জিমে দৌড় নয়, পার্কে হনহন করে হাঁটা নয়। এখন ট্রেন্ড হল "ধ্যানমগ্ন হাঁটা"। চিন থেকে আসা তাই চি ওয়াকিং এখন দিল্লি-মুম্বাই থেকে কলকাতা পর্যন্ত ভাইরাল। দিনে মাত্র ১৫ মিনিট ধীরে, ছন্দে, শ্বাসের সাথে হাঁটলেই কমবে স্ট্রেস, হাঁটুর ব্যথা আর ঘুমের সমস্যা। 

আপনার স্মার্টওয়াচ বলছে "১০ হাজার স্টেপ কমপ্লিট করুন"। তাই আপনি জোরে হাঁটছেন, ঘামছেন, হাঁপাচ্ছেন। কিন্তু বিকেলে আবার স্ট্রেস, আবার মাথা ব্যথা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চিনা যোগীরা ২০০ বছর আগে একটা কথা বলেছিল: "হাঁটা মানেই দৌড়ানো না, হাঁটা মানে নিজের সাথে দেখা করা"। সেই থিওরি থেকেই জন্ম তাই চি ওয়াকিং।

তাই চি ওয়াকিং আসলে কী? নাম শুনে কুং-ফু ভাববেন না। এটা একদম স্লো মোশন ওয়াকিং। প্রতি পা ফেলবেন ২ সেকেন্ড ধরে। পায়ের গোড়ালি মাটিতে ছোঁয়াবে, তারপর আস্তে আস্তে পাতা। সাথে লম্বা শ্বাস-প্রশ্বাস। মন থাকবে শুধু পায়ের নড়াচড়ায়। মোবাইল নয়, গান নয়, কথা নয়।

হনহন করে হাঁটলে হার্টবিট বাড়ে। কিন্তু ধ্যানমগ্ন হাঁটলে "প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভ" অ্যাক্টিভ হয়। মানে বডি রিল্যাক্স মোডে চলে যায়।

দিনে ১৫ মিনিট তাই চি ওয়াকিং-এর ৫টি লাভ:

১. স্ট্রেস-অ্যাংজাইটি ৪০% কমে: হার্ভার্ডের রিসার্চ বলছে, স্লো মাইন্ডফুল ওয়াকিং করলে কর্টিসল হরমোন কমে। মানে টেনশন হরমোন। অফিসের টেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরে ১৫ মিনিট হাঁটুন, দেখবেন মাথা ঠান্ডা।

২. হাঁটু-কোমরের ব্যথা কমে: জোরে হাঁটলে হাঁটুতে ঝাঁকি লাগে। তাই চি ওয়াকিং-এ পা আস্তে পড়ে। তাই কার্টিলেজের ক্ষতি কম হয়। বয়স্কদের জন্য এটা বেস্ট ব্যায়াম।

৩. ব্যালেন্স আর ঘুম ভালো হয়: পা ফেলার দিকে মন দিলে ব্রেন-পায়ের কানেকশন বাড়ে। ফলে বয়স ৬০ হলেও টাল খাবেন না। রাতে ঘুমও গভীর হবে।

৪. সুগার-প্রেশার কন্ট্রোলে থাকে: জোরে দৌড়ালে প্রেশার স্পাইক করে। কিন্তু ধীর হাঁটায় ব্লাড সার্কুলেশন স্টেডি থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সেফ।

৫. ফ্যাট কমে, কিন্তু ক্লান্তি আসে না: জোরে হাঁটলে ৩০ মিনিট পরেই ক্লান্ত। কিন্তু স্লো ওয়াকিং ১ ঘন্টা করলেও এনার্জি থাকে। কারণ মাসল টিয়ার হয় না, ফ্যাট বার্ন হয়।

৪ স্টেপে করুন তাই চি ওয়াকিং

স্টেপ ১: পোশাক: টাইট জিন্স না। ঢিলা পাজামা বা ট্র্যাক প্যান্ট। খালি পায়ে ঘাসের উপর করলে বেস্ট।

স্টেপ ২: পোশ্চার: মেরুদণ্ড সোজা, কাঁধ ঢিলা, চোখ সামনে ৩ মিটার দূরে। হাত দুটো পাশে ঢিলা করে ঝুলবে। মুঠো করবেন না।

স্টেপ ৩: পা ফেলা: ডান পা তুলুন। গোড়ালি প্রথমে মাটিতে রাখুন। তারপর আস্তে করে পুরো পা। ২ সেকেন্ড ওয়েট করুন। তারপর বাঁ পা। যেন আপনি কাদার উপর হাঁটছেন, শব্দ না হয়।

স্টেপ ৪: শ্বাস: নাক দিয়ে ৪ সেকেন্ড শ্বাস নিন, পা ফেলুন। মুখ দিয়ে ৬ সেকেন্ডে ছাড়ুন, পরের পা ফেলুন। মন যদি এদিক সেদিক যায়, আবার পায়ে ফিরিয়ে আনুন।

কারা করবেন না? তীব্র হাঁটু ব্যথা, ভার্টিগো, বা সাম্প্রতিক পা ভাঙা থাকলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে নিন। গর্ভাবস্থায় স্লো করতে পারেন, কিন্তু ভারসাম্য রাখবেন।

কখন করবেন? সকাল ৭টা বা বিকেল ৫টা বেস্ট। পিচ রাস্তা না, পার্ক বা ছাদে করুন। রাস্তার ধুলো আর হর্নে মেডিটেশন ভাঙবে।

শেষ কথা ফিটনেস মানেই ঘাম ঝরানো না। মাঝে মাঝে ধীর হয়ে যান। নিজের শ্বাস শুন, পায়ের শব্দ শুন।

আজই ১৫ মিনিট "তাই চি ওয়াকিং" করে দেখুন। কাল সকালে উঠে বলবেন, "আরে, ঘুমটা ভালো হয়েছে"।