২৩ ও ২৯ এপ্রিল বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। গনগনে রোদ আর গরম হাওয়ার মধ্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ডিহাইড্রেশন ও সানস্ট্রোক এড়াতে জল, ছাতা, সুতির পোশাক-সহ কয়েকটি জিনিস সঙ্গে রাখা জরুরি।

২৩ ও ২৯ এপ্রিল বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। তারই মাঝে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়ছে গরমও। বাইরে গরম হাওয়া বইছে, মাথার ওপর গনগনে সূর্য। গরমের দাপটের সঙ্গে চলছে রাজনীতির উত্তাপ। কাঠফাটা রোদ আর গরম হাওয়ার মধ্যেই ভোটারদের পৌঁছাতে হচ্ছে বুথে। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লান্তি বা অসুস্থতার আশঙ্কা থাকেই। তাই বুথে পা রাখার আগে কয়েকটি জিনিস ব্যাগে রাখা দরকার।

এই পরিস্থিতেই আপনাকে পৌঁছাতে হবে ভোটকেন্দ্রে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয় থেকেই যায়। তাই বুথে যাওয়ার আগে কয়েকটি জিনিস সঙ্গে রাখা মাস্ট।

ঠাণ্ডা জল, ছাতা, সানগ্লাস

প্রথমেই রাখুন এক বোতল ঠাণ্ডা জল। শুধু জল নয়, তাতে এক চিমটি নুন-চিনি বা ORS মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে শরীরে লবণের ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং মাথা ঘোরা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমবে। লাইনের অনেক অংশই ছায়া থাকবে না। তাই সরাসরি রোদ থেকে বাঁচতে রঙিন বা কালো ছাতা অবশ্যই সঙ্গে রাখুন। চোখের আরামের জন্য ভালো মানের সানগ্লাসও পরুন। এটি শুধু স্টাইল নয়, রোদের অতিবেগুনি রশ্মি থেকেও চোখকে রক্ষা করবে।

ঢিলেঢালা সুতির পোশাক, সঙ্গে টুপি

পোশাকের ক্ষেত্রে জাঁকজমক এড়িয়ে চলুন। সাদা বা হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। এতে শরীরে হাওয়া-বাতাস খেলবে এবং ঘাম কম হবে। পায়ে আরামদায়ক চটি বা স্যান্ডেল পরুন যাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট না হয়। যাঁরা ছাতা নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, তাঁরা চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি ব্যবহার করতে পারেন। মহিলারা মাথা ও মুখ ঢেকে রাখার জন্য পাতলা সুতির ওড়না বা স্কার্ফ ব্যবহার করতে পারেন।

হাতপাখা বা ব্যাটারি চালিত ফ্যান

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় অনেক সময় হাওয়া পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে ছোট একটি হাতপাখা বা ব্যাটারি চালিত পকেট ফ্যান আশীর্বাদ হতে পারে। গুমোট গরমে এটি সাময়িক স্বস্তি দেবে। মাঝে মাঝে মুখ ও ঘাড় মোছার জন্য নরম রুমাল বা কুলিং টিস্যু রাখুন। সম্ভব হলে ছোট স্প্রে বোতলে জল রাখুন, মাঝেমধ্যে মুখে ছিটিয়ে দিলে সতেজ লাগবে।

প্রয়োজনীয় ওষুধ

যাঁদের প্রেশার বা সুগারের সমস্যা আছে, তাঁরা নিজেদের প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন। পকেটে দু-একটি লজেন্স বা ক্যান্ডি রাখতে পারেন। হঠাৎ সুগার কমে গেলে বা মুখ শুকিয়ে গেলে এটি কাজে দেবে। সবশেষে ভোটার কার্ড ও স্যানিটাইজার প্লাস্টিক পাউচে রাখুন যাতে ঘামে ভিজে না যায়। ভোট দেওয়ার আগে ও পরে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

খুব রোদ ওঠার আগে সকাল সকাল ভোট দিয়ে আসার চেষ্টা করুন। লাইনে দাঁড়িয়ে অস্বস্তি লাগলে কাছের স্বেচ্ছাসেবী বা পুলিশ কর্মীর সাহায্য নিন।