একটা সময় ছিল যখন মেয়েরা ১৪ বছরেই রান্না শিখে যেত। এখন ২৫-৩০ এর ছেলেমেয়েরাও রান্নাঘরে ঢুকতে চায় না। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে শহরের ৭০% তরুণ সপ্তাহে ১ দিনের বেশি রান্না করে না। এর পেছনে লুকিয়ে আছে ৪টি বড় কারণ।

"আজ রাতে কী খাব?" — এই প্রশ্নের উত্তর এখন "Zomato খুলে দেখি"। ঠাকুমা-দিদিমার আমলে সকাল থেকে রাত হেঁশেলেই কেটে যেত। আর এখন অফিস ফেরত তরুণ-তরুণীদের কাছে রান্না মানেই বাড়তি ঝামেলা। রান্নাঘরটা শুধু ফ্রিজ আর মাইক্রোওভেন রাখার জায়গা হয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ কেন এই অনীহা? অলসতা নাকি অন্য কিছু?

প্রথম কারণ হল সময় আর এনার্জির অভাব। আগের দিনে যৌথ পরিবার ছিল। রান্নার কাজ ভাগাভাগি হয়ে যেত। এখন বেশিরভাগই একা থাকে বা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরি করে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা অফিস, তারপর জিম, বন্ধু, Netflix। এই রুটিনের পর বাড়ি ফিরে ১ ঘণ্টা ধরে বাজার, কাটা-বাটা, রান্না, বাসন মাজার এনার্জি থাকে না।

দ্বিতীয় কারণ হল রান্নাকে এখন "কাজ" মনে হয়, "শখ" নয়। আগের প্রজন্মের কাছে রান্না ছিল ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম। এখনকার কাছে এটা একটা স্ট্রেসফুল প্রসেস। প্রথমে ভাবো কী রান্না করবে, তারপর বাজার, তারপর কাটা, রান্না, আর সবশেষে পাহাড় সমান বাসন। এই পুরো চক্করটাই বিরক্তিকর। তার থেকে অ্যাপ খুলে ১০ মিনিটে খাবার অর্ডার করা অনেক সহজ আর মানসিক শান্তির।

তৃতীয় কারণ স্কিল আর ধৈর্যের অভাব। YouTube এ হাজারো রেসিপি আছে ঠিকই, কিন্তু "আন্দাজ মতো" রান্না শেখায় না কেউ। একবার ডাল পুড়ে গেলে বা তরকারিতে ঝাল বেশি হলে আত্মবিশ্বাস তলানিতে। তারপর মনে হয়, "৩০ মিনিট কষ্ট করে যা বানাব, ২০০ টাকায় তার থেকে ভালো বিরিয়ানি পেয়ে যাব।" তাই চেষ্টা করার ইচ্ছেটাই মরে যায়। ছোটবেলা থেকে মা-বাবা দুজনেই ব্যস্ত থাকায় রান্নার হাতেখড়িও হয়নি অনেকের।

চতুর্থ এবং সবচেয়ে বড় কারণ হল ডেলিভারি অ্যাপ আর সোশ্যাল মিডিয়া। Swiggy, Zomato, Blinkit — ২০ মিনিটে খাবার দরজায়। আবার Instagram Reels এ রোজ নতুন নতুন রেস্তোরাঁর খাবার দেখে বাড়ির ডাল-ভাত একদম "boring" লাগে। ফলে রান্নাঘরের প্রতি আকর্ষণ কমেছে। কিন্তু পুষ্টিবিদরা সাবধান করছেন। রোজ বাইরের খাবার খেলে সুগার, প্রেসার আর ওবেসিটির ঝুঁকি বাড়ে। তাই তাঁরা বলছেন "Smart Cooking" করতে। যেমন সপ্তাহে ১ দিন সবজি কেটে রাখা, Instant Pot, এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করা, বা ১৫ মিনিটের সহজ রেসিপি।

তরুণ প্রজন্ম অলস নয়। তারা সময়ের দাম বোঝে। কিন্তু স্বাস্থ্য আর পকেট দুটো বাঁচাতে গেলে হেঁশেলে ফিরতেই হবে। রোজ না হলেও সপ্তাহে ৩ দিন। রান্নাকে বোঝা না ভেবে নিজের জন্য সময় ভাবুন।