গরম পড়লেই বাঙালির পাতে মাস্ট টক দই। পেট ঠান্ডা রাখে, হজম করায়। কিন্তু রোজ শুধু নুন-চিনি দিয়ে দই খেতে একঘেয়ে লাগে? স্বাদ বদলাতে ট্রাই করুন বিদেশের ৫টা দইয়ের পদ। গ্রিসের সাসলিকি, তুরস্কের জাজিক, ইরানের মাস্ত-ও-খিয়ার, লেবাননের লাবনে আর ভারতের বুন্দি রায়তা টুইস্ট। 

গরমে পাতের সঙ্গী টক দই, স্বাদ বদলাতে ট্রাই করুন বিদেশের এই ৫ পদ। ৪০ ডিগ্রি গরমে পেট জ্বলছে? লাঞ্চে এক বাটি ঠান্ডা টক দই না হলে চলেই না। দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক পেট ঠান্ডা রাখে, হজমে সাহায্য করে, ইমিউনিটিও বাড়ায়। কিন্তু রোজ রায়তা আর ঘোল খেয়ে বোর? এবার দই দিয়ে বানান বিদেশি ৫টা চটপটা পদ। রেস্টুরেন্ট স্টাইল টেস্ট পাবেন, অথচ বানাতে লাগবে ঘরের জিনিস দিয়েই।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

১. গ্রিসের জাজিকি – রুটির সেরা সঙ্গী

কী এটা: শসা, রসুন, অলিভ অয়েল দেওয়া ঘন দইয়ের ডিপ। গ্রিল চিকেন, কাবাব বা পিটা ব্রেডের সাথে খায়।

বানাবেন কীভাবে: ১ কাপ জল ঝরানো টক দই নিন। গ্রেট করা শসা ½ কাপ চেপে জল ফেলে দিন। ১ কোয়া রসুন কুচি, ১ চামচ অলিভ অয়েল, একটু ডিল পাতা বা ধনেপাতা, নুন, গোলমরিচ মেশান। ৩০ মিনিট ফ্রিজে রাখুন। ঠান্ডা ঠান্ডা খান।

লাভ: রসুন অ্যান্টিবায়োটিক, শসা হাইড্রেটিং। গরমে পারফেক্ট।

২. তুরস্কের ক্যাসিক – ভাতের সাথে জমে যাবে

কী এটা: পাতলা ঘোলের মতো স্যুপ। ভাতের উপর ঢেলে খায়।

বানাবেন কীভাবে: ১ কাপ টক দইয়ে ১ কাপ ঠান্ডা জল মেশান। শসা কুচি, পুদিনা পাতা কুচি, ১ কোয়া রসুন বাটা, নুন দিন। উপরে শুকনো পুদিনা গুঁড়ো আর একটু অলিভ অয়েল ছড়ান। বরফ কুচি দিয়ে খান।

লাভ: শরীরে জলের ঘাটতি মেটায়। হিট স্ট্রোক আটকায়।

৩. ইরানের মাস্ত-ও-খিয়ার – ড্রাই ফ্রুটের টুইস্ট

কী এটা: মাস্ত মানে দই, খিয়ার মানে শসা। কিন্তু ইরানিরা এতে কিশমিশ, আখরোট দেয়।

বানাবেন কীভাবে: ঘন দই ১ কাপ, শসা কুচি ½ কাপ, কিশমিশ ১ চামচ, আখরোট কুচি ১ চামচ, পুদিনা শুকনো ½ চামচ, নুন, গোলমরিচ মেশান। ১ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখলে কিশমিশ ফুলে মিষ্টি ভাব আসবে।

লাভ: ড্রাই ফ্রুট ইনস্ট্যান্ট এনার্জি দেয়। টক-মিষ্টি-নোনতা কম্বো মুখের স্বাদ ফেরায়।

৪. লেবাননের লাবনে বল – দইয়ের সন্দেশ

কী এটা: জল ঝরিয়ে দইটাকে চিজের মতো বানানো হয়। বল করে তেলের মধ্যে রাখে।

বানাবেন কীভাবে: ২ কাপ দই একটা পাতলা কাপড়ে বেঁধে ১২ ঘণ্টা ঝুলিয়ে জল ঝরান। ক্রিম চিজের মতো ঘন হলে নুন, জিরে গুঁড়ো মেশান। ছোট বল বানিয়ে অলিভ অয়েলে ডুবিয়ে রাখুন। উপরে জাটার মশলা বা চিলি ফ্লেক্স ছড়ান। ক্র্যাকার বা পাউরুটির সাথে খান।

লাভ: প্রোটিন হাই, কার্ব লো। বিকেলের স্ন্যাক্স হিসেবে দারুণ। ১ সপ্তাহ ফ্রিজে রাখা যায়।

৫. ভূমধ্যসাগরীয় বিট ইয়োগার্ট – রঙেই মন ভালো

কী এটা: সেদ্ধ বিট দিয়ে বানানো গোলাপি রঙের দই। দেখতেই সুন্দর।

বানাবেন কীভাবে: ১টা ছোট বিট সেদ্ধ করে গ্রেট করুন। ১ কাপ ঘন দই, ১ কোয়া রসুন, ১ চামচ লেবুর রস, নুন, জিরে গুঁড়ো দিয়ে ব্লেন্ড করুন। উপরে আখরোট আর ধনেপাতা দিন।

লাভ: বিট ব্লাড প্রেশার কমায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। বাচ্চারাও রং দেখে খেয়ে নেবে।

টক দই খাওয়ার ৩ টিপস:

১. খালি পেটে না: সকালে খালি পেটে দই খেলে অ্যাসিড হতে পারে। ভরা পেটে বা ভাতের সাথে খান।

২. গরম করবেন না: দই গরম করলে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। সব গুণ নষ্ট।

৩. রাতে কম: আয়ুর্বেদ মতে রাতে দই কফ বাড়ায়। সর্দি-কাশি থাকলে রাতে এড়িয়ে চলুন।

এই গরমে ফ্রিজে সবসময় এক বাটি দই রাখুন। ১০ মিনিটে বানিয়ে ফেলুন এই বিদেশি পদগুলো। পেটও ঠান্ডা, মনও খুশ।

ডাক্তারি পরামর্শ: ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুধে অ্যালার্জি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দই খান।