দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ পুরুষদের টেস্টোস্টেরন কমিয়ে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান নষ্ট করছে। কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক স্ট্রেস, অনিদ্রা, ধূমপান বাড়াচ্ছে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি। চিকিৎসকরা স্ট্রেস কমানো, নিয়মিত ঘুম, মেডিটেশন, পুষ্টিকর খাবার ও কাউন্সেলিংয়ের পরামর্শ দিচ্ছেন।
সন্তানধারণের স্বপ্নে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে স্ট্রেস। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, পুরুষ বন্ধ্যাত্বের নেপথ্যে এখন মূল কারণ মানসিক চাপ। অফিসের ডেডলাইন, টার্গেটের চাপ, পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক দুশ্চিন্তা নীরবে ক্ষতি করছে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার।
গবেষণা বলছে, টানা স্ট্রেসে থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এই কর্টিসল সরাসরি টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে বাধা দেয়। ফলে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে, গতিশীলতা নষ্ট হয় এবং DNA ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। স্ট্রেসের কারণে অনিদ্রা, অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস তৈরি হয়। এই তিনটিই স্পার্ম কাউন্টের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
কলকাতার বিশিষ্ট ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ডাঃ অমিত রায় জানান, গত ৫ বছরে তাঁর ক্লিনিকে পুরুষ বন্ধ্যাত্বের কেস প্রায় ৪০% বেড়েছে। প্রতি ১০ জন রোগীর মধ্যে ৬ জনের সমস্যার মূলেই রয়েছে ক্রনিক স্ট্রেস। দুঃখের বিষয়, বেশিরভাগ পুরুষ বুঝতেই পারেন না যে দৈনন্দিন টেনশন তাঁদের বাবা হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দিচ্ছে। বয়স ৩০ পেরোলেই ঝুঁকি আরও বাড়ে।
তাহলে সমাধান কী? চিকিৎসকদের পরামর্শ, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে অন্তত ৩ মাস আগে থেকে স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট শুরু করুন। প্রতিদিন ৩০ মিনিট জোরে হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। রাত ১১টার মধ্যে ঘুমাতে যান এবং ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। ফোন ও ল্যাপটপের স্ক্রিন টাইম রাত 9টার পর কমান। মেডিটেশন বা ডিপ ব্রিদিং প্র্যাকটিস করুন ১০ মিনিট।
খাবারের দিকেও নজর দিন। ডায়েটে রাখুন কাঠবাদাম, আখরোট, ডিম, সামুদ্রিক মাছ, পালং শাক, ব্রকোলি। ভিটামিন C ও জিঙ্ক যুক্ত ফল যেমন কমলালেবু, পেয়ারা খান। ধূমপান ও অ্যালকোহল সম্পূর্ণভাবে বর্জন করুন। ক্যাফেইনও দিনে ২ কাপের বেশি নয়।
সবচেয়ে জরুরি হলো পার্টনারের সঙ্গে কথা বলা। সমস্যা চেপে রাখলে স্ট্রেস আরও বাড়ে। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না। মনে রাখবেন, মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে শারীরিক স্বাস্থ্যও ভেঙে পড়বে।
তাই বাবা হওয়ার আগে নিজের মনের যত্ন নিন। স্ট্রেসকে জীবন থেকে সরান। সুস্থ শরীর ও সুস্থ মনই দিতে পারে সুস্থ ভবিষ্যৎ।


