বর্ষার গরমে হিউমিডিটি ৮০-৯০% থাকে। ঘাম বাষ্প হয় না, তাই শরীর ঠান্ডা হয় না, কিন্তু জল আর সল্ট ঠিকই বেরোয়। ]স্কিনে ফাঙ্গাল ইনফেকশন, ঘামাচি, ব্রণ বাড়ে। সাবান দিয়ে বারবার মুখ ধোবে না। সুতির ঢিলা জামা, খোলা জুতো মাস্ট। বাইরে থেকে এসে ফ্যানের তলায় বসো, এসিতে নয়।

জুন মাস, কখনও আকাশে মেঘ আবার কখনও বৃষ্টি। তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি। কিন্তু ফিল লাইক ৪৫। কারণ হিউমিডিটি ৮৮%। এই হল বর্ষার গরমের হিসাব। গা চ্যাটচ্যাট করে, মাথা ধরে, খিদে মরে যায়। আবার জলও খেতে ইচ্ছে করে না। ফল? ইউরিন হলুদ, মাথা ঘোরা, স্কিনে র‍্যাশ। ডাক্তাররা একে বলছেন “ওয়েট হিট স্ট্রেস”।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নিউট্রিশনিস্টদের প্রথম কথা - জল খাও, কিন্তু শুধু জল না। ঘামের সাথে সোডিয়াম, পটাশিয়াম বেরিয়ে যায়। শুধু জল খেলে সোডিয়াম আরও ডাইলিউট হয়ে হাইপোনাট্রেমিয়া হতে পারে। মাথা ঘোরা, বমি, খিঁচুনি। তাই ‘৩-৩-৩’ রুল। দিনে ৩ লিটার জল। তার সাথে ৩ বার ইলেকট্রোলাইট - ডাবের জল, ORS, নুন-চিনি-লেবুর সরবত, পাতলা ঘোল, বাটারমিল্ক। আর ৩ রকম জলীয় ফল - তরমুজ, শসা, পেঁপে, ন্যাশপাতি। চা-কফি কমাও, ওগুলো ডাইইউরেটিক, জল বের করে দেয়। অ্যালকোহল বর্ষায় অ্যাভয়েড করো, ডিহাইড্রেশন ডাবল করে। বাইরে বেরোলে স্টিলের বোতলে জল নাও, প্লাস্টিকে না। প্লাস্টিকের বোতল গরমে BPA ছাড়ে।

খাবার কী হবে? তেল-মশলা কম। খিচুড়ি, পাতলা মাছের ঝোল, লাউ-পেঁপের তরকারি, টক দই। ভাজাভুজি, রাস্তার কাটা ফল, ফুচকা - বর্ষায় পেট খারাপের রাজা। গরম লাগছে বলে কোল্ড ড্রিঙ্কস, আইসক্রিম বেশি খেও না। সুগার স্পাইক করে, আরও তেষ্টা পায়। তার বদলে পুদিনা-লেবুর জল, জিরা জল, আমপোড়ার সরবত খাও। রাতে ভারী খাবার না। ঘুমের আগে এক গ্লাস জল মাস্ট, কারণ ঘুমের মধ্যে ৫০০ml জল ব্রিদিং আর ঘামে বেরোয়।

এবার আসি স্কিনে। বর্ষার গরমে স্কিনের তিন শত্রু - ফাঙ্গাস, ব্যাকটেরিয়া, ঘাম। ভেজা জামা, ভেজা জুতো, ভাঁজে ঘাম জমে র‍্যাশ, দাদ, ঘামাচি হয়। ডার্মাটোলজিস্টদের রুটিন সোজা। দিনে দুবার মুখ ধোও - সকালে আর বাইরে থেকে ফিরে। সাবান না, pH ব্যালেন্সড জেল-বেসড ফেসওয়াশ। মুখ মুছবে প্যাট করে, ঘষবে না। টোনার হিসেবে গোলাপ জল বা গ্রিন টি ওয়াটার স্প্রে করো। ময়েশ্চারাইজার স্কিপ করবে না। ভাবছো ঘাম হচ্ছে, তাও ময়েশ্চারাইজার? হ্যাঁ। স্কিন ডিহাইড্রেটেড হলে আরও অয়েল ছাড়ে। ওয়াটার-বেসড, জেল-বেসড, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার লাগাও। সানস্ক্রিন মাস্ট, মেঘলা দিনেও। UV-A মেঘ ফুঁড়ে ঢোকে। পাউডার-বেসড বা ম্যাট ফিনিশ SPF ৩০ সানস্ক্রিন ইউজ করো, নাহলে চ্যাটচ্যাট করবে।

শরীরের বাকি অংশ কি করবেন? স্নানের জলে নিম পাতা ফোটানো জল বা ২ চামচ ডেটল দাও। অ্যান্টি-ফাঙ্গাল। শরীরের ভাঁজে - গলা, পায়ের আঙুলের ফাঁকে - অ্যান্টি-ফাঙ্গাল পাউডার লাগাও। ভেজা জামা সাথে সাথে চেঞ্জ। সুতির ঢিলা জামা পরো। সিন্থেটিক, টাইট জিন্স বর্ষায় শত্রু। পায়ে খোলা স্যান্ডেল বা ক্রক্স। মোজা পরলে সুতির, রোজ চেঞ্জ। জুতো ভিজলে খবরের কাগজ ঠেসে শুকাও, রোদে দাও। মেয়েরা মেকআপ মিনিমাল রাখো। হেভি ফাউন্ডেশন পোর ব্লক করে। তার বদলে টিন্টেড সানস্ক্রিন বা BB ক্রিম। রাতে ভালো করে ডাবল ক্লিনজিং - মিসেলার ওয়াটার দিয়ে মুছে, তারপর ফেসওয়াশ।

ঘামাচি হলে কী করবে? বরফ ঘষবে না। ক্যালামাইন লোশন, নিম-চন্দন প্যাক লাগাও। চুলকালে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ক্রিম ডাক্তার দেখিয়ে লাগাও। নিজে নিজে স্টেরয়েড ক্রিম লাগিও না, স্কিন পাতলা হয়ে যাবে। চুলের জন্য সপ্তাহে ২-৩ বার শ্যাম্পু। কন্ডিশনার শুধু ডগায়। ভেজা চুল বাঁধবে না, ফাঙ্গাস হবে।

ঘরের টিপস। এসি ২৬-২৭ ডিগ্রিতে চালাও, সাথে সিলিং ফ্যান স্লো। এতে হিউমিডিটি কাটে, বিলও কম। ডিহিউমিডি ফায়ার থাকলে বেডরুমে চালাও। না থাকলে ঘরে এক বাটি লবণ বা কাঠকয়লা রাখো, ময়েশ্চার টানে। জানালা দুপুরে বন্ধ, সকাল-সন্ধ্যা খোলা। ভেজা জামা ঘরে শুকিও না।

লাস্ট কথা - বর্ষার গরমে “লেস ইজ মোর”। কম খাও, হালকা খাও। কম মাখো, ঠিকঠাক মাখো। কম পরো, সুতি পরো। আর জল খাও মেপে, শুধু তেষ্টা পেলে না। ইউরিনের রং দেখো। হালকা হলুদ ঠিক আছে। গাঢ় হলুদ মানে ডিহাইড্রেটেড।