Vastu Bandhan:  ঝকঝকে ফ্ল্যাট, দামি ফার্নিচার, তবু ঘরে পা দিলেই মন খারাপ হয়? রাতে ঘুম ভাঙে, কাজে বাধা, টাকা হাতে থাকে না? বাস্তু শাস্ত্রে একে বলে ‘বাস্তু বন্ধন’। ঘরের এনার্জি ফ্লো আটকে গেলে এমন হয়। ভাঙা জিনিস, ভুল দিকে বাথরুম বা অন্যের নজর—কারণ অনেক। ভয়ের কিছু নেই। লক্ষণগুলো চিনে নুন, কর্পূর, তুলসীর মতো ঘরোয়া টোটকায় ৭ দিনেই ঘরের হাওয়া বদলে যাবে।

Vastu Bandhan: ডাক্তার যাকে বলে স্ট্রেস বা অ্যাংজাইটি, বাস্তু তাকেই বলে নেগেটিভ এনার্জি। নাম যাই হোক, কষ্টটা রিয়েল। আপনার ঘর যদি সারাদিন আপনার এনার্জি শুষে নেয়, তাহলে আপনি বাইরে হেরে যাবেনই। কেউ ইচ্ছে করে ‘বন্ধন’ করেছে কিনা সেটা পরের কথা। আগে দেখুন ঘরের ব্যালেন্স ঠিক আছে কিনা। কারণ ঘর ভালো থাকলে মন ভালো, মন ভালো থাকলে সব ভালো।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বন্ধ ঘড়ি ঝুলিয়ে রাখা, বা বিমের নিচে খাট

বাস্তু মতে ‘বন্ধন’ মানে হল ঘরের পঞ্চভূতের ব্যালেন্স নষ্ট হওয়া। মাটি, জল, আগুন, বাতাস, আকাশ—এই পাঁচটা এলিমেন্ট ঠিকঠাক না থাকলে পজিটিভ এনার্জি ঘরে ঢুকতে পারে না, আর নেগেটিভ এনার্জি বেরোতে পারে না। ঘরে ভাঙা আয়না ফেলে রাখা, বন্ধ ঘড়ি ঝুলিয়ে রাখা, বা বিমের নিচে খাট পেতে শোওয়া—এগুলোই এনার্জির রাস্তা ব্লক করে দেয়। ফল হল দমবন্ধ ভাব, অশান্তি, আর কাজে বাধা। এটা কোনও জাদু-টোনা না, এটা এনার্জি ফ্লো-র সহজ হিসাব।

কীভাবে বুঝবেন আপনি এই ফাঁদে পড়েছেন? কয়েকটা কমন লক্ষণ আছে। প্রথমটা হল ঘরে ঢুকলেই হাঁসফাঁস লাগা। জানলা-দরজা খোলা, ফ্যান চলছে, তবু মনে হবে অক্সিজেন কম। দ্বিতীয় লক্ষণ ঘুমের বারোটা বাজা। রাত ২টো-৩টের সময় রোজ ঘুম ভেঙে যাবে, বাজে স্বপ্ন দেখবেন, আর সকালে উঠে মনে হবে সারারাত ট্রাক চালিয়েছেন। এরপর শুরু হয় অকারণে ঝগড়া। বাচ্চা হঠাৎ জেদি হয়ে যাবে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছোট কথায় তুমুল অশান্তি হবে। সাথে কাজে বাধা আসবে। প্রোমোশন আটকে যাবে, ক্লায়েন্ট হাতছাড়া হবে, টাকা আসবে কিন্তু কোন ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যাবে টেরও পাবেন না।

অনেক সময় প্রকৃতিও সিগন্যাল দেয়। দেখবেন আপনার শখের তুলসী গাছটা বা অন্য ইনডোর প্ল্যান্ট কারণ ছাড়াই শুকিয়ে যাচ্ছে। যতই জল দিন, বাঁচাতে পারবেন না। ঘরের ইলেকট্রনিক জিনিসও পাগলামি শুরু করবে। বাল্ব কাটবে, ফোন হ্যাং করবে, নতুন ঘড়ি কিনলেও দুদিন পর বন্ধ হয়ে যাবে। আর সবশেষে শরীর জানান দেবে। সারাদিন মাথা ধরে থাকবে, গা ম্যাজম্যাজ করবে, কিন্তু ডাক্তার টেস্ট করে কিছুই পাবে না। এই সাতটার মধ্যে চারটে লক্ষণও যদি আপনার সাথে মেলে, তাহলে ধরে নিন ঘরের এনার্জি ঠিক করতে হবে।

এবার আসি কেন এমন হয়। বাস্তুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল ব্রহ্মস্থান, মানে ঘরের একদম মাঝখানটা। সেখানে যদি ভারী আলমারি, বাথরুম বা সিঁড়ি থাকে, তাহলে পুরো ঘরের এনার্জি জ্যাম হয়ে যায়। দ্বিতীয় হল ঈশান কোণ। উত্তর-পূর্ব দিক হল ঈশান। এই কোণে ডাস্টবিন, জুতোর র‍্যাক বা বাথরুম থাকা মানে টাকা আর শান্তির বারোটা বাজানো। তৃতীয় ভুল হল ভাঙা জিনিস জমানো। ভাঙা আয়না, বন্ধ ঘড়ি, ফাটা কাপ—এগুলো নেগেটিভিটি ধরে রাখে। এদের আজই বিদায় করুন। বিমের নিচে খাট পাতাও বিশাল দোষ। মাথার উপর বিম থাকলে ব্রেন রেস্ট পায় না, তাই ঘুম হয় না। আর মেইন দরজার সামনে ডাস্টবিন বা পিলার থাকলে লক্ষ্মী ঘরে ঢুকতেই পারে না।

বাথরুমে লাল কাপড়ে ফিটকিরি

তাহলে মুক্তির উপায় কী? খুব সহজ। প্রথম কাজ হল নুন-জল দিয়ে ঘর মোছা। এক বালতি জলে দুই চামচ মোটা নুন ফেলে সপ্তাহে দুদিন, বিশেষ করে শনিবার আর মঙ্গলবার, পুরো ঘর মুছুন। নুন সব খারাপ এনার্জি টেনে নেয়। মোছার পর ওই নোংরা জল বাড়ির বাইরে ফেলে দেবেন। দ্বিতীয় টোটকা হল কর্পূর। সন্ধ্যাবেলা ঘরের মাঝখানে বা ঈশান কোণে দুই টুকরো ভীমসেনি কর্পূর জ্বালান। এর ধোঁয়া আর গন্ধে ঘরের নেগেটিভ ভাইব্রেশন কেটে যায়। একটানা ৪০ দিন করলে দারুণ ফল পাবেন।

তৃতীয় হল আয়নার সঠিক ব্যবহার। মেইন দরজার ঠিক উল্টোদিকে কখনও আয়না রাখবেন না। যা পজিটিভ এনার্জি ঢুকবে, সব রিফ্লেক্ট হয়ে বেরিয়ে যাবে। বরং ডাইনিং টেবিলের সামনে আয়না রাখুন। বাস্তু মতে, এতে খাবার ও বরকত ডাবল হয়। চতুর্থ টোটকা হল ঘরের কোণায় নুন রাখা। ছোট ছোট বাটিতে মোটা নুন ভরে বাথরুমে আর ঘরের চার কোণে রেখে দিন। ১৫ দিন পর দেখবেন নুন কালো বা ভিজে গেছে। মানে ও নেগেটিভিটি শুষে নিয়েছে। তখন ফেলে নতুন নুন দিন।

শেষ আর সবচেয়ে পাওয়ারফুল টোটকা হল শব্দ। রোজ সকালে ঘণ্টা, শাঁখ বা গায়ত্রী মন্ত্র চালান ১০ মিনিট। সাউন্ড ভাইব্রেশন দেওয়াল, আসবাব থেকে নেগেটিভ এনার্জি ঝেড়ে ফেলে। NASA-র রিসার্চও বলে, নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ এনার্জি ক্লিন করতে পারে। এর সাথে মেইন দরজায় পঞ্চমুখী হনুমানজির ছবি লাগান আর ঈশান কোণে একটা তুলসী গাছ বসান। তুলসী ২৪ ঘণ্টা অক্সিজেন দেয় আর নেগেটিভিটি মারতে ওস্তাদ। বাথরুমে লাল কাপড়ে ফিটকিরি বেঁধে ঝুলিয়ে দিন, নজর দোষ কেটে যাবে।

আসলে বাস্তু বন্ধন মানে আপনার কপাল কেউ বেঁধে রাখেনি। আপনার ঘরের হাওয়া-বাতাস বেঁধে গেছে। ঘর পরিষ্কার করুন, ভাঙাচোরা ফেলুন, আলো-বাতাস ঢুকতে দিন আর এই টোটকাগুলো করুন। ৭ দিনেই দেখবেন ঘরে ঢুকলে শান্তি লাগছে, ঘুম গভীর হচ্ছে, আর আটকে থাকা কাজগুলো হঠাৎ হঠাৎ হতে শুরু করেছে। কারণ দিনের শেষে, পজিটিভ ঘরই হল আপনার সবচেয়ে বড় লাক।

বাস্তু শাস্ত্র একটি প্রাচীন বিশ্বাস। এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নিয়ে মতভেদ আছে। এই তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞানের জন্য। গভীর মানসিক অবসাদ, অনিদ্রা বা শারীরিক কষ্ট হলে অবশ্যই ডাক্তার বা মনোবিদের পরামর্শ নিন। বাস্তু টোটকা কোনওভাবেই চিকিৎসার বিকল্প নয়।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।