৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধই যথেষ্ট। এরপর শিশুর বাড়তি পুষ্টির জন্য দুধের পাশাপাশি কঠিন খাবার শুরু করতে হয়। একে বলে উইনিং বা কমপ্লিমেন্টারি ফিডিং। কিন্তু হঠাৎ করে ভাত-মাছ দিলে চলবে না। শুরু করতে হবে একদম পাতলা, সহজপাচ্য খাবার দিয়ে। 

৬ মাস হয়ে গেল? আপনার খুদের এবার দুধের পাশাপাশি কঠিন খাবারের স্বাদ পাওয়ার সময়। কিন্তু প্রথমবার মা হলে টেনশন হবেই। কী খাওয়াব, কখন খাওয়াব, গলায় আটকাবে না তো? ভয় নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO বলছে, ৬ মাস কমপ্লিট হলে ধীরে ধীরে সলিড শুরু করুন। কারণ তখন শুধু দুধে বাচ্চার আয়রন, জিঙ্কের চাহিদা মেটে না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বুঝবেন কীভাবে বাচ্চা রেডি? 

১. ঘাড় শক্ত হয়েছে, সাপোর্ট দিয়ে বসতে পারছে। ২. খাবার দেখলে মুখ হাঁ করছে, আপনার প্লেটের দিকে হাত বাড়াচ্ছে। ৩. জিভ দিয়ে খাবার ঠেলে বের করে দিচ্ছে না। এটাকে বলে ‘টাং থ্রাস্ট রিফ্লেক্স’ চলে যাওয়া। এই ৩টে সাইন মিললে বুঝবেন আপনার খুদে রেডি।

কী দিয়ে শুরু করবেন? প্রথম ২ সপ্তাহের প্ল্যান:

১. ৩ দিনের নিয়ম মানুন: যে কোনও নতুন খাবার শুরু করলে টানা ৩ দিন শুধু ওটাই দিন। অন্য কিছু নয়। এতে অ্যালার্জি, পেট খারাপ হলে বুঝতে পারবেন কোন খাবার থেকে হল। র‍্যাশ, বমি, পাতলা পায়খানা হলে বন্ধ করে ডাক্তার দেখান।

২. প্রথম খাবার হবে ‘সিঙ্গেল গ্রেন’: চালই বেস্ট। চালের গুঁড়ো বা ভাত ভালো করে সেদ্ধ করে জল দিয়ে একদম পাতলা করে চটকে নিন। চামচের আগায় এক-দু’ চামচ দিন। দিনে একবার, সকালে। দুধ খাওয়ানোর ১ ঘণ্টা পরে।

৩. এরপর সবজি ও ফল: চাল সয়ে গেলে সেদ্ধ গাজর, মিষ্টি কুমড়ো, আপেল, নাশপাতি চটকে দিন। সবই আলাদা আলাদা, ৩ দিনের নিয়ম মেনে। কলা চটকে দিতে পারেন। কিন্তু পেঁপে, তরমুজ ৮ মাসের আগে নয়।

৪. ঘনত্ব বাড়ান ধীরে ধীরে: প্রথমে খাবার হবে দুধের মতো পাতলা। ৭ মাসে দইয়ের মতো, ৮ মাসে চটকানো, ৯ মাসে আঙুল দিয়ে ধরার মতো ছোট টুকরো। ১ বছরে বাড়ির স্বাভাবিক খাবার।

কী কী দেবেন না ১ বছর পর্যন্ত? ১. গরুর দুধ: হজম হয় না, অ্যালার্জি হতে পারে। দই, ছানা ৭ মাস থেকে দেওয়া যায়। ২. মধু: বটুলিজম নামে মারাত্মক ইনফেকশন হতে পারে। ৩. নুন-চিনি: কিডনির উপর চাপ পড়ে। বাচ্চার ন্যাচারাল স্বাদ নষ্ট হয়। ৪. বাদাম, আঙুর, গোটা ডাল: গলায় আটকানোর ভয়। ৫ বছরের আগে গোটা বাদাম নয়। ৫. ডিমের সাদা অংশ, চিংড়ি, মাশরুম: ৮-৯ মাসের আগে নয়। অ্যালার্জি প্রবণ।

কতটা খাবে? 

৬-৮ মাস: দিনে ২-৩ বার, ২-৩ চামচ করে শুরু। ধীরে ধীরে আধ বাটি। ৯-১১ মাস: দিনে ৩-৪ বার, আধ বাটি থেকে এক বাটি। সাথে ১-২ বার স্ন্যাকস। মনে রাখবেন, ১ বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ বা ফর্মুলাই প্রধান খাবার। সলিড হল ‘কমপ্লিমেন্টারি’ – মানে দুধের সাথে বাড়তি।

৫টি গোল্ডেন টিপস নতুন মায়েদের জন্য: ১. জোর করবেন না: বাচ্চা মুখ ঘোরালে, ঠেলে দিলে জোর করবেন না। খাবারটা নিয়ে খেলতে দিন। আজ না খেলে কাল খাবে। ২. নিজে খেয়ে দেখান: আপনি খেলে বাচ্চাও উৎসাহ পাবে। একসাথে খেতে বসুন। ৩. এক রঙা থালা নয়: গাজরের কমলা, কুমড়োর হলুদ, বিটের লাল – রঙিন খাবার দিন। দেখতে ভালো লাগলে খেতেও চাইবে। ৪. জল খাওয়ান: সলিড শুরু হলে দিনে ৪-৫ চামচ জল দিন। কোষ্ঠকাঠিন্য হবে না। ৫. ধৈর্য ধরুন: একটা খাবার ৮-১০ বার অফার করার পর বাচ্চা পছন্দ করে। প্রথমেই মুখ বেঁকালে হাল ছাড়বেন না।

কখন ডাক্তার দেখাবেন? খাবার পর র‍্যাশ, মুখ ফুলে যাওয়া, বমি, রক্ত পায়খানা, ওজন না বাড়া – এসব হলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যান।

মা হওয়া কঠিন, কিন্তু আপনিই পারবেন। বাচ্চাকে সময় দিন। খাওয়াটা যেন যুদ্ধ না হয়ে আনন্দের হয়। আজকের এক চামচ ভাতই কালকের থালা ভর্তি খাবারের শুরু।