সারাদিন কী করলে, কার সাথে ছিলে" - এই জবাবদিহির দিন শেষ। Gen Z এর নতুন ফেভারিট ট্রেন্ড হল 'Don't Ask, Don't Tell'। এখানে বিশ্বাসের জোরেই সম্পর্ক টেকে, খুঁটিয়ে প্রশ্ন করে নয়। কিন্তু এই ট্রেন্ড আদৌ সম্পর্ককে শক্ত করে নাকি দূরত্ব বাড়ায়?
একটা সময় ছিল যখন পার্টনার অফিস থেকে ফিরতে দেরি করলেই ফোনের পর ফোন। "কোথায় আছ, কার সাথে আছ, ছবি পাঠাও" - এই প্রশ্নগুলোকেই আমরা ভালোবাসার প্রমাণ ভাবতাম। কিন্তু সময়ের সাথে সম্পর্কের সংজ্ঞাও বদলেছে। এখনকার Gen Z আর Millennials বলছে, সম্পর্কে শান্তি চাইলে স্পেস দিতে হবে। আর সেখান থেকেই জনপ্রিয় হচ্ছে নতুন ট্রেন্ড, নাম 'Don't Ask, Don't Tell' বা সংক্ষেপে DADT।

নামটা শুনে মনে হতে পারে এটা সামরিক বাহিনীর কোনো নিয়ম। কিন্তু সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর মানে খুব সোজা। "তুমি কী করছ আমি জিজ্ঞেস করব না, আর তুমিও আমাকে সব ডিটেইলে বলতে বাধ্য নও।" এর মানে কিন্তু একদমই "লুকোচুরি" নয়। বরং এর ভিত্তি হল অগাধ বিশ্বাস। পার্টনার কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে আড্ডা দিচ্ছে, ইনস্টাগ্রামে কাকে ফলো করছে - এই সব খুঁটিয়ে জানার দরকার নেই। দুজনেই নিজের মতো স্বাধীনভাবে বাঁচবে, নিজের বন্ধু, নিজের সময়, নিজের স্পেস নিয়ে। কিন্তু কমিটমেন্টের জায়গাটা একদম পাকা থাকবে।
এই ট্রেন্ড হঠাৎ করে জনপ্রিয় হওয়ার পিছনে বড় কারণ হল টক্সিক জবাবদিহি থেকে বেরোনো। "এক ঘন্টা রিপ্লাই দাওনি কেন", "ওই ছবিটা কে তুলল" - এই ধরনের প্রশ্নে অনেক সুন্দর সম্পর্কও নষ্ট হয়ে যায়। DADT তে সেই মানসিক চাপটা থাকে না। নতুন প্রজন্ম মনে করে একসাথে থাকা মানে ২৪ ঘন্টা একে অপরের পকেটে থাকা নয়। বরং "আমি তোমাকে বিশ্বাস করি বলেই জিজ্ঞেস করছি না" - এই মানসিকতাই একটা সম্পর্ককে পরিণত করে।
নিশ্চয়ই এর কিছু ভালো দিক আছে। যেমন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সন্দেহ বা ঝগড়া অনেক কমে যায়। দুজনেই নিজের শখ, কেরিয়ার আর বন্ধুদের জন্য সময় পায়। "পজেসিভনেস" কে এখানে ভালোবাসা ভাবা হয় না, বরং তাকে স্পেস দেওয়াটাই কেয়ার হিসেবে ধরা হয়।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মডেলের খারাপ দিকও আছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল কমিউনিকেশন গ্যাপ। "না জিজ্ঞেস করা" করতে গিয়ে অনেক সময় জরুরি কথাও বলা হয় না। আর "না বলা" মানেই যে সবসময় "লুকানো" নয়, সেটা সবাই বোঝেও না। অনেকের ক্ষেত্রে পার্টনার কিছু না বললে উল্টে অ্যাংজাইটি আরও বেড়ে যায়। সবচেয়ে বড় কথা, "কতটা পর্যন্ত না বলা যাবে" - এই সীমারেখাটা ঠিক না করলে সম্পর্কে ফাটল ধরতে বাধ্য।
তাই মনোবিদদের মতে DADT সবার জন্য নয়। যারা অলরেডি একে অপরকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে এবং যাদের মধ্যে ওপেন কমিউনিকেশন আছে, তাদের ক্ষেত্রেই এই ট্রেন্ড কাজ করে। একটা নতুন সম্পর্কে গিয়েই "আমরা কিছু জিজ্ঞেস করব না" ঠিক করে নিলে সেটা হিতে বিপরীত হতে পারে।
দিনের শেষে 'Don't Ask, Don't Tell' মানে "কেয়ার করি না" নয়। এর আসল মানে হল, "আমি তোমাকে এতটাই সম্মান করি যে জবাবদিহি দিয়ে তোমাকে ছোট করব না।" সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা এখন "একসাথে গলে যাওয়া" নয়, বরং "পাশাপাশি থেকে আলাদা মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠা"।


