জিন্স টাইট লাগে, স্কার্ট পরলে ঊরুতে ঘষা লাগে। ডায়েট করেও পেট কমছে, কিন্তু থাই কমছে না। মেয়েদের এই ‘জেদি থাই ফ্যাট’ এর পিছনে আছে ইস্ট্রোজেন হরমোন, জেনেটিক্স আর বসে থাকার অভ্যাস।

ওজন কমছে, মুখ শুকোচ্ছে, কোমর ২ ইঞ্চি কমেছে। কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়ালেই মন খারাপ। ঊরু সেই মোটাই। ডাক্তার সুস্মিতা রায় বলছেন, “আমার চেম্বারে ১০ জন মেয়ে এলে ৮ জন এই কমপ্লেন নিয়ে আসে। ডায়েট-হাঁটা করেও থাই কমছে না।” কিন্তু এটা আপনার দোষ নয়। মেয়েদের শরীর ছেলেদের থেকে আলাদাভাবে বানানো।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মেয়েদের ঊরুতে মেদ জমার ৫টা আসল কারণ

১. ইস্ট্রোজেন – ‘ফ্যাট স্টোরেজ হরমোন’

মেয়েদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন বেশি। এই হরমোনের কাজই হল প্রেগন্যান্সি ও ব্রেস্টফিডিং-এর জন্য হিপ, থাই, তলপেটে ফ্যাট জমিয়ে রাখা। এটা ‘ইমার্জেন্সি এনার্জি ব্যাঙ্ক’। তাই শরীর সবার শেষে এখানকার ফ্যাট খরচ করে। পিরিয়ড, প্রেগন্যান্সি, মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন ওঠানামা করলে থাই আরও মোটা হয়।

২. জিন ও বডি টাইপ – ‘পিয়ার শেপ’

বাবা-মা, ঠাকুমার মতো শরীর পেয়েছেন? মেয়েদের ‘পিয়ার শেপ’ বা ‘গাইনয়েড’ বডি টাইপ খুব কমন। এখানে জেনেটিক্যালি ফ্যাট সেল থাই-হিপে বেশি থাকে। পেটের চেয়ে ৩ গুণ বেশি। তাই আপনার বোন রোগা হলেও আপনার থাই মোটা হতে পারে। এটা DNA-র খেলা।

৩. সারাদিন বসে থাকা – ‘গ্লুটস ঘুমিয়ে পড়ে’

অফিস, ক্লাস, সিরিয়াল – ৮-১০ ঘণ্টা বসে থাকলে গ্লুটস আর হ্যামস্ট্রিং মাসল ‘ডিঅ্যাক্টিভেট’ হয়ে যায়। মাসল কাজ না করলে ক্যালরি বার্ন হয় না। তখন শরীর ওই জায়গায় ফ্যাট জমায়। একে বলে ‘ডেড বাট সিন্ড্রোম’।

৪. PCOS ও থাইরয়েড – হরমোনের গণ্ডগোল

PCOS থাকলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হয়। তখন শরীর লোয়ার বডিতে ফ্যাট জমায়। থাইরয়েড কম থাকলে মেটাবলিজম স্লো হয়ে থাই-মুখ ফুলে যায়। এই ২টা রোগ মেয়েদের থাই মোটার বড় কারণ। টেস্ট না করিয়ে শুধু ডায়েট করলে লাভ নেই।

৫. ভুল এক্সারসাইজ – শুধু কার্ডিও করছেন

ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটছেন বা সাইকেল চালাচ্ছেন? শুধু কার্ডিওতে পেট কমবে, কিন্তু থাই টোন হবে না। মাসল না বানালে স্কিন ঝুলবে। থাই কমাতে লাগবে ‘স্ট্রেংথ + স্ট্রেচিং’।

ভুল ধারণা ভাঙুন: স্পট রিডাকশন হয় না

শুধু থাই-এর ব্যায়াম করলে শুধু থাই-এর ফ্যাট কমবে – এটা ভুল। বডি যেখান থেকে খুশি ফ্যাট বার্ন করে। কিন্তু টার্গেটেড যোগা আর স্ট্রেচিং করলে ওই জায়গার মাসল টাইট হয়, শেপ আসে, সেলুলাইট কমে। ফলে থাই স্লিম লাগে। সাথে ফুল বডি ফ্যাট লস ডায়েট মাস্ট।

রোজ ১৫ মিনিট – থাই ফ্যাট ঝরানোর ৫টা যোগাসন

ওয়ার্ম আপ: ২ মিনিট জায়গায় দাঁড়িয়ে হাঁটুন।

১. উৎকটাসন বা চেয়ার পোজ – ৪৫ সেকেন্ড x ৩ সেট

কীভাবে: পা জোড়া করে দাঁড়ান। শ্বাস নিয়ে হাত উপরে তুলুন। শ্বাস ছেড়ে হাঁটু ভেঙে চেয়ারে বসার মতো করুন। থাই প্যারালাল টু ফ্লোর। পিঠ সোজা।

কাজ: থাই, হিপ, কাফ বার্ন হয়। ব্যালান্স আসে। ৩০ সেকেন্ড পর থাই কাঁপবে – মানে কাজ হচ্ছে।

২. বীরভদ্রাসন ২ বা ওয়ারিয়র ২ – ৩০ সেকেন্ড প্রতিটা পা x ২ সেট

কীভাবে: ৪ ফুট ফাঁক করে দাঁড়ান। ডান পা ৯০ ডিগ্রি ঘোরান। বাম পা সামান্য ভিতরে। হাত দুদিকে কাঁধ বরাবর। ডান হাঁটু ভাঁজ করুন। থাই ফ্লোর প্যারালাল। দৃষ্টি ডান হাতের আঙুলে।

কাজ: ইনার থাই, আউটার থাই, হিপ ওপেন হয়। জেদি স্যাডলব্যাগ ফ্যাটে হিট করে।

৩. সেতুবন্ধাসন বা ব্রিজ পোজ – ১ মিনিট x ৩ সেট

কীভাবে: চিত হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করুন। পা হিপের কাছে। হাত শরীরের পাশে। শ্বাস নিয়ে কোমর, পিঠ, থাই উপরে তুলুন। থাই আর হাঁটু প্যারালাল রাখুন। ৫ সেকেন্ড হোল্ড করে নামুন।

কাজ: গ্লুটস আর হ্যামস্ট্রিং টোন হয়। লোয়ার ব্যাক পেইন কমে। থাই-এর পিছনের ফ্যাট ঝরে।

৪. বদ্ধ কোণাসন বা বাটারফ্লাই স্ট্রেচ – ২ মিনিট

কীভাবে: বসে পায়ের পাতা জোড়া করুন। হাত দিয়ে পা ধরুন। হাঁটু উপর-নিচ প্রজাপতির মতো নাড়ান। কোমর থেকে সামনে ঝুঁকুন।

কাজ: ইনার থাই-এর জমা ফ্যাট, পিরিয়ডের ব্যথা, PCOS-এর স্টিফনেস কমায়। হিপ ওপেন হয়।

৫. অনন্তাসন বা স্লিপিং বিষ্ণু পোজ – ৩০ সেকেন্ড প্রতিটা পা x ২ সেট

কীভাবে: বাম কাতে শুয়ে বাম হাতে মাথা রাখুন। ডান পা সোজা উপরে তুলুন। ডান হাত দিয়ে বুড়ো আঙুল ধরুন। পা সোজা রাখুন।

কাজ: আউটার থাই, লাভ হ্যান্ডেল, সাইড ফ্যাট টার্গেট করে। থাই গ্যাপ আনতে বেস্ট।

কুল ডাউন: শেষে ২ মিনিট শবাসন। শরীর রিল্যাক্স করুন।

৭ দিনে রেজাল্ট পেতে ৩টা এক্সট্রা টিপস

১. প্রোটিন বাড়ান: ডায়েটে ডিম, ডাল, পনির, চিকেন রাখুন। মাসল বানাতে প্রোটিন লাগে। মাসল বাড়লে ফ্যাট বার্ন বেশি হয়।

২. জল + হাঁটা: দিনে ৩ লিটার জল। আর বসে কাজ করলে প্রতি ৪৫ মিনিটে ২ মিনিট উঠে হাঁটুন। গ্লুটস অ্যাক্টিভ থাকবে।

৩. হরমোন টেস্ট: ৩ মাস চেষ্টা করেও না কমলে একবার PCOS, থাইরয়েড, ইনসুলিন টেস্ট করান। রোগ সারালে থাই এমনি কমবে।

শেষ কথা:

মেয়েদের থাই-এ ফ্যাট জমা ন্যাচারাল। একে ঘেন্না করবেন না। কিন্তু আনহেলদি ফ্যাট জমতে দেবেন না।

জিমে যেতে হবে না। দামি ইকুইপমেন্ট লাগবে না।

শুধু রোজ ১৫ মিনিট ম্যাটে সময় দিন। ১ মাস পর জিন্স লুজ হবে, কনফিডেন্স টাইট হবে।

কারণ স্লিম থাই শুধু সৌন্দর্য নয়, স্ট্রং হরমোন আর হেলদি লাইফের প্রমাণ।