বর্ষাকালে আর্দ্র আবহাওয়া ও দূষিত জলের কারণে ডায়েরিয়া, বমি ও ফুড পয়জনিংয়ের মতো পেটের সংক্রমণ বেড়ে যায়। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে ফুটিয়ে জল খাওয়া, হাত পরিষ্কার রাখা, রাস্তার খাবার এড়িয়ে চলা এবং টাটকা খাবার খাওয়ার মতো সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
গরম থেকে বাঁচতে বর্ষা স্বস্তি নিয়ে এলেও সঙ্গে আনে একগাদা শারীরিক সমস্যা। বিশেষ করে এই সময় পেটের সংক্রমণ খুব বেড়ে যায়। ডায়েরিয়া, বমি, পেট ব্যথা, বদহজম আর ফুড পয়জনিংয়ের মতো সমস্যা হামেশাই দেখা যায়। এর কারণ হল, বৃষ্টির জল পানীয় জলের উৎসের সঙ্গে মিশে যায় আর আবহাওয়াটাও ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসদের বেড়ে ওঠার জন্য একেবারে আদর্শ হয়ে ওঠে।

কেন বর্ষায় পেটের সংক্রমণ বাড়ে?
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ক্ষতিকর জীবাণুরা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। ভারী বৃষ্টির ফলে নোংরা জল আর আবর্জনা পানীয় জলের উৎসে মিশে যাওয়ার ভয় থাকে। আবার এই স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় খাবারও তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। খোলা বা ঠিকমতো ঢাকা না দেওয়া খাবারে জীবাণু সহজেই আক্রমণ করে। রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া খাবারে বৃষ্টির জল, ধুলো আর মাছি বসার কারণে বর্ষায় তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এই লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না
- পেটের সংক্রমণ নানা রকম হলেও, কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
- কিছুতেই পেট খারাপ কমছে না (ডায়েরিয়া)
- বমি বমি ভাব আর বমি হওয়া
- তলপেটে ব্যথা বা মারাত্মক পেট ব্যথা
- পেট ফুলে থাকা আর বদহজম
- জ্বর আসা
- খিদে না পাওয়া
- শরীর দুর্বল লাগা ও ডিহাইড্রেশন (শরীরে জলের অভাব)
যদি এই লক্ষণগুলো দু'দিনের বেশি থাকে, শরীরে জলের মারাত্মক অভাব দেখা দেয়, মলের সঙ্গে রক্ত বেরোয় বা খুব বেশি জ্বর আসে, তাহলে একদম দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সুস্থ থাকতে এই সতর্কতাগুলো মেনে চলুন
১. ফুটিয়ে ঠান্ডা করা জল খান
বর্ষার বেশিরভাগ রোগের মূল কারণ দূষিত জল। তাই ফিল্টার করা বা ভালো করে ফোটানো জল ছাড়া অন্য কিছু খাবেন না।
২. হাত পরিষ্কার রাখুন
খাওয়ার আগে, টয়লেট ব্যবহারের পরে আর বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। জীবাণু ছড়ানো আটকানোর এটা সবচেয়ে সহজ আর কার্যকর উপায়।
৩. রাস্তার খাবার এড়িয়ে চলুন
বর্ষাকালে রাস্তার ধারে খোলা খাবার, কাঁচা স্যালাড বা কেটে রাখা ফল খাবেন না। কারণ এতে মাছি বসে এবং ধুলোবালি মেশে। সবসময় গরম গরম তৈরি করা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
৪. ফল-সবজি ভালো করে ধুয়ে নিন
শাকসবজি আর ফলের মধ্যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে সবজি ভালো করে ধুয়ে নিন। সম্ভব হলে ফলের খোসা ছাড়িয়ে খান।
৫. বাসি খাবার খাবেন না
স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় খাবার খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। তাই ফ্রিজের বাইরে অনেকক্ষণ ধরে রাখা বাসি খাবার একদম খাবেন না। সবসময় টাটকা রান্না করা খাবার খাওয়াই নিরাপদ।
৬. খাবার ঠিকমতো গুছিয়ে রাখুন
দুধ, মাংস বা রান্না করা খাবার নষ্ট হওয়ার আগেই ঠিক সময়ে ফ্রিজে রাখুন। এতে ব্যাকটেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত আটকানো যায় আর ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকিও কমে।
৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান
ফল, সবজি, প্রোটিন আর প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ সুষম খাবার খেলে পেটের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ডায়েরিয়ার মতো সমস্যা হলে শরীরে জলের ভাগ ঠিক রাখতে বিশেষ নজর দিন।


