রাতে ভেজা চুলে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে সতর্ক হন। এই অভ্যাসের ফলে স্ক্যাল্পে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে এবং চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে চুল ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। যদিও এটি সরাসরি চুল পড়ার কারণ নয়, তবে নিয়মিত এই ভুলের জন্য চুলের ঘনত্ব কমে যেতে পারে।
জিমে ওয়ার্কআউট বা সারাদিনের খাটুনির পর রাতে স্নান করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। ঘাম আর ময়লা ধুয়ে ফ্রেশ হওয়ার জন্য এটা নিঃসন্দেহে খুব ভালো। কিন্তু চুল পুরোপুরি না শুকিয়ে ভেজা চুলে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস কি আপনারও আছে? থাকলে কিন্তু সতর্ক হতে হবে।

কেন ভেজা চুলে ঘুমানো উচিত নয়?
ভেজা চুলে ঘুমালে যে অস্বস্তি হয়, তা ছাড়াও এর কিছু ডাক্তারি কারণও রয়েছে। এই অভ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় আপনার স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকের। এতে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। কারণ, ভেজা চুলে ঘুমালে স্ক্যাল্প অনেকক্ষণ ধরে স্যাঁতসেঁতে থাকে। এই স্যাঁতসেঁতে আর উষ্ণ পরিবেশে ফাঙ্গাস ও অন্যান্য জীবাণু জন্মানোর জন্য আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়
স্ক্যাল্পের সমস্যা ছাড়াও, ভেজা চুলে ঘুমালে চুলের গোড়াও দুর্বল হয়ে পড়ে। ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে বেশি দুর্বল থাকে। এই সময় বালিশের সঙ্গে ঘষা লেগে চুল সহজেই ছিঁড়ে যেতে পারে। এছাড়া চুলের ডগা ফেটে যাওয়া এবং চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।
এর ফলে কি চুল পড়তে পারে?
ভেজা চুলে ঘুমানো সরাসরি চুল পড়ার কারণ না। তবে, বারবার চুল ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে ধীরে ধীরে চুলের ঘনত্ব কমে আসতে পারে। আসল কথা হলো, ভুল করে একদিন ভেজা চুলে ঘুমিয়ে পড়লে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যাদের স্ক্যাল্প স্বাস্থ্যকর, তাদের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে বড় কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু এটা যদি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে ওপরে বলা সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে চুল অন্তত কিছুটা শুকিয়ে নিন। প্রয়োজনে হেয়ার ড্রায়ারের ‘কুলার মোড’ ব্যবহার করে চুল শুকিয়ে নিতে পারেন।


