গ্রিসের এক মহিলা এক বিরল রোগে আক্রান্ত হন যেখানে তাঁর হাঁচির সঙ্গে নাক থেকে জ্যান্ত পোকা ও লার্ভা বেরিয়ে আসছিল। চিকিৎসায় জানা যায়, তিনি মায়াসিস রোগে আক্রান্ত, যা শিপ বট ফ্লাই নামক এক পতঙ্গের লার্ভা শরীরে প্রবেশ করার ফলে হয়। 

হাঁচলেই বেরিয়ে আসছে জ্যান্ত পোকা। কখনও বেরিয়ে আসছে পোকার লাভা। নাকের ভিতরে জন্মাচ্ছে লাভা। এক মহিলা আক্রান্ত হয়েছেন এমন রোগে। নাকের ভিতর অসহ্য যন্ত্রণা ও শয়ে শয়ে পোকার লার্ভা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। জানা যায় তিনি মায়াসিস নামে রোগে আক্রান্ত।

কী এই মায়াসিস?

জানা যায়, মহিলার শরীরে যে পতঙ্গ ঢুকেছিল সেটি শিপ বট ফ্লাই। ভেড়া ও ছাগলের শরীরে জন্মায় এমন পতঙ্গ। মানুষের সঙ্গে এদের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকলে এবং পোকার ডিম বা লার্ভা মিশে আছে এমন খাবার, আধসেদ্ধ মাংস খেলে এই পোকা শরীরে ঢুকে যেতে পারে। যে মহিলা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি গ্রিসের বাসিন্দা। তেমনই যেখানে থাকতেন সেখানে ভেড়ার খামার ছিল।

কীভাবে ছড়ায় এই রোগ?

এই পোকার ডিম বা লার্ভা শরীরে ঢুকলে তা রক্ত বা প্লাজমা বাহিত হয়ে কোষে চলে যায়। ধীরে ধীরে তা পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়। শরীরের যে কোনও অঙ্গে তা বাসা বাঁধতে পারে। যেমন নাক, চোখের কোণ, মুখগহ্বরের লালা, অন্ত্র বা ত্বক। জানান যায় গ্রিসের এই মহিলার শরীরে যে পোকাগুলো ছিল তা পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে শুরু করে। তাই হাঁচির সঙ্গে সেগুলো বেরিয়া আসতে থাকে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মহিলার নাক ও সাইনাস থেকে মোট ১০টি জীবন্ত লার্ভা ও পিউপা বের হয়। বাকিগুলোর ভিতরেই মৃত্যু হয়। জানা যায়, পরজীবীরা শরীরের ভিতরে যে কোনও অবস্থায় ও তাপমাত্রায় মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই আক্রান্তের প্রাণসংশয়ও হতে পারে।

তাই সময় থাকতে সচেতন হন। শরীরে কোনও রকম সমস্যা দেখা দিলে তৎক্ষণাত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আপনিও হতে পারেন মায়াসিস নামক রোগের শিকার। নাকে বা শরীরের কোনও অংশে ব্যথা হলে তা উপেক্ষা করবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অজান্তে এমন বিরল রোগ বাসা বাঁধতে পারে শরীরে।