কখনও মনে হয়েছে, এই জায়গাটা কোথায় যেন দেখেছি? সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও সিনেমা বা ওয়েব সিরিজের লোকেশন দেখে হঠাৎ করেই সেখানে যাওয়ার ইচ্ছে? আপনিও হয়তো না জেনেই শিকার হয়েছেন নতুন ট্রাভেল ট্রেন্ড 'সেট-জেটিং'-এর।
আগে মানুষ ভ্রমণে যেত পাহাড়, সমুদ্র বা ঐতিহাসিক স্থান দেখতে। এখন ট্রেন্ড বদলেছে। এখন মানুষ যায় তার প্রিয় সিনেমা, ওয়েব সিরিজ বা কে-ড্রামার শুটিং লোকেশনে ছবি তুলতে। আর এই ট্রেন্ডেরই নাম হল সেট-জেটিং।
সেট-জেটিং আসলে কী?
সেট + জেটিং = সেট-জেটিং। অর্থাৎ, ফিল্ম বা সিরিজের সেট দেখার জন্য জেটে করে উড়ে যাওয়া। সহজ বাংলায়, পর্দায় দেখা কোনও জায়গার প্রেমে পড়ে বাস্তবে সেখানে চলে যাওয়া।
যেমন, 'থ্রি ইডিয়টস'-এর পর লাদাখের প্যাংগং লেক, 'জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা'-র পর স্পেন, বা 'গেম অফ থ্রোনস'-এর পর ক্রোয়েশিয়ার ডুব্রোভনিক-এ পর্যটকদের ঢল নেমেছিল। সম্প্রতি 'এমিলি ইন প্যারিস'-এর জন্য প্যারিস, 'হোয়াইট লোটাস'-এর জন্য থাইল্যান্ড ও সিসিলি, আর 'মানি হাইস্ট'-এর জন্য স্পেনে ভিড় বাড়ছে। এটাই সেট-জেটিং।
কেন এত জনপ্রিয় হচ্ছে এই ট্রেন্ড?
১. ওটিটি-র প্রভাব: নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইমে আমরা এখন বিশ্বের নানা দেশের লোকেশন ঘরে বসে দেখছি। সেই সুন্দর লোকেশনগুলোই আমাদের মাথায় গেঁথে যাচ্ছে।
২. ইনস্টাগ্রামেবল লোকেশন: সিনেমার লোকেশন মানেই পারফেক্ট ফটো ব্যাকগ্রাউন্ড। একই পোজে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার নেশা। ৩. ইমোশনাল কানেকশন: প্রিয় চরিত্র যে বেঞ্চে বসেছিল, যে ক্যাফেতে কফি খেয়েছিল, সেখানে গিয়ে দাঁড়ালে মনে হয় যেন গল্পের অংশ হয়ে গেলাম।
এর ভালো-মন্দ কী?
ভালো দিক হল, অনেক অচেনা জায়গা পর্যটন মানচিত্রে উঠে আসছে, স্থানীয় মানুষের রোজগার বাড়ছে।
কিন্তু খারাপ দিকও আছে। হঠাৎ করে অতিরিক্ত ভিড়ে সেই জায়গার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, স্থানীয় সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেমন, মায়া বে বিচ 'দ্য বিচ' সিনেমার পর এত ভিড় হয়েছিল যে থাইল্যান্ড সরকারকে বিচটি কয়েক বছরের জন্য বন্ধ করে দিতে হয়েছিল।
তাই পরের বার কোনও সিনেমা দেখে ব্যাগ গুছোনোর আগে একবার ভাবুন, আপনি কি সত্যিই জায়গাটা ভালোবেসে যাচ্ছেন, নাকি শুধুই স্ক্রিনের চক্রান্তে পা দিচ্ছেন?






