প্রতি বছর ১২ই জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় যুব দিবস পালিত হয়, যা ২০২৬ সালেও পালিত হবে। এই দিনটি যুব সমাজকে বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে আত্মনির্ভর ও দেশসেবায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে পালিত হয়।

প্রতি বছর ১২ই জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী (Swami Vivekananda Jayanti 2026) উপলক্ষে ভারতে জাতীয় যুব দিবস পালিত হয়। ২০২৬ সালেও জাতীয় যুব দিবস ১২ই জানুয়ারি, সোমবার, সারা দেশে পালিত হবে। এই দিনটি শুধু একটি জন্মজয়ন্তী নয়, বরং যুব সমাজকে পথ দেখানো, তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলা এবং রাষ্ট্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত করার একটি সুযোগ। স্বামী বিবেকানন্দ যে শক্তিশালী, সচেতন এবং আত্মনির্ভর যুব ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই চিন্তাভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই দিনটি পালন করা হয়। আজ যখন দেশ উন্নত ভারতের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন যুবকদের ভূমিকা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জাতীয় যুব দিবসের তারিখ ও ইতিহাস: কে ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ?

প্রতি বছর ১২ই জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় যুব দিবস পালিত হয়। স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন একজন মহান চিন্তাবিদ এবং আধ্যাত্মিক গুরু, যাঁর জন্ম হয়েছিল ১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি। ভারত সরকার ১৯৮৪ সালে এই দিনটিকে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালন করার ঘোষণা করে এবং ১৯৮৫ সাল থেকে এটি নিয়মিতভাবে পালিত হয়ে আসছে। এই দিবসের উদ্দেশ্য হলো যুব সমাজকে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করা এবং তাদের আত্মনির্ভর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দেশের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ করে তোলা। ১৮৯৩ সালে শিকাগোতে দেওয়া বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক ভাষণ, যা তিনি 'আমেরিকার আমার ভাই ও বোনেরা' বলে শুরু করেছিলেন, তা আজও সারা বিশ্বের যুবকদের অনুপ্রাণিত করে।

জাতীয় যুব দিবসের তাৎপর্য (National Youth Day Significance)

ভারত একটি তরুণ দেশ, যেখানে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী। এই যুব সমাজই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। স্বামী বিবেকানন্দের বিখ্যাত বার্তা “ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না” আজকের যুবকদের জন্য পথপ্রদর্শক মন্ত্র। জাতীয় যুব দিবস যুবকদের আত্মবিশ্বাস, শক্তিশালী চরিত্র, শৃঙ্খলা এবং রাষ্ট্র সেবার গুরুত্ব বোঝায়। এই দিনটি মনে করিয়ে দেয় যে পড়াশোনা, দক্ষতা, চিন্তাভাবনা এবং সংস্কারের জোরেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সরকারের যুব-কেন্দ্রিক প্রকল্প, যুব ন্যায়বিচার আইন এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত উদ্যোগগুলোও এই চিন্তাকে শক্তিশালী করে।

কীভাবে পালিত হয় জাতীয় যুব দিবস (National Youth Day Celebration)

এই দিনে দেশজুড়ে স্কুল ও কলেজগুলিতে বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, প্রবন্ধ লেখা, কুইজ এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনেক জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‍্যালি এবং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে যুবকদের সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়। এর পাশাপাশি জাতীয় যুব উৎসবেরও আয়োজন করা হয়, যা সাধারণত ১২ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। এতে নাচ, গান, খেলাধুলা, নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ এবং যুব সংলাপের মতো অনুষ্ঠান থাকে, যার উদ্দেশ্য হলো যুবকদের প্রতিভাকে একটি মঞ্চ দেওয়া। দেশজুড়ে রামকৃষ্ণ মিশন দ্বারা ভাষণ, যোগাসন सत्र এবং পরিষেবা কার্যক্রম আয়োজন করা হয়। অনেক জায়গায় পরিবেশ সুরক্ষা অভিযান এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিও চালানো হয়। জাতীয় যুব দিবসের মূল থিম থাকে 'যুব ক্ষমতায়ন', যার লক্ষ্য যুবকদের আত্মনির্ভর করে তোলা এবং তাদের সমাজ ও দেশের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা।

যুবকদের জন্য স্বামী বিবেকানন্দের বার্তা

স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন যে, যুবকরা যদি শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিকভাবে শক্তিশালী হয়, তবে কোনো জাতিই পিছিয়ে থাকতে পারে না। তিনি সেবা, ভ্রাতৃত্ব এবং মানবতাকে জীবনের ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জাতীয় যুব দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সত্যিকারের দেশপ্রেম শুধু কথায় নয়, বরং ভালো চিন্তা, কঠোর পরিশ্রম এবং সমাজের জন্য কিছু করার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এই বার্তাই আজকের যুবকদের একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যায়।