বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের অভাব, বিশেষ করে ভিটামিন ডি, ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। এই ভিটামিনের ঘাটতি মেটাবলিজম কমিয়ে দেয় এবং খিদে নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের কাজে বাধা দেয়, যার ফলে ওজন বাড়ে।
আজকাল অনেকেই বাড়তি ওজনের সমস্যায় ভুগছেন। ওজন বাড়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে, আর এর ফলে শরীরে বাসা বাঁধে নানা রোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আপনার রোজকার খাবারে ক্যালোরি বেশি থাকে কিন্তু জরুরি পুষ্টি কম থাকে, তাহলে একদিকে যেমন মোটা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, তেমনই পুষ্টির অভাবও দেখা দেয়।

সাধারণত, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ওজন বাড়ে। তবে অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের অভাবও এর কারণ হতে পারে। ভিটামিনের ঘাটতি হলে শরীরের মেটাবলিজম বা হজমশক্তি ঠিকমতো কাজ করে না, সারাক্ষণ ক্লান্তি লাগে এবং খিদেও বেড়ে যায়। এর ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, যা ওজন বাড়িয়ে দেয়।
শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখতে ভিটামিন ডি খুব জরুরি। এই ভিটামিনের অভাব হলে মেটাবলিজমের হার কমে যায়। শুধু তাই নয়, লেপটিন ও গ্রেলিনের মতো হরমোন, যা আমাদের খিদে নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলোর কাজেও গোলমাল দেখা দেয়। ফলে খিদে বেড়ে যায় এবং মানুষ বেশি খেতে শুরু করে। ভিটামিন ডি পাওয়ার সেরা উপায় হলো সূর্যের আলো। এছাড়া মাছ, ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাশরুমের মতো খাবার থেকেও এই ভিটামিন পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, ভিটামিন বি১২-এর অভাবে শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা আসে। এর ফলেও ওজন বাড়তে পারে। মাছ, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়। পাশাপাশি, দানাশস্য, পালং শাক, সাইট্রাস ফল ইত্যাদি থেকেও বি ভিটামিন মেলে। বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন যে, ডায়েটে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফাইবার, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো পুষ্টির অভাব থাকলেও ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে।


