ডায়েট করছেন কিন্তু বিকেল হলেই ফ্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে যান? এই অসময়ের খিদেই ওজন বাড়ার আসল কারণ। ক্যালোরি কাউন্ট করে লাভ নেই যদি ক্রেভিং কন্ট্রোল না হয়। বিহার-বাংলার ঘরোয়া সুপারফুড ছাতু পারে এই খিদে আটকাতে।

ওজন কমাতে গিয়ে বেশিরভাগ মানুষ হেরে যায় ডায়েট প্ল্যানের জন্য না, অসময়ের খিদের জন্য। সকালের ব্রেকফাস্ট ঠিক ছিল, দুপুরের লাঞ্চও কন্ট্রোলে। কিন্তু বিকেল ৪টে বাজতেই মাথা বলতে থাকে "কিছু একটা খাই"। চিপস, বিস্কুট, চা-চিনি - ২০০-৩০ ক্যালোরি এক নিমেষে ঢুকে যায়। একে বলে ইমোশনাল হাঙ্গার। পেটের খিদে না, মনের খিদে। এই খিদে আটকাতে পারলেই ওজন কমার ৫০% কাজ শেষ। আর এই কাজটাই সবচেয়ে ভালো করে ছাতু। ছোলা ভাজা গুঁড়ো করা ছাতুতে ২৫% প্রোটিন আর ১৫% ফাইবার থাকে। জলে গুললে পেটে গিয়ে জেলের মতো ফুলে যায়। ব্রেনে "স্যাটিসফাইড" সিগন্যাল পাঠায়। আবার GI কম হওয়ায় ব্লাড সুগার ধীরে ধীরে বাড়ে। ফলে ৩-৪ ঘণ্টা আর খিদে লাগে না। ওজন কমানোর সিক্রেট ওয়েপন এটাই।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ছাতু আসলে কীভাবে কাজ করে

ছাতুর কাজটা দুই দিক থেকে। প্রথমত, এটা পেট ভরায় কিন্তু ক্যালোরি দেয় কম। ৩ চামচ ছাতু মানে মাত্র ১০-১২০ ক্যালোরি, অথচ প্রোটিন পাবেন ১০ গ্রাম। দ্বিতীয়ত, এটা ব্লাড সুগার স্টেবল রাখে। পরোটা-লুচি খেলে সুগার হু হু করে বেড়ে আবার নেমে যায়। তখনই আবার খিদে পায়। ছাতু খেলে সুগার আস্তে আস্তে রক্তে মেশে। তাই ক্রেভিং আসে না। এই কারণেই পুষ্টিবিদরা ছাতুকে "গরিবের ওয়ে প্রোটিন" বলেন। দাম কম, কিন্তু কাজ প্রিমিয়াম সাপ্লিমেন্টের মতো।

ওজন কমাতে ছাতু খাওয়ার সঠিক নিয়ম

ছাতু খেলেই ওজন কমবে না, নিয়ম মেনে খেতে হবে। তিনটে বেস্ট টাইম আছে।

সকালের ব্রেকফাস্টে ছাতু

সকালবেলা পরোটা বা লুচি বাদ দিয়ে ছাতুর শরবত খান। বানানোর নিয়ম খুব সোজা। ৩ চামচ ছাতু নিন, ১ গ্লাস ঠান্ডা জলে গুলে নিন। সাথে বিট নুন, ভাজা জিরে গুঁড়ো, একটু লেবুর রস আর পুদিনা পাতা কুচি মেশান। ভালো করে ঘেঁটে নিলেই রেডি। এটা খেলে দুপুর ২টো পর্যন্ত পেট ভরা থাকবে। ক্যালোরি মাত্র ১২০। যারা মিষ্টি পছন্দ করেন তারা চিনির বদলে ১ চামচ গুড় বা খেজুর গুঁড়ো দিতে পারেন।

বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে ছাতু

বিকেলের চা-বিস্কুটের অভ্যাসটা সবচেয়ে খারাপ। তার বদলে ছাতুর ঘোল খান। ২ চামচ ছাতু ১ গ্লাস বাটার মিল্ক বা ঘোলে মিশিয়ে নিন। বিট নুন আর কাঁচা লঙ্কা কুচি দিলে টেস্ট দোকানের লস্যির মতো হবে। ক্যালোরি মাত্র ৯০। অফিসে যারা কাজ করেন তারা ড্রয়ারে ছাতুর কৌটো রাখতে পারেন। গরম জলে গুলেই ২ মিনিটে খেয়ে নেওয়া যায়। চিপসের থেকে হাজার গুণ ভালো।

ডিনারের আগে ছাতু

রাতে বেশি খাওয়ার মূল কারণ হলো সন্ধেয় পেট খালি থাকা। ডিনারের ৩০ মিনিট আগে ২ চামচ ছাতু হালকা গরম জলে গুলে খেয়ে নিন। সাথে সামান্য ঘি আর গুড় দিতে পারেন। পেটে একটা লেয়ার তৈরি হবে। ফলে রাতে ভাত-রুটি ৫০% কম খেলেও পেট ভরে যাবে। ডায়াবেটিস থাকলে গুড়-ঘি বাদ দিয়ে শুধু জল-নুন-লেবু দিয়ে খাবেন।

ওজন কমাতে ছাতু খাওয়ার সময় যা মাথায় রাখবেন 

ছাতু থেকে ফুল বেনিফিট পেতে ৩টে জিনিস মানতেই হবে। প্রথমত, জলের সাথেই খান। দুধ দিলে ক্যালোরি ডবল হয়ে যাবে। ওজন কমানোর জন্য ঠান্ডা জল বেস্ট। দ্বিতীয়ত, তাড়াহুড়ো করে গিলবেন না। ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে খান। ব্রেনে "তৃপ্তি" সিগন্যাল যেতে সময় লাগে। তাড়াহুড়ো করলে পেট ভরবে কিন্তু মন ভরবে না। তৃতীয়ত, দিনে ১ গ্লাসই যথেষ্ট। ৩-৪ গ্লাস খেলে ওজন কমবে না, বরং গ্যাস-অম্বল হবে। সকাল বা বিকেল - যে কোনো ১টা স্লট ফিক্স করে নিন।

ছাতু নিয়ে ভুল ধারণা যা আপনার ওজন বাড়াচ্ছে:

অনেকেই ছাতু খায় না কারণ ভুল ধারণা আছে। কেউ ভাবে ছাতু খেলে মোটা হয়ে যাবে। এটা পুরো ভুল। ছাতু নিজে কখনো মোটা করে না। আপনি যদি ছাতুর সাথে কলা, আম, প্রচুর চিনি মিশিয়ে ৫০ ক্যালোরির শেক বান, তখন মোটা হবেন। আবার অনেকে ভাবে ছাতু খেলে গ্যাস হয়। খালি পেটে বা গরমকালে বেশি খেলে গ্যাস হতে পারে। তাই অল্প করে শুরু করুন আর সাথে জল বেশি খান। আর সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা - ছাতু নাকি গরিবের খাবার। এটা সুপারফুড। ৫০ টাকার প্যাকেটে যা পুষ্টি আছে তা ২০০ টাকার প্রোটিন পাউডারেও নেই।

শেষ কথা:

ওজন কমানো মানে নিজেকে কষ্ট দেওয়া না। মানে বুদ্ধি করে খাওয়া। অসময়ের খিদে কন্ট্রোল করতে পারলে ওজন আপনিই কমবে। ছাতু হলো তার সবচেয়ে সস্তা আর কার্যকরী উপায়। আজ থেকেই শুরু করুন। সকালের ব্রেকফাস্ট বা বিকেলের স্ন্যাকস - এক জায়গায় ছাতু ঢুকিয়ে দিন। ১৫ দিন পর আয়নায় নিজেই ফারাক দেখবেন।

এটা জেনারেল পুষ্টি বিষয়ক তথ্য। কিডনি রোগ, ইউরিক অ্যাসিড বা গাউটের সমস্যা থাকলে ছাতু খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কারণ ছাতুতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি।