ছোটবেলায় কত সহজে বন্ধু হয়ে যেত, কিন্তু ৩০ পেরোতেই বন্ধুর সংখ্যা কমতে থাকে। নতুন কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে অস্বস্তি বোধ করেন অনেকেই। কিন্তু কেন এমন হয়? কী বলছে মনোবিজ্ঞান?
ছোটবেলায় টিফিন ভাগ করে নিলেই বন্ধু হয়ে যেত, পাশে বসলেই বন্ধুত্ব। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সহজ বন্ধুত্বটাই কঠিন হয়ে যায়। ২৫ বা ৩০ পেরোলেই দেখবেন, বন্ধুর তালিকাটা ছোট হয়ে আসছে। নতুন কারও সঙ্গে আলাপ জমাতেও কেমন যেন অস্বস্তি লাগে। প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্করাই এই সমস্যার মুখোমুখি হন।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণ।
প্রথমত, সময়ের অভাব। ছোটবেলায় বন্ধুত্বের জন্য অফুরন্ত সময় থাকত। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে চাকরি, সংসার, সন্তান, কেরিয়ারের চাপে বন্ধুত্বের জন্য সময় বের করাই কঠিন হয়ে পড়ে। বন্ধুত্বের জন্য যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সময় দেওয়া প্রয়োজন, তা আর হয়ে ওঠে না।
দ্বিতীয়ত, বিশ্বাসের সংকট। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অনেক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাই। প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ আমাদের আরও সতর্ক করে তোলে। ছোটবেলার মতো সহজে কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না। তাই নতুন সম্পর্কে জড়াতে ভয় পাই, মনে হয় যদি আবার ঠকতে হয়।
তৃতীয়ত, বিচার হওয়ার ভয়। প্রাপ্তবয়স্করা সবসময় ভাবেন, আমি কী বলব, লোকে কী ভাববে? নতুন বন্ধুর সামনে নিজেকে কেমন লাগছে, এই নিয়ে অতিরিক্ত সচেতনতা কাজ করে। এই অস্বস্তি থেকেই আমরা নিজেদের গুটিয়ে রাখি।
চতুর্থত, জীবনের অগ্রাধিকার বদলে যাওয়া। কারও বিয়ে হয়ে গেছে, কারও সন্তান হয়েছে, কেউ অন্য শহরে চলে গেছে। জীবনের পথ আলাদা হয়ে যাওয়ায় পুরনো বন্ধুত্বগুলিও ফিকে হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই একাকীত্ব কাটাতে নিজেকেই উদ্যোগ নিতে হবে। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে মাঝে মাঝে যোগাযোগ রাখা, নিজের শখের কোনও ক্লাসে যোগ দেওয়া, অফিসের বাইরেও মানুষের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া - এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলি নতুন বন্ধুত্ব গড়তে সাহায্য করতে পারে। বন্ধুত্বের জন্য পারফেক্ট সময়ের অপেক্ষা না করে, একটু অস্বস্তি নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।








