অনেক সময় দেখে থাকবেন, কুকুর হঠাৎ করে কিছু বিশেষ মানুষের দিকে তাকিয়ে তীব্র চিৎকার শুরু করে দেয়। সাধারণ ঘটনা মনে হলেও এর পিছনে রয়েছে কুকুরের সংবেদনশীল মানসিক আচরণ এবং ঘ্রাণ শক্তির ব্যাখ্যা।

এখন মানুষের সঙ্গে পোষ্যের সম্পর্ক ভীষণ বন্ধুত্বের। বিশেষ করে কুকুর এখন শুধু আর মানুষের প্রহরী হিসেবেই থাকে না, বরং মানুষের আবেগ, মেজাজ ও স্বাস্থ্যের সূক্ষ্ম পরিবর্তনও বুঝে নিতে সক্ষম। অনেক সময় দেখা যায়, কুকুর হঠাৎ করে কিছু বিশেষ মানুষের দিকে তাকিয়ে তীব্র চিৎকার শুরু করে দেয়। চেনা- অচেনা অনেককে দেখলেই এমন আচরণ করে। সাধারণ ব্যবহার মনে হলেও এর পিছনে রয়েছে কুকুরের গভীর মানসিকতা এবং ঘ্রাণ শক্তির ব্যাখ্যা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কেন কুকুর কিছু মানুষকে দেখলেই চিৎকার করে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কুকুরের নিরাপদ স্থান হল শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী মানুষের সংস্পর্শ। এই সকল ব্যক্তির কোলেই আশ্রয় খোঁজে তারা। আর তাই তারা স্নেহের স্পর্শ পেলে লেজ নাড়িয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করে। তবে কুকুরের ঘ্রাণশক্তি এবং মানসিক বোঝাপড়ার ক্ষমতা অত্যন্ত প্রখর। তারা মানুষের শরীর থেকে নিঃসৃত গন্ধ যেমন অ্যালকোহল, অতিরিক্ত পারফিউম, বা স্ট্রেস-সৃষ্ট হরমোনের গন্ধ সহজেই শনাক্ত করতে পারে।

* অ্যালকোহল বা তীব্র সুগন্ধি : মাতাল বা ভারী পারফিউম ব্যবহারকারী ব্যক্তি বা আপনার গায়ে অন্য পশু পাখির গন্ধ পেলে, কুকুর বিভ্রান্ত হয় ও সতর্ক হয়ে থাকে, তখন চিৎকার করে।

* মানসিক চাপ ও উদ্বেগ : স্ট্রেসযুক্ত মানুষের শরীরের রাসায়নিক পরিবর্তন, যেমন কর্টিসল হরমোন নিঃসরণ হয়। যেমন কেউ যদি হঠাৎ হাত নাড়ে দ্রুতগতিতে হাঁটতে শুরু করে কিংবা চোখের সংস্পর্শে এগোতে শুরু করে। মানুষ এমন আচরণ করলে তারা ভয়ে ধরে যায়। তৎক্ষণাৎ তারা নিজেদের বাঁচানোর জন্য চিৎকার করে ওঠে।

* অতীত অভিজ্ঞতা : কোনও ব্যক্তি কুকুরকে ভয় দেখিয়েছিল বা আঘাত করেছিল, তার মতো ঘ্রাণ, কণ্ঠস্বর বা একই রঙের পোশাক পেলেই কুকুর আগের স্মৃতি মনে করে উত্তেজনা বা ভয়ে চিৎকার শুরু করতে পারে।

* নিজ এলাকা রক্ষা : কুকুর যে নির্দিষ্ট পাড়ার মধ্যে ঘুরে বেড়ায় সেটাকেই নিজের স্থায়ী থাকার জায়গা বলে ভেবে নেয়। তাই নতুন কোনও মানুষকে সেই অঞ্চল বা পাড়ায় প্রবেশ করতে দেখলে তাকে সতর্ক করে এবং চিৎকার করে জানিয়ে দেয় যে ‘এটি আমার এলাকা’।

পরিস্থিতি সামলাতে কীভাবে কী করবেন?

* কুকুর চিৎকার করে আপনার সামনে গিয়ে আসলে প্রথমে তাকে শান্তভাবে আপনার ঘ্রাণ নিতে দিন।

* চোখে চোখ রেখে আগ্রাসী হওয়ার আচরণ করবেন না।

* যদি কুকুর ভয় পাচ্ছে মনে হয়, তাহলে ধীরভাবে সরে যান। আপনি ভয় পেলে বা উত্তেজনা প্রকাশ করলে সে আরও ভয় পাওয়ানোর জন্য চিৎকার বা হামলা করতে পারে।

* কুকুরকে অকারণে বিরক্ত না করে নিজের সাবধানতা অবলম্বন করে এগিয়ে গেলেই কুকুর আর বেশি কিছু করেনা।

* কুকুরের এলাকাকে সম্মান করুন— তাদের বিশ্রাম নেয়ার জায়গায় হঠাৎ ঢুকে পড়বেন না।