সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ক্রিনশট ভাইরাল, যেখানে দাবি করা হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপে নতুন বয়সীমা চালু হচ্ছে। আসলে সংস্থা ২০২৬-এ ১৩-র নিচেদের জন্য 'প্যারেন্ট-ম্যানেজড অ্যাকাউন্ট' এনেছে, ব্যান করেনি। ইউরোপে ১৬+ নিয়ম আগে থেকেই আছে।
গত কয়েকদিন ধরে WhatsApp এবং Facebook-এ একটি স্ক্রিনশট তুমুল ভাইরাল। সেই স্ক্রিনশটে লেখা, "জরুরি নোটিশ! এবার থেকে ১৩ বছরের কম বয়সীরা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে না। অ্যাকাউন্ট ডিলিট হয়ে যাবে।" এই মেসেজ পেয়ে অনেক অভিভাবক এবং স্কুলের বাচ্চারাও আতঙ্কে।
আসল ঘটনা কী?
হ্যাঁ, WhatsApp ২০২৬ সালে বয়স নিয়ে নতুন আপডেট এনেছে। কিন্তু ভাইরাল মেসেজের মতো "ব্যান" নয়। বরং উল্টো - ১৩-র কম বয়সীদের জন্য WhatsApp ব্যবহারের দরজা খুলে দিয়েছে সংস্থা। তবে সেটা কড়া শর্তসাপেক্ষে।
সংস্থা অফিসিয়ালি কী জানিয়েছে?
১২ মার্চ ২০২৬-এ Meta-র মালিকানাধীন WhatsApp একটি ব্লগ পোস্টে জানায় তারা "প্যারেন্ট-ম্যানেজড অ্যাকাউন্ট" ফিচার গ্লোবালি রোলআউট করছে। এতদিন WhatsApp-এর ন্যূনতম বয়স ছিল ১৩ বছর। এবার সেই নিয়ম শিথিল করা হল।
নতুন নিয়মের ৪টি বড় শর্ত:
১. অভিভাবকের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: বাবা-মা বা গার্জেনই সন্তানের অ্যাকাউন্ট সেটআপ করবেন। তারা ঠিক করে দেবেন সন্তান কার সাথে চ্যাট করতে পারবে, কোন গ্রুপে থাকতে পারবে।
২. ৬ ডিজিট সিকিউরিটি PIN: প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সেটিংস ৬ ডিজিটের PIN দিয়ে লক থাকবে। এই PIN শুধু অভিভাবক জানবেন। বাচ্চা চাইলেও সেটিংস বদলাতে পারবে না।
৩. সীমিত ফিচার: নিরাপত্তার কারণে বাচ্চাদের অ্যাকাউন্টে Meta AI, Channels, Status, লোকেশন শেয়ারিং, View Once ফটো-ভিডিও এবং বিজ্ঞাপন - এই ফিচারগুলো থাকবে না। শুধু মেসেজিং এবং ভয়েস/ভিডিও কল করা যাবে।
৪. প্রাইভেসি অটুট: WhatsApp স্পষ্ট করে দিয়েছে, মেসেজের কনটেন্ট এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনে থাকবে। অর্থাৎ অভিভাবকরাও সন্তানের চ্যাট পড়তে পারবেন না। শুধু কে কার সাথে কথা বলছে সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
তাহলে ইউরোপের কী হবে? ইউরোপে গল্পটা আলাদা। GDPR ডেটা প্রাইভেসি আইনের জন্য ২০১৮ সাল থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে WhatsApp-এর ন্যূনতম বয়স ১৬। সেখানে ১৩-১৫ বছর বয়সীদের অভিভাবকের লিখিত অনুমতি লাগে। ভারত-সহ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে আগে ১৩+ নিয়ম ছিল।
ভাইরাল স্ক্রিনশট কেন ছড়াল?
এর পেছনে ২টো কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, কর্ণাটক সরকার সম্প্রতি ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিয়েছে। সেই খবর WhatsApp-এর নতুন ফিচারের সাথে মিশে গেছে। দ্বিতীয়ত, অনেকেই "প্যারেন্টাল কন্ট্রোল" কথাটাকে "ব্যান" বলে ভুল বুঝেছে।
শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি ব্যান না করে "প্যারেন্টাল ওভারসাইট" দেওয়া বেশি কার্যকরী। এতে বাচ্চারা ডিজিটাল দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না, আবার নিরাপত্তাও থাকবে।
ভাইরাল দাবিটা পুরোপুরি ভুয়ো। WhatsApp কাউকে ব্যান করছে না। ১৩-র কম বয়সীরাও এখন ব্যবহার করতে পারবে, তবে বাবা-মার ছত্রছায়ায়। ১৩-র বেশি যারা আছে তাদের জন্য নিয়ম একই থাকছে।
