পাট শাক খেতে তিতা লাগে বলে অনেকেই খেতে চায় না। কিন্তু চিংড়ি আর বাদাম দিয়ে একবার এই স্টাইলে বানিয়ে দেখুন, তিতা ভাব একদম থাকবে না। গরম ভাতের সাথে এই পাট শাক চেটেপুটে খাবে সবাই। রান্না একদম সহজ, সময়ও লাগে কম। 

গরমকাল মানেই বাজারে থরে থরে পাট শাক। সস্তা, সহজলভ্য আর শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার – সব আছে এই শাকে। ডাক্তাররাও বলেন, গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে পাট শাক খাও। কিন্তু সমস্যা একটাই – খেতে গেলেই তিতা তিতা লাগে আর একটু আঠা আঠা ভাব। তাই বাচ্চা থেকে বড়, অনেকেই প্লেট থেকে পাট শাক সাইড করে দেয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কিন্তু জানেন কি, সামান্য ট্রিক জানলে পাট শাকই হয়ে উঠতে পারে থালার সেরা আইটেম? চিংড়ি আর ভাজা বাদাম দিয়ে রাঁধলে তিতা ভাব একদম উধাও। বদলে আসবে দারুণ একটা মিষ্টি-নোনতা স্বাদ। গরম ভাতের সাথে এই পাট শাক থাকলে আর মাছ-মাংস লাগবে না। আজ শিখে নিন একদম ঘরোয়া বাঙালি স্টাইলে চিংড়ি-বাদাম পাট শাক ভাজি। রান্না করতে সময় লাগবে মাত্র ২৫ মিনিট।

পাট শাক শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। আয়রন আছে, হজম ভালো হয়, গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখে। কিন্তু সমস্যা একটাই – তিতা তিতা ভাব আর একটু আঠা আঠা। তাই অনেকেরই মুখে রোচে না। বাজারে গেলেও মা-ঠাকুমারা পাট শাক দেখলে মুখ বেঁকায়।

চিন্তা নেই। চিংড়ি আর বাদাম দিলে পাট শাকের তিতা ভাব কেটে যায় একদম। সাথে একটু রসুন-কাঁচালঙ্কার ফোড়ন। গরম ভাতে এই শাক দিয়ে খেলে প্লেট ফাঁকা হয়ে যাবে। চলুন শিখে নিই একদম বাঙালি স্টাইলে চিংড়ি-বাদাম পাট শাক রেসিপি।

পাট শাকের তিতা ভাব কাটাবেন কীভাবে? ৩টি টিপস

রান্নার আগেই এই ৩টি কাজ করলে পাট শাক আর তিতা লাগবে না।

১. ভালো করে ধুয়ে নিন: পাট শাক কুচি করে কেটে নুন জলে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ২-৩ বার জল পাল্টে ধুয়ে নিন। তিতা ভাব অনেকটা চলে যাবে।

২. সেদ্ধ করবেন না বেশি: পাট শাক বেশি সেদ্ধ করলেই আঠা ছাড়ে আর তিতা বাড়ে। হাই ফ্লেমে দ্রুত ভাজুন।

৩. চিংড়ি-বাদাম দিয়ে ব্যালেন্স: চিংড়ির মিষ্টি স্বাদ আর বাদামের নাটি ফ্লেভার পাট শাকের তিতা ব্যালেন্স করে দেয়। তাই এই কম্বিনেশন একদম পারফেক্ট।

চিংড়ি-বাদাম পাট শাক বানোর উপকরণ:

ঘরে থাকা জিনিস দিয়েই হয়ে যাবে। বাড়তি কিছু লাগবে না।

প্রধান উপকরণ: পাট শাক কুচি ২ আঁটি, মাঝারি চিংড়ি ২০০ গ্রাম, চিনা বাদাম ভাজা ৩ টেবিল চামচ

ফোড়নের জন্য: রসুন কুচি ১ টেবিল চামচ, কাঁচালঙ্কা চেরা ৩-৪ টে, শুকনো লঙ্কা ১ টা, কালোজিরে ১/২ চা চামচ

অন্যান্য: নুন স্বাদমতো, হলুদ ১/২ চা চামচ, সরষের তেল ৩ টেবিল চামচ

এভাবে বানালে সবাই চেটেপুটে খাবে - ধাপে ধাপে রেসিপি:

সময় লাগবে মাত্র ১৫ মিনিট।

ধাপ ১ - চিংড়ি ভেজে নিন: চিংড়ি খোসা ছাড়িয়ে নুন-হলুদ মাখিয়ে রাখুন। কড়াইতে তেল গরম করে চিংড়ি হালকা লাল করে ভেজে তুলে নিন। বেশি ভাজবেন না, শক্ত হয়ে যাবে।

ধাপ ২ - বাদাম গুঁড়ো করুন: ভাজা চিনা বাদাম হামানদিস্তা বা মিক্সিতে হালকা গুঁড়ো করে নিন। একদম মিহি করবেন না, দানা দানা থাকবে।

ধাপ ৩ - ফোড়ন দিন: ওই তেলেই কালোজিরে, শুকনো লঙ্কা, রসুন কুচি দিয়ে ভাজুন। রসুনের গন্ধ বেরোলে কাঁচালঙ্কা চেরা দিন।

ধাপ ৪ - পাট শাক ভাজুন: এবার পাট শাক কুচি দিয়ে দিন। নুন-হলুদ দিয়ে হাই ফ্লেমে নাড়তে থাকুন। ৪-৫ মিনিটেই শাক নেতিয়ে যাবে। বেশি নড়াচড়া করবেন না।

ধাপ ৫ - ফিনিশিং টাচ: শাক সেদ্ধ হয়ে গেলে ভাজা চিংড়ি আর বাদাম গুঁড়ো দিয়ে দিন। ১ মিনিট নেড়ে নামিয়ে নিন। ওপর থেকে একটু কাঁচা সরষের তেল ছড়িয়ে দিলে গন্ধ দারুণ হবে।

পাট শাক খাওয়ার ৩টি বাড়তি টিপস

১. গরম ভাতের সাথে: ধোঁয়া ওঠা ভাত আর পাট শাক – আর কিছু লাগবে না।

২. পেঁয়াজ বাটা দিন: ফোড়নের সময় একটু পেঁয়াজ বাটা দিলে স্বাদ আরও বাড়বে।

৩. তিতা সহ্য না হলে: নামানোর আগে ১/২ চা চামচ চিনি দিয়ে দিন। তিতা কেটে যাবে।

শেষ কথা

পাট শাক অবহেলার জিনিস না। ঠিক মতো রান্না করতে জানলে এটা হয়ে উঠতে পারে থালার স্টার আইটেম। চিংড়ি-বাদাম দিলে বাচ্চারাও আঙুল চেটে খাবে। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে আর আয়রনের ঘাটতি মেটাতে সপ্তাহে ২ দিন পাট শাক রাখুন মেনুতে।