ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে সব সময়ই জল আর আর্দ্রতা জমে থাকে। এই ভেজা ভেজা পরিবেশেই সহজে জন্ম নেয় ছত্রাক আর ক্ষতিকর জীবাণু। কী ভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন?
ওয়াশিং মেশিন থেকে স্বাস্থ্যহানি হতে পারে প্রধানত ভুল ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে। যেমন - ভেজা কাপড় দীর্ঘক্ষণ মেশিনে ফেলে রাখা, মেশিন নিয়মিত পরিষ্কার না করা, অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট ব্যবহার, এবং অপরিষ্কার রাবার সিল ও ড্রয়ার—এসবের ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জন্মে, যা ত্বকের সমস্যা, অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এর থেকে বাঁচতে ব্যবহারের পর দরজা খোলা রাখা, ভেজা কাপড় দ্রুত বের করা, ও নির্দিষ্ট সময় অন্তর মেশিন পরিষ্কার করা জরুরি।
স্বাস্থ্যহানির প্রধান কারণ ও ভুলগুলো:
১. জীবাণু ও ছত্রাকের প্রজনন ক্ষেত্র: ভেজা কাপড় মেশিনে ফেলে রাখলে বা ভেতরের অংশ নিয়মিত পরিষ্কার না করলে আর্দ্রতা ও ময়লার কারণে ব্যাকটেরিয়া (যেমন Pseudomonas aeruginosa) ও ছত্রাক জন্মায়, যা পরিষ্কার কাপড়ের মাধ্যমে শরীরে আসে। ২. অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্ট: ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার স্পোর (spores) বাতাসে মিশে অ্যালার্জি, অ্যাজমা (asthma) বা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। ৩. ত্বকের সংক্রমণ (Skin Infections): জীবাণুযুক্ত কাপড় ত্বকের সংস্পর্শে এলে ত্বকের লালচে ভাব, চুলকানি বা সংক্রমণ হতে পারে। ৪. অতিরিক্ত ডিটারজেন্টের ব্যবহার: অতিরিক্ত সাবান মেশিনে জমে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের জন্ম দেয় এবং সঠিকভাবে ধুয়ে না গেলে ত্বকে Residue তৈরি করে, যা অস্বস্তির কারণ হয়।
যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন (Mistakes to Avoid):
* ভেজা কাপড় ফেলে রাখা: ধোয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথে কাপড় বের করে মেশিন শুকানোর জন্য দরজা খোলা রাখা। * মেশিন পরিষ্কার না করা: রাবার সিল, ড্রয়ার ও ড্রামের ভেতরের অংশ নিয়মিত পরিষ্কার না করা। * বেশি ডিটারজেন্ট ব্যবহার: মেশিনে নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি বা ভুল ধরনের ডিটারজেন্ট ব্যবহার। * ভারী লোড: মেশিনে অতিরিক্ত কাপড় দেওয়া, যা মেশিনের কার্যকারিতা কমায় ও জীবাণু জমার সুযোগ দেয়। * অতিরিক্ত ব্লিচ/কড়া রাসায়নিক ব্যবহার: এতে মেশিনের ক্ষতি হয় এবং জীবাণু পুরোপুরি মরে না।
কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন (Prevention Tips):
* পরিষ্কার করুন: প্রতি ২-৩ বার ব্যবহারের পর ভেজা কাপড় বের করে দরজা খোলা রাখুন, রাবার সিল মুছুন, এবং সাবানের ড্রয়ার পরিষ্কার করুন। * গরম জলে ধোয়া: মাঝে মাঝে (মাসে অন্তত একবার) গরম জল (60°C বা তার বেশি) দিয়ে মেশিন চালান (Hot Wash)। * সঠিক ডিটারজেন্ট: মেশিনে সঠিক ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন এবং পরিমাণ মতো নিন। * নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ: প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা মেনে ফিল্টার ও অন্যান্য অংশ পরিষ্কার করুন।
সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করলে ওয়াশিং মেশিন স্বাস্থ্যকর এবং সুবিধাজনক একটি যন্ত্র, যা অজান্তেই ক্ষতির কারণ হওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারে।
