ধন্যবাদ জ্ঞাপন হোক মন থেকে। ধন্যবাদ শুধু বলার জন্য নয় তা কৃতজ্ঞতার ভাষা, বড় হওয়ার সময়েই তা বোঝাতে পারেন সন্তানকে।

খুদেকে যান্ত্রিকভাবে ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ বলা নয়, বরং প্রকৃত অর্থে কৃতজ্ঞতা (Gratitude) শেখাতে প্রয়োজন তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে অনুভবের জায়গা তৈরি করা। রোজকার জীবনে ছোট ছোট বিষয়ে আনন্দ খুঁজে পাওয়া, অন্যের সাহায্যের মূল্য বোঝা এবং নিজের সম্পদ ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতা তৈরিতে মা-বাবাকেই ভূমিকা রাখতে হবে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী সুখী ও ইতিবাচক করে তুলবে।

খুদেকে প্রকৃত কৃতজ্ঞ হতে শেখানোর উপায়:

* কৃতজ্ঞতার অভ্যাস তৈরি (Gratitude Journaling): প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সন্তানকে জিজ্ঞাসা করুন, সারা দিনের মধ্যে তার সাথে ভালো কী ঘটেছে? বা সে আজ কোন বিষয়টির জন্য সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছে ?

* সাহায্য করার মূল্য বোঝানো: শুধু মুখে ধন্যবাদ না বলে, অন্য কেউ সাহায্য করলে তাকে পাল্টা সাহায্য করার শিক্ষা দিন (যেমন, কোনো বন্ধু পেনসিল ধার দিলে, পরের দিন তাকে টিফিন ভাগ করে নেওয়া)।

* নিজের যা আছে তাতেই আনন্দ: অন্যের খেলার জিনিস বা জীবনযাত্রা দেখে ঈর্ষান্বিত না হয়ে, নিজের খেলনা বা সাধারণ জীবনের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পেতে সাহায্য করুন।

* সহানুভূতি (Empathy) শেখানো: অন্যরা যে কষ্ট করে তাদের জন্য কিছু করছে, তা বোঝান। যেমন, মা যখন খাবার তৈরি করেন, তখন খাবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো।

* নিজে উদাহরণ হোন: আপনি যখন ছোটখাটো বিষয়ে (যেমন, বাড়ির কাজের লোক বা ড্রাইভার) আন্তরিক ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা দেখাবেন, শিশু তা দেখে শিখবে।

* উপহারের চেয়ে অভিজ্ঞতার মূল্য: কোনো কিছু পেলেই তা দেওয়া নয়, বরং জিনিসটি অর্জনের জন্য অপেক্ষা করতে শেখান। এতে পাওয়ার আনন্দ ও মূল্য বাড়ে।

এই চর্চাগুলো শিশুকে কেবল ভদ্র নয়, বরং মানসিক ও সামাজিকভাবে উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।