ENT: সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোচ্ছে না, কথা বলতে গেলেই ফ্যাঁসফ্যাঁসে শব্দ। ঠান্ডা লাগলেই এই সমস্যায় আমরা সবাই ভুগি। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, সামান্য ঠান্ডা লাগলেই গলার স্বর কেন ভেঙে যায়? এর পিছনে রয়েছে ভোকাল কর্ডের এক আশ্চর্য বিজ্ঞান। কী বলছেন ENT বিশেষজ্ঞরা?

ENT Advice: শীতকাল এলেই এই সমস্যা। রাতে একটু ঠান্ডা লাগল, বা আইসক্রিম খেলেন, সকালবেলা উঠে দেখলেন গলা বসে গেছে। কথা বলতে গেলে ব্যথা, গলায় যেন কিছু আটকে আছে। গান গাইতে গেলে তো কথাই নেই। একে ডাক্তারি ভাষায় বলে ‘ল্যারিঞ্জাইটিস’।

গলার ভিতরে আসলে কী হয়?

আমাদের গলার ভিতরে, শ্বাসনালীর ওপরে থাকে ভয়েস বক্স বা ল্যারিংক্স। তার ভিতরে থাকে দুটি পাতলা, সাদা পর্দার মতো ভোকাল কর্ড। আমরা যখন কথা বলি, তখন ফুসফুস থেকে আসা হাওয়ায় এই দুটি কর্ড প্রতি সেকেন্ডে ১০০ থেকে ২০০ বার কাঁপে। আর সেই কম্পন থেকেই আমাদের স্বর তৈরি হয়। ENT বিশেষজ্ঞ বলছেন, "ভোকাল কর্ড দুটো একদম সাধারণ অবস্থায় চকচকে, পাতলা থাকে। তাই স্বর পরিষ্কার হয়।"

কিন্তু ঠান্ডা লাগলে কী হয়?

১. ঠান্ডা লাগা মানে ভাইরাস ইনফেকশন। সেই ভাইরাস নাক থেকে গলা হয়ে ল্যারিংক্সে নামে। ২. ভাইরাসের আক্রমণে ভোকাল কর্ড ফুলে যায়, লাল হয়ে যায়। একে বলে ইনফ্লেমেশন। ৩. ফুলে যাওয়ার ফলে কর্ড দুটো মোটা হয়ে যায়। আর মোটা পর্দা ভালোভাবে কাঁপতে পারে না। অনেকটা ঢোলের চামড়া ঢিলে হয়ে গেলে যেমন আওয়াজ বদলে যায়, তেমনই। ৪. অনেক সময় কর্ডের ওপর আঠালো কফ বা মিউকাস জমে যায়, ফলে স্বর আরও ঘড়ঘড়ে, ফ্যাঁসফ্যাঁসে শোনায়।

তাই আপনার গলা ভাঙা আসলে আপনার শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকেত— ভিতরে যুদ্ধ চলছে।

কখন চিন্তা করবেন? কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

সাধারণ ঠান্ডা লাগার কারণে গলা ভাঙা ৩ থেকে ৫ দিনে নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু এই লক্ষণগুলো থাকলে অবশ্যই ENT দেখান—

- ১০-১৪ দিনের বেশি গলা বসে থাকলে - গলায় খুব ব্যথা, ঢোক গিলতে কষ্ট হলে - জ্বরের সঙ্গে রক্তমাখা কফ বেরোলে - শ্বাস নিতে কষ্ট হলে - আপনি যদি ধূমপায়ী হন এবং প্রায়ই গলা ভাঙে

গলা ভাঙলে কী করবেন, কী করবেন না? 

ENT-র টোটকা— করবেন: - ভয়েস রেস্ট: সবচেয়ে জরুরি। ফিসফিস করেও কথা বলবেন না। ফিসফিস করলে কর্ডে আরও চাপ পড়ে। প্রয়োজনে লিখে কথা বলুন। - গরম জলে গার্গল: দিনে ৩-৪ বার নুন-গরম জলে গার্গল করুন। - জল খান: গলা ভিজে থাকলে কর্ড তাড়াতাড়ি ঠিক হয়। উষ্ণ জল, তুলসী-আদা চা খান। মধু খেতে পারেন, এটি কোটিংয়ের কাজ করে। - স্টিম নিন: গরম জলের ভাপ নিলে ফোলা কমে।

করবেন না: - ঠান্ডা জল, আইসক্রিম, ধূমপান, অ্যালকোহল একদম নয়। - চিৎকার করে কথা বলা, গান গাওয়া, গলা খাঁকারি দেওয়া— এতে কর্ড ছিঁড়ে যেতে পারে। - নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। ৯০% ক্ষেত্রে এটি ভাইরাল, অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ হয় না।

মনে রাখবেন, আপনার গলার স্বর আপনার পরিচয়। সামান্য ঠান্ডা লেগে গলা ভাঙাকে হালকাভাবে নেবেন না। একটু বিশ্রাম আর যত্ন নিলেই আবার আপনার চেনা স্বর ফিরে আসবে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।