ট্রাইকোলজিস্ট ডা. ঐশী মুখার্জি বলছেন, শ্যাম্পু শুধু ময়লা তোলে, চুল স্মুদ করে না।  সপ্তাহে ২ দিন মাত্র ১৫ মিনিট টাইম দিন। ১ মাসে চুলের রুক্ষতা ৭০% কমবে। দামি প্রোডাক্টের থেকে এই ঘরোয়া টোটকা বেশি কাজের।

TV খুললেই দেখেন - মডেল চুল ঝাঁকাচ্ছে, চুলে আলো পড়ছে, হাওয়ায় উড়ছে। আপনি বাজার থেকে ১০ টাকার "সিল্কি শ্যাম্পু" কিনে আনলেন। ২ সপ্তাহ মাখলেন। চুল আগের মতোই রুক্ষ, জট পড়ছে, ফ্রিজ ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কারণটা সিম্পল। শ্যাম্পু হলো "সাবান"। ওর কাজ ময়লা-তেল তোলা। চুল মসৃণ করা ওর কাজ না। চুল স্মুদ করতে লাগে "পুষ্টি + ময়েশ্চার"। আর সেটা আপনার রান্নাঘরেই আছে।

টোটকা ১: দই + মধু = সেলুনের স্পা, ঘরেই

কেন কাজ করবে? দইয়ে ল্যাকটিক অ্যাসিড আছে। ওটা চুলের কিউটিকল বন্ধ করে দেয়। ফলে চুল মসৃণ লাগে। মধু হলো ন্যাচারাল হিউমিডিফায়ার - জল টেনে চুল নরম রাখে।

কীভাবে লাগাবেন?

৪ চামচ টক দই + ১ চামচ খাঁটি মধু ভালো করে মেশান। চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগান। শাওয়ার ক্যাপ বা গরম তোয়ালে জড়িয়ে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ দিন।

রেজাল্ট: প্রথম দিনেই চুল আঙুল দিয়ে চিরুনি চলে যাবে। ১ মাসে রুক্ষতা ৫০% কম।

টোটকা ২: অ্যালোভেরা জেল = ফ্রিজের যম

কেন কাজ করবে? অ্যালোভেরায় ভিটামিন A, E, C আছে। ওটা স্ক্যাল্প ঠান্ডা রাখে আর চুলের ফ্রিজ, স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি কমায়। গরম-ধুলোর কলকাতায় এটা ম্যাজিক।

কীভাবে লাগাবেন?

বাজার থেকে কেনা জেল না। গাছ থেকে পাতা কেটে ভেতরের স্বচ্ছ জেল বের করুন। শ্যাম্পুর পর চুল ৮০% শুকনো থাকতে ২ চামচ জেল হাতে ঘষে চুলের ডগায় লাগান। ধোবেন না। লিভ-ইন কন্ডিশনারের কাজ করবে।

টিপ: যাদের স্ক্যাল্প অয়েলি, তারা শুধু ডগায় লাগাবেন। গোড়ায় লাগালে চুল চিটচিটে হবে।

টোটকা ৩: ঠান্ডা জল + সিল্কের বালিশ = গোপন অস্ত্র

ঠান্ডা জল: শ্যাম্পুর পর শেষ বালতি জল সবসময় ঠান্ডা বা নরমাল জল দিয়ে চুল ধোবেন। গরম জল চুলের কিউটিকল খুলে দেয়। ফলে চুল রুক্ষ হয়। ঠান্ডা জল কিউটিকল বন্ধ করে দেয় - চুল চকচক করে।

সিল্কের বালিশের কভার: সুতির বালিশের কভারে ঘষা লেগে চুল ভাঙে, ফ্রিজ হয়। ২০ টাকা দিয়ে সাটিন বা সিল্কের কভার কিনুন। রাতে চুল ঘষা খাবে না। সকালে উঠে চুল সেট থাকবে। মডেলরা এটাই করে।

বোনাস টিপ: "তোয়ালে রাব" বন্ধ করুন

স্নান করে চুল কি জোরে জোরে তোয়ালে দিয়ে ঘষেন ? এটা চুল ভাঙার ১ নম্বর কারণ। ভেজা চুল স্পঞ্জের মতো নরম থাকে। ঘষলে কিউটিকল উঠে যায়। বদলে পুরোনো সুতির T-shirt দিয়ে চেপে চেপে জল মুছুন। চুল ৭০% কম ভাঙবে।

কী ভুল করছেন যার জন্য চুল সিল্কি হচ্ছে না?

ভুল ১: রোজ শ্যাম্পু করা। রোজ শ্যাম্পু মানে রোজ চুলের ন্যাচারাল তেল তোলা। চুল আরও রুক্ষ হবে। সপ্তাহে ২-৩ বার যথেষ্ট।

ভুল ২: ভেজা চুল আঁচড়ানো। ভেজা চুল ৩ গুণ দুর্বল থাকে। চিরুনি দিলেই হুড়হুড় করে চুল উঠবে। আগে চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে ডগা থেকে আঁচড়ান।

ভুল ৩: কন্ডিশনার গোড়ায় লাগানো। কন্ডিশনার শুধু কান থেকে ডগা পর্যন্ত। গোড়ায় লাগালে স্ক্যাল্প বন্ধ হয়ে খুশকি, চুল পড়া বাড়বে।

শেষ কথা:

বিজ্ঞাপনের চুল ১ দিনে হয় না। ওরা শ্যুটের আগে সেলুনে ২ ঘণ্টা ট্রিটমেন্ট নেয়। আপনি ১৫ মিনিট ঘরোয়া টোটকা দিন। ৩০ দিন পর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই বুঝবেন তফাৎ।

দামি শ্যাম্পুর পেছনে টাকা নষ্ট না করে, ফ্রিজ থেকে দই আর মধু বের করুন। সিল্কি চুলের রাস্তা ওটাই।