West Bengal Tourism: দার্জিলিং থেকে মাত্র তিন ঘণ্টার দূরত্বে ভারত-নেপাল সীমান্তে লুকিয়ে আছে ধোত্রে নামের এক ছোট্ট গ্রাম। কাঞ্চনজঙ্ঘার ১৮০ ডিগ্রি ভিউ, পাইনের জঙ্গল, রডোডেনড্রন আর মেঘের খেলা নিয়ে এই গ্রাম সত্যিই স্বর্গ। সান্দাকফু ট্রেকের বেসক্যাম্প ধোত্রেতে নেই শহুরে ভিড়, আছে শুধু নিস্তব্ধ শান্তি। কম খরচে দুদিনের ছুটিতে ঘুরে আসার জন্য আদর্শ জায়গা।

Travel-Tourism: দার্জিলিং (Darjeeling), গ্যাংটক (Gangtok), মিরিক (Mirik) তো অনেকবার ঘোরা হল। এবার ভিড় এড়িয়ে পাহাড়ের কোলে নিরিবিলিতে দুটো দিন কাটাতে চান? তাহলে আপনার জন্য রইল ভারত-নেপাল সীমান্তের এক টুকরো স্বর্গের ঠিকানা। নাম ধোত্রে (Dhotrey)। সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্কের (Singalila National Park) কোলে ছবির মতো সুন্দর এই গ্রামকে এখনও পর্যটকের ভিড় গ্রাস করেনি।

কেন যাবেন ধোত্রে? 

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ধোত্রে আসলে সান্দাকফু ট্রেকের প্রথম বেসক্যাম্প। কিন্তু ট্রেকার না হলেও শুধু প্রকৃতির টানে এখানে আসা যায়। গ্রামের যে কোনও হোমস্টের কাঠের ব্যালকনি থেকেই দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার ১৮০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ। ভোরবেলা স্লিপিং বুদ্ধের উপর যখন প্রথম সূর্যের সোনালি আলো পড়ে, সেই দৃশ্য সারাজীবন আপনার স্মৃতিতে থেকে যাবে। চারপাশে ঘন পাইনের জঙ্গল, আর বসন্তে গোটা উপত্যকা লাল, গোলাপি রডোডেনড্রনে ভরে ওঠে। এখানে মেঘেরা সত্যিই পায়ে পায়ে ঘোরে।

কী দেখবেন? 

ধোত্রে থেকে একটা ছোট ও সহজ ট্রেক করে চলে যান টংলু। মাত্র ৬ কিলোমিটার রাস্তা। পথের দুধারে পাইন, ধুপি আর ওক গাছের ঘন জঙ্গল। টংলু টপ থেকে সান্দাকফু, ফালুট, এমনকি মাউন্ট এভারেস্ট পরিবারের শৃঙ্গগুলিও পরিষ্কার দেখা যায়। গ্রামের মধ্যেই আছে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি ছোট বৌদ্ধ মনাস্ট্রি। স্থানীয় শেরপা গ্রামবাসীদের সহজ সরল জীবন আর উষ্ণ আতিথেয়তা মন ছুঁয়ে যাবে।

কীভাবে যাবেন? 

শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি নামুন। সেখান থেকে শেয়ার গাড়ি বা রিজার্ভ গাড়ি করে সুখিয়াপোখরি ও মানেভঞ্জন হয়ে সোজা ধোত্রে। দার্জিলিং শহর থেকে ধোত্রের দূরত্ব মাত্র ৪৫ কিলোমিটার। গাড়িতে সময় লাগে ঘণ্টা তিনেকের মতো।

কোথায় থাকবেন? খরচ কত? 

ধোত্রেতে এখন বেশ কয়েকটি সুন্দর ও পরিষ্কার হোমস্টে তৈরি হয়েছে। থাকা-খাওয়া নিয়ে মাথাপিছু খরচ পড়বে দিনে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। এখানে পাঁচতারা হোটেলের লাক্সারি নেই, কিন্তু যা আছে তা হল বুকভরা অক্সিজেন, বিশুদ্ধ বাতাস আর একরাশ নিস্তব্ধতা। শহরের যানজট আর কোলাহল থেকে পালিয়ে বাঁচতে এর চেয়ে ভালো ঠিকানা আর হয় না।

কখন যাবেন? 

মার্চ থেকে মে মাস রডোডেনড্রন দেখার জন্য সেরা সময়। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আকাশ একদম পরিষ্কার থাকে, কাঞ্চনজঙ্ঘা সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায় তখন। বর্ষাকালে রাস্তা খারাপ থাকে, তাই না যাওয়াই ভালো।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।