জন্মাষ্টমীতে গোপালকে নতুন পোশাকে সাজানোই রীতি। কিন্তু সাদা, হলুদ না গোলাপি, কোন রঙের পোশাক পরালে বেশি শুভ? জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, গ্রহের অবস্থান ও রাশি অনুযায়ী রঙ বেছে নিলে সংসারে সুখ সমৃদ্ধি বাড়ে।
জন্মাষ্টমী মানেই বাড়ির গোপালকে নতুন সাজে সাজিয়ে তোলা। বাজারে এখন গোপালের জন্য হরেক রকমের জামা, মুকুট, ময়ূরের পালক পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, শুধু পছন্দ হলেই হল না, জ্যোতিষ মতে রঙেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে? শাস্ত্র বলছে, জন্মাষ্টমীর দিনে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান অনুযায়ী সঠিক রঙের পোশাকে গোপালকে সাজালে আপনার জীবনেও তার শুভ প্রভাব পড়ে।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সবচেয়ে প্রিয় রং হল হলুদ এবং ময়ূর নীল। জন্মাষ্টমীর দিনে যদি গোপালকে হলুদ রঙের বসন পরান, তাহলে তা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। হলুদ রং হল বৃহস্পতি গ্রহের প্রতীক, যা জ্ঞান, সমৃদ্ধি এবং সৌভাগ্য নিয়ে আসে। যারা আর্থিক কষ্টে ভুগছেন বা সংসারে শান্তি চান, তারা এই দিনে গোপালকে অবশ্যই হলুদ রঙের পোশাক পরান। এতে ঘরে লক্ষ্মীর আগমন হয় এবং বৃহস্পতি মজবুত হয়।
অন্যদিকে, যদি আপনার রাশিতে শুক্রের প্রভাব দুর্বল থাকে বা প্রেম জীবনে সমস্যা চলছে, তাহলে গোপালকে গোলাপি বা হালকা লাল রঙের পোশাকে সাজাতে পারেন। গোলাপি রং হল প্রেম, ভালোবাসা এবং শুক্র গ্রহের প্রতীক। জন্মাষ্টমীর দিনে গোপালকে এই রঙের পোশাক পরালে দাম্পত্য জীবনে মাধুর্য বাড়ে এবং সম্পর্কে নতুন প্রাণ আসে। অনেকেই জন্মাষ্টমীতে রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তিকে গোলাপি বসনে সাজিয়ে থাকেন এই কারণেই।
আর সাদা রঙের কথা যদি বলেন, তাহলে সাদা হল চন্দ্রের প্রতীক। যাদের মনে অস্থিরতা বেশি, মানসিক শান্তির অভাব রয়েছে, তারা গোপালকে সাদা ও হলুদের মিশ্রণে বা সম্পূর্ণ সাদা পোশাকে সাজাতে পারেন। সাদা রং মনের শান্তি এবং পবিত্রতার প্রতীক। এছাড়াও, এবছর জন্মাষ্টমীতে চন্দ্র রোহিণী নক্ষত্রে থাকবে, যা শ্রীকৃষ্ণের জন্ম নক্ষত্র। তাই চন্দ্রকে শান্ত রাখতে সাদা পোশাকও অত্যন্ত শুভ ফল দেবে বলে মনে করছেন জ্যোতিষীরা।
২০২৬ শে জন্মাষ্টমীর তিথি:
২০২৬ সালে জন্মাষ্টমী পালিত হবে ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ২৫ মিনিটে। শেষ হবে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৩ মিনিটে শেষ হবে। নিশীথকালে জন্মাষ্টমীর মূল পুজো করা হবে। তবে স্থানীয় সময় অনুযায়ী পুজোর সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
