গ্রামের মাঠে-ঘাটে পড়ে থাকা বেল এখন শহরের হাই-এন্ড ক্যাফেতে ‘Bael Cooler’ নামে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আয়ুর্বেদ মতে বেল হল ন্যাচারাল বডি কুলার। এতে আছে ট্যানিন, মারমেলোসিন যা পেট ঠান্ডা রাখে, আলসার সারায়, হজম বাড়ায়

এসি-তে বসেও ঘামছেন? পেট জ্বলছে, মাথা ধরছে? ফ্রিজের ঠান্ডা জলেও শান্তি নেই? অথচ আপনার ঠাকুমা ৪০°C রোদে দিব্যি ঘুরতেন। সিক্রেট একটাই—বেলের শরবত। গ্রামের মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া সেই বেলই এখন ‘কোল্ড-প্রেসড জুস’ হয়ে শহরের মলে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

* বেল কেন ‘গরমের সুপারফুড’? ৪টে সায়েন্স

১. ন্যাচারাল এসি: বেলের শাঁসে আছে ট্যানিন আর মিউসিলেজ। এটা পেটের ভিতর একটা ঠান্ডা আবরণ তৈরি করে। ফলে বাইরে ৪৫°C হলেও শরীরের ভিতরটা ৩৭°C-এর নিচে থাকে। হিট স্ট্রোকের চান্স ৭০% কমে যায়।

২. অ্যাসিডিটির যম: রোজ ফাস্ট ফুড, তেল-মশলা খেয়ে বুক জ্বলে? বেলের শাঁস ক্ষারীয়। পেটের অ্যাসিড নিউট্রাল করে দেয়। গ্যাস, অম্বল, বুক জ্বালা ২০ মিনিটে কমে। ওষুধের দরকার নেই।

৩. পেটের ঝাড়ুদার: কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? কাঁচা বেল পেট পরিষ্কার করে, আর পাকা বেল লুজ মোশন বন্ধ করে। মানে এটা টু-ইন-ওয়ান। পেটের পুরনো রোগ, IBS, আলসার সারাতে আয়ুর্বেদে ৫০০০ বছর ধরে বেল ইউজ হচ্ছে।

৪. ইমিউনিটি বুস্টার: বেলে আছে ভিটামিন C, বিটা-ক্যারোটিন, রিবোফ্লাভিন। গরমে যে ভাইরাল ফিভার, সর্দি-কাশি হয়, সেটার বিরুদ্ধে ঢাল তৈরি করে। রক্তও পরিষ্কার করে, তাই স্কিনে গ্লো আসে।

ক্যাফের ২৫০ টাকা বনাম বাড়ির ২০ টাকা: রেসিপি

ঠাকুমার বেল পান্না রেসিপি – ৫ মিনিটে রেডি:

১. উপকরণ: ১টা পাকা বেল, ২ চামচ গুড়/মধু, ১ চিমটে বিটনুন, ১ চিমটে ভাজা জিরে গুঁড়ো, পুদিনা পাতা, ঠান্ডা জল।

২. পদ্ধতি: বেল ফাটিয়ে শাঁস বের করুন। ১ গ্লাস জলে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। হাত দিয়ে ভালো করে চটকে ছেঁকে নিন। এবার গুড়, বিটনুন, জিরে গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। উপরে বরফ আর পুদিনা পাতা দিন। হয়ে গেল ২০ টাকার ‘Bael Cooler’।

৩. প্রো টিপস: ডায়াবেটিস থাকলে গুড় দেবেন না। বিটনুনের বদলে সৈন্ধব লবণ দিন। আরও ঠান্ডা করতে চাইলে শাঁসটা রাতে ফ্রিজে রেখে সকালে শরবত বানান।

* কখন খাবেন, কখন খাবেন না? ৩টে নিয়ম :

১. বেস্ট টাইম: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে। এই সময় রোদের তেজ সবচেয়ে বেশি। খালি পেটে খাবেন না, ব্রেকফাস্টের ১ ঘণ্টা পর খান।

২. খাবেন না: রাত ৮টার পর বেল খেলে সর্দি-কাশি হতে পারে। কারণ এটা অত্যন্ত ঠান্ডা। গর্ভবতী মহিলারা কাঁচা বেল খাবেন না, পাকা বেল অল্প খেতে পারেন ডাক্তারের পরামর্শে।

৩. কতটা খাবেন: রোজ ১ গ্লাস যথেষ্ট। বেশি খেলে পেট আইঢাই করতে পারে। সপ্তাহে ৪-৫ দিন খান।

* কাঁচা বেল vs পাকা বেল: কোনটা কখন?

১. কাঁচা বেল: ডায়েরিয়া, আমাশার মহৌষধ। কাঁচা বেল পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে শাঁসটা খেলে ১ দিনে পেট নরমাল।

২. পাকা বেল: কোষ্ঠকাঠিন্য, গরম, অ্যাসিডিটির জন্য। শরবত, মোরব্বা সব পাকা বেল দিয়েই হয়। বাজার থেকে কেনার সময় দেখবেন বেলটা যেন ভারী হয় আর হালকা মিষ্টি গন্ধ বের হয়।