয় সে আমেরিকার ডাক্তার, ইউরোপের মডেল, বা জাহাজের ক্যাপ্টেন। বন্ধু খুব কম, পোস্ট খুব কম, কিন্তু ছবি সব প্রফেশনাল।

৪. গল্পে অসংগতি: আজ বলবে লন্ডনে থাকে, কাল বলবে দুবাইতে কাজে এসেছে। বাবা-মা নিয়ে গল্পে বারবার পরিবর্তন।

৫. টাকার গল্প শুরু: এটাই আসল ফাঁদ। "আমার মা খুব অসুস্থ", "আমার পার্সেল কাস্টমসে আটকে আছে, ৫০ হাজার দাও", "আমাকে একটা ক্রিপ্টোতে ইনভেস্ট করতে বলেছে, তুমিও করো, লাভ হবে"।

৬. অন্য প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার তাড়া: ফেসবুকে আলাপ হলেও দ্রুত আপনাকে WhatsApp বা Telegram-এ নিয়ে যেতে চাইবে, যাতে পুলিশ ট্র্যাক করতে না পারে।

৭. আপনাকে আইসোলেট করা: বলবে, "আমাদের প্রেমের কথা কাউকে বলো না, সবাই হিংসা করবে"। যাতে আপনি পরিবার বা বন্ধুদের পরামর্শ না নিতে পারেন।

সাইবার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ— কী করবেন?

- ছবি যাচাই করুন: তার দেওয়া ছবি গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চ করুন। ৯০% ক্ষেত্রে দেখবেন ছবিটি অন্য কারও। - টাকা দেবেন না: সে যতই কাঁদুক, যতই বিপদের গল্প বলুক, এক টাকাও দেবেন না। আসল প্রেমিক কখনও অনলাইনে টাকা চায় না। - ভিডিও কল বাধ্যতামূলক: বিশ্বাস করার আগে লাইভ ভিডিও কলে কথা বলুন, চোখের পলক ফেলতে বলুন। - ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না: আধার, প্যান, ব্যাঙ্ক ডিটেলস, OTP ভুলেও শেয়ার করবেন না। - প্রতারিত হলে কী করবেন: সঙ্গে সঙ্গে ১৯৩০ নম্বরে কল করুন (জাতীয় সাইবার হেল্পলাইন) এবং http://cybercrime.gov.in-এ অভিযোগ জানান। প্রথম ২ ঘণ্টা হলো গোল্ডেন আওয়ার, তখন জানালে টাকা ফেরার সম্ভাবনা বেশি।

মনে রাখবেন, অনলাইনে অচেনা মানুষের মিষ্টি কথায় ভেসে যাবেন না। মায়ার বাঁধনে জড়ানোর আগে যাচাই করুন, না হলে প্রেমের নামে ফাঁকা হয়ে যাবে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট।