বিয়ে মানেই সিঁদুর। কিন্তু কাঠি দিয়ে না আঙুল দিয়ে? আর আঙুল দিলে কোন আঙুল? ঠাকুমারা বলতেন, ভুল আঙুলে সিঁদুর পরলে নাকি সংসারে অশান্তি হয়। শাস্ত্র, জ্যোতিষ আর সামুদ্রিক শাস্ত্রে এর স্পষ্ট নিয়ম আছে। রিং ফিঙ্গার মানে অনামিকা হল লক্ষ্মীর আঙুল।

বিয়ের দিন পুরুতমশাই মন্ত্র পড়ে স্বামীকে দিয়ে সিঁদুর পরান। তারপর? রোজ সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই পরি। কেউ কাঠি দিয়ে, কেউ কৌটো থেকে আঙুল দিয়ে। কিন্তু কখনও ভেবেছেন কোন আঙুলে সিঁদুর নিচ্ছেন? মা-ঠাকুমারা রিং ফিঙ্গার ছাড়া অন্য আঙুলে সিঁদুর পরতে দিতেন না। বলতেন ‘অলক্ষ্মী হবে’। এখনকার মেয়েরা ভাবে এসব কুসংস্কার। কিন্তু সামুদ্রিক শাস্ত্র আর জ্যোতিষ বলে, আমাদের পাঁচ আঙুল পাঁচ গ্রহের সাথে যুক্ত। ভুল আঙুলে ছোঁয়া লাগলে সেই গ্রহের এফেক্ট পড়ে জীবনে। সিঁদুর শুধু রং না, এটা এনার্জি। তাই নিয়ম মেনে পরলে পজিটিভ এনার্জি আসে, দাম্পত্য মজবুত হয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অনামিকা আঙুলই বেস্ট, কেন জানেন:

অনামিকা মানে রিং ফিঙ্গার। এই আঙুলের সংযোগ সরাসরি হৃদয়ের সাথে। তাই এনগেজমেন্ট রিংও এখানেই পরে। জ্যোতিষ মতে অনামিকার অধিপতি গ্রহ রবি বা সূর্য। সূর্য হল আত্মা, সম্মান, স্বামীর কারক গ্রহ। এই আঙুলে সিঁদুর ছুঁয়ে সিঁথিতে পরলে সূর্যের শুভ প্রভাব পড়ে। স্বামীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে, আয়ু বাড়ে, চাকরি-ব্যবসায় উন্নতি হয়। শাস্ত্র বলে অনামিকা দেবী লক্ষ্মীর আঙুল। এখান দিয়ে সিঁদুর পরলে ঘরে লক্ষ্মী বাঁধা থাকে। আর্থিক কষ্ট হয় না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, বিশ্বাস বাড়ে। তাই ৯৯% শাস্ত্র অনামিকাকেই সাপোর্ট করে।

মধ্যমা আঙুলে ভুলেও নয়, শনির কোপ:

মাঝের আঙুল মানে মধ্যমা। এর মালিক শনি গ্রহ। শনি মানেই বাধা, দেরি, অশান্তি, বিচ্ছেদ। মধ্যমা দিয়ে সিঁদুর পরলে শনির নেগেটিভ এনার্জি সরাসরি বৈবাহিক জীবনে ঢুকে পড়ে। ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি, তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ—এসব বাড়ে। প্রাচীন কালে বিধবারা নাকি মধ্যমা দিয়ে সিঁদুর মুছতেন। তাই সধবাদের জন্য এটা একদম নিষেধ। তাড়াহুড়োয় বা না জেনে অনেকেই মধ্যমা ইউজ করে ফেলেন। আজ থেকে বন্ধ করুন। যদি ভুল করে পরেও ফেলেন, সাথে সাথে অনামিকা দিয়ে আরেকবার সিঁদুর ছুঁয়ে নিন।

বুড়ো আঙুল, তর্জনী, কনিষ্ঠা—এগুলোর কী নিয়ম:

বুড়ো আঙুল হল শুক্রের আঙুল। শুক্র মানে বিলাস, আরাম। কিন্তু সিঁদুরের সাথে শুক্রের সম্পর্ক নেই। বুড়ো আঙুল দিয়ে পরলে কোনো লাভ-ক্ষতি নেই, তবে শাস্ত্রে বলা নেই। তর্জনী মানে ইনডেক্স ফিঙ্গার। এটা বৃহস্পতির আঙুল। গুরু, জ্ঞান, সন্তানের কারক। পূজায় তিলক পরতে তর্জনী ইউজ হয়। কিন্তু সিঁদুরে না। কারণ বৃহস্পতি আর স্বামীর কারক সূর্য আলাদা। কনিষ্ঠা মানে কড়ে আঙুল। এটা বুধের আঙুল। ব্যবসা, বুদ্ধির কারক। এটাও সিঁদুরের জন্য না। মোদ্দা কথা, অপশন একটাই—অনামিকা। বাকি চার আঙুল অ্যাভয়েড করুন।

শুধু আঙুল না, সিঁদুর পরার আরও ৩টে নিয়ম:

এক, সিঁদুর সবসময় নাকের সোজাসুজি মাঝ সিঁথি থেকে শুরু করে পিছন দিকে টানবেন। সামনে থেকে পিছনে। পিছন থেকে সামনে টানলে উল্টো এনার্জি আসে। দুই, কতটা পরবেন? শাস্ত্র বলে ‘লম্বা সিঁদুর’। মানে সিঁথির অন্তত ১ ইঞ্চি যেন ঢাকা থাকে। খুব সরু করে একটা লাইন পরলে হবে না। লম্বা সিঁদুর স্বামীর দীর্ঘায়ুর প্রতীক। তিন, কখন পরবেন? স্নান করে, শুদ্ধ কাপড়ে, সকালে। ভেজা চুলে, এঁটো মুখে, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সিঁদুর পরতে নেই। মঙ্গলবার, শনিবার সিঁদুর কেনা বা প্রথম পরা শুভ না। শুক্রবার লক্ষ্মীবার, সেদিন নতুন সিঁদুর শুরু করুন।

কাঠি দিয়ে পরা কি খারাপ:

অনেকে কাঠি, কয়েন, চিরুনি দিয়ে সিঁদুর পরেন। শাস্ত্রে সরাসরি মানা নেই। কিন্তু বলা হয়, আঙুলের ছোঁয়া মানে নিজের এনার্জি মেশানো। অনামিকা দিয়ে পরলে আপনার শরীরের পজিটিভ ভাইব্রেশন সিঁদুরের মাধ্যমে স্বামীর মঙ্গল করে। কাঠি হল জড় বস্তু। এনার্জি পাস হয় না। তাই বেস্ট হল অনামিকা দিয়ে পরা। বাইরে গেলে বা তাড়া থাকলে কাঠি ইউজ করতেই পারেন, দোষ নেই। কিন্তু রোজ সকালে সময় নিয়ে আঙুল দিয়ে পরুন। আরেকটা কথা, নিজের সিঁদুর কৌটো অন্য কাউকে দেবেন না, নিজেরটা অন্যের থেকে নেবেনও না। এনার্জি মিক্স হয়ে যায়।

বিশ্বাস না করলে মানতে হবে না। কিন্তু হাজার বছরের নিয়ম একদিনে তৈরি হয়নি। আঙুল পাল্টে দেখুন না ২১ দিন। যদি সংসারে শান্তি আসে, ক্ষতি কী? আর না এলেও সিঁদুর তো পরলেনই। দিনের শেষে সুখী দাম্পত্যের চাবি হল বিশ্বাস, সম্মান, আর ভালোবাসা। সিঁদুর সেটার প্রতীক মাত্র। আঙুল ঠিক রাখুন, মনটাও ঠিক রাখুন।