দই ব্যবহার করে চারটি ভিন্ন ধরনের ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক তৈরির পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে। মধু, ডিম, অ্যালোভেরা এবং মেথির মতো প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে এই মাস্কগুলি চুলের শুষ্কতা, ক্ষতি, স্ক্যাল্পের সমস্যা এবং চুল পড়ার মতো বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে।
চুলের যত্নে ব্যবহার করুন হেয়ার মাস্ক। এই মাস্কের প্রধান উপাদান হল দই। এর সঙ্গে মধু আর অলিভ অয়েল মিশিয়ে হেয়ার মাস্ক তৈরি করুন। চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দই আর মধু চুলকে স্বাভাবিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করে। অন্যদিকে অলিভ অয়েল চুলের গভীরে গিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখে। এই মাস্ক লাগালে চুল গভীরভাবে কন্ডিশনড এবং উজ্জ্বল হয়।
দুর্বল, ভঙ্গুর চুল যা সহজেই ভেঙে যায়, তার জন্য প্রোটিন খুব দরকার। ডিমে থাকা ন্যাচারাল পেপটাইড চুলের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পূরণ করে। একটি গোটা ডিমের সঙ্গে চার বড় চামচ দই ফেটিয়ে নিন। চুলের ডগা বেশি শুষ্ক হলে, সাদা অংশ বাদ দিয়ে শুধু কুসুম ব্যবহার করুন। এই মিশ্রণটি চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগান। শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন এবং ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। চুল অবশ্যই ঠান্ডা জল দিয়ে ধোবেন।
গরমে ঘামের কারণে স্ক্যাল্পে চুলকানি হয়, অনেক সময় ফোলা ভাবও দেখা যায়। এই মাস্ক স্ক্যাল্পকে ঠান্ডা রাখে। তিন বড় চামচ দইয়ের সঙ্গে দুই বড় চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। অ্যালোভেরাতে প্রোটিওলাইটিক এনজাইম থাকে যা ডেড স্কিন সেলস মেরামত করে। দইয়ের সঙ্গে মিশে এটি দারুণ কাজ করে। পুরো স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ৩০-৪৫ মিনিট রাখুন, তারপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
অতিরিক্ত চুল পড়া এবং চুল পাতলা হয়ে যাওয়া যদি আপনার লম্বা চুলের প্রধান বাধা হয়, তবে মেথি আপনার নতুন বন্ধু হতে পারে। নিকোটিনিক অ্যাসিড ও প্রোটিনে ভরপুর মেথি চুল পড়া কার্যকরভাবে আটকায়। এক বড় চামচ মেথি গুঁড়োর (বা ভেজানো বীজের পেস্ট) সঙ্গে তিন বড় চামচ দই মেশান। বাটিটা ১৫ মিনিট রেখে দিন, যাতে বীজ ফুলে ওঠে এবং এর পুষ্টিগুণ বেরিয়ে আসে। চুল ভাগ করে সরাসরি স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। ৪০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলুন।


