গরমে বাইরের আইসক্রিম মানেই চিনি, ক্রিম আর ক্যালোরির বোমা। অথচ ঘরের টক দই দিয়েই বানিয়ে ফেলুন 3-4 রকমের আইসক্রিম। চিনির বদলে খেজুর, মধু বা আম-কলা। দইয়ের প্রোবায়োটিক পেট ঠান্ডা রাখবে, হজম ভালো করবে।

গরম পড়লেই মনটা আইসক্রিম আইসক্রিম করে। কিন্তু দোকানের আইসক্রিম মানেই এক কাপে ৪-৫ চামচ চিনি আর ফুল ফ্যাট ক্রিম। রোজ খেলে পেট গরম, ওজন বাড়া, সুগার হাই।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সলিউশন? ফ্রিজের টক দই। হ্যাঁ, ওটা দিয়েই হবে রেস্টুরেন্ট স্টাইল ফ্রোজেন ইয়োগার্ট বা কুলফি। ১০০% হেলদি, ০% চিনি।

বেস রেসিপি, এটা মাস্ট: লাগবে: ১. ঘন টক দই - ২ কাপ, জল ঝরানো ২. খেজুর - ৮-১০টা, বীজ ফেলে ১৫ মিনিট গরম জলে ভেজানো ৩. মধু - ২ চামচ, অপশনাল

পদ্ধতি: দই একটা পাতলা কাপড়ে বেঁধে ২ ঘণ্টা ঝুলিয়ে জল ঝরান। একে বলে ‘হাঙ্গ কার্ড’। জল ঝরে গেলে দই ক্রিম চিজের মতো থকথকে হবে। এবার ভেজানো খেজুর আর হাঙ্গ কার্ড মিক্সিতে স্মুদ পেস্ট বানান। ব্যস, আপনার বেস রেডি। এতে একফোঁটা চিনি নেই, মিষ্টি আসবে খেজুর থেকে।

এবার এই বেস দিয়ে বানান ৪টে ফ্লেভার:

১. ম্যাঙ্গো লস্যি আইসক্রিম: বেসের সাথে ১কাপ পাকা হিমসাগর আমের পাল্প আর ১/৪ চা চামচ এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। কুলফি মোল্ডে বা ছোট স্টিলের গ্লাসে ঢেলে কাঠি গুঁজে ৬-৭ ঘণ্টা ফ্রিজ করুন। গরমে পেট ঠান্ডা, বাচ্চা পারলে দিনে ৩টে খাবে।

২. রোস্টেড আলমন্ড-খেজুর কুলফি: বেসের সাথে ২ চামচ রোস্টেড আলমন্ড কুচি, ১চামচ কোকো পাউডার, ১/২ চামচ ভ্যানিলা এসেন্স মেশান। উপরে পেস্তা কুচি ছড়িয়ে জমিয়ে নিন। চকোলেট ক্রেভিং মিটবে, সুগার ক্র্যাশ হবে না।

৩. তরমুজ-পুদিনা ফ্রোজেন ইয়োগার্ট: ১ কাপ বীজ ছাড়ানো তরমুজের টুকরো, ৮-১০ টা পুদিনা পাতা বেসের সাথে ব্লেন্ড করুন। এক চিমটে বিটনুন দিন। ছোট বাটিতে ঢেলে জমাতে দিন। ৯৫% জল আছে তরমুজে। ডিহাইড্রেশন হবে না গ্যারান্টি।

৪. ভরপেট বানানা-পিনাট বাটার বাইটস: বেসের সাথে ১টা পাকা কলা আর ১চামচ সুগার-ফ্রি পিনাট বাটার ব্লেন্ড করুন। সিলিকন আইস ট্রে-তে ঢেলে জমিয়ে নিন। বিকেলের খিদে পেলে ২-৩ টে বাইট খান। প্রোটিন + প্রোবায়োটিক, জিম যারা করেন তাদের জন্য বেস্ট।

ডাক্তার কেন দই-আইসক্রিম বলছেন? ১. প্রোবায়োটিক: টক দইয়ের গুড ব্যাকটেরিয়া গরমে হজম ঠিক রাখে, লুজ মোশন-অ্যাসিডিটি কমায়। ২. ক্যালসিয়াম: হাড় শক্ত করে। বাচ্চাদের হাইট গ্রোথে হেল্প করে। ৩. লো GI: খেজুর বা ফলের মিষ্টি ধীরে সুগার বাড়ায়। ডায়াবেটিকরাও ১টা ছোট কুলফি খেতে পারেন, ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে। ৪. ওয়েট লস: ১ কাপ দই-আইসক্রিমে ১২০ ক্যালোরি। দোকানের ক্রিম আইসক্রিমে ৩০০+।

৩টে প্রো টিপস: ১. দই জল ঝরাবেনই: জল থাকলে আইসক্রিমে বরফের কুচি হবে, স্মুদ হবে না। ২. ২ ঘণ্টা পর নাড়ুন: জমতে দেওয়ার ২ ঘণ্টা পর একবার কাঁটা চামচ দিয়ে ঘেঁটে দিন। তাহলে ক্রিমি হবে, আইস ক্রিস্টাল হবে না। ৩. কলা বা আম মেশালে: বেশি দিন রাখবেন না। ৩-৪ দিনের মধ্যে খেয়ে নিন। প্লেন খেজুর বেস ১সপ্তাহ রাখা যায়।

কে খাবেন না? ঠান্ডা লাগা, কাশি, টনসিল থাকলে এখন অ্যাভয়েড করুন। আর ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে নারকেল দই বা সয়া দই দিয়ে ট্রাই করুন।

বাইরের ৫০ টাকার চিনির বোমা না কিনে ঘরেই বানান। পেটও ঠান্ডা, শরীরও সুস্থ।