বর্তমানে ৯০% মা-বাবার একটাই সমস্যা - মোবাইল ছাড়া বাচ্চা মুখ খোলে না। খাওয়াতে গেলে যুদ্ধ শুরু হয়। কার্টুন, ইউটিউব, গেম - স্ক্রিন ছাড়া ১ চামচ ভাতও না। কিন্তু রোজ মোবাইল দিলে বাচ্চার চোখ, মন, খিদে - সব নষ্ট হচ্ছে। ৩টি সহজ উপায় ফলো করলে মোবাইল ছাড়াই বাচ্চা খাবে, তাও হাসতে হাসতে।
মোবাইল দিয়ে খাওয়ানো কেন বিপদ বাচ্চা যখন কার্টুন দেখে খায়, ওর মস্তিষ্ক বোঝেই না ও কী খাচ্ছে। "মাইন্ডলেস ইটিং" হয়। ফলে হজমের সমস্যা, ওবেসিটি, মনোযোগের অভাব। আবার স্ক্রিনের নীল আলো চোখের ১২টা বাজায়। সবচেয়ে বড় ক্ষতি - বাচ্চা "খিদে" আর "তৃপ্তি" বুঝতে শেখে না। বড় হয়ে ও খাবারকে ভালোবাসবে না, মোবাইলকে ভালোবাসবে। সদ্য মা-বাবা হলে এখনই স্টপ করো।

উপায় ১: "খাবারকে গল্প বানাও", মোবাইলকে না: বাচ্চা গল্প ভালোবাসে। ভাত = পাহাড়, ডাল = নদী, আলুভাজা = গাড়ি। "ট্রেন আসছে, স্টেশন ঢুকছে" - এই খেলা ২ বছরের বাচ্চাও বোঝে। প্লেটটাকে ওর খেলনা বানাও। চামচ দিয়ে আওয়াজ করো, মুখে হাসি রাখো। প্রথম ৭ দিন কষ্ট হবে। ৮ম দিন থেকে বাচ্চা নিজেই চামচ চাইবে। কারণ ওর মস্তিষ্কে "খাওয়া = মজা" কানেকশন তৈরি হবে, "খাওয়া = মোবাইল" না।
উপায় ২: "ফ্যামিলি টেবিল রুল" চালু করো বাড়ির নিয়ম ১টাই - খাবার টেবিলে কারও ফোন চলবে না। মা, বাবা, দাদু, ঠাকুমা - সবার ফোন সাইলেন্ট, ড্রয়ারে। বাচ্চা দেখবে সবাই একসাথে খাচ্ছে, গল্প করছে। ও কপি করবে। বাচ্চা যা দেখে তাই শেখে। তুমি রিলস দেখে খেলে ও মোবাইল চাইবে। তুমি গল্প করে খেলে ও গল্প চাইবে। ১৪ দিন এই রুল মানো, বাচ্চার অভ্যাস বদলে যাবে।
উপায় ৩: "খিদে তৈরি করো", জোর করো না: মোবাইল দেওয়ার আসল কারণ - বাচ্চার খিদে নেই। কারণ সারাদিন চিপস, বিস্কুট, চকলেট খায়। খাওয়ার ২ ঘণ্টা আগে সব প্যাকেট ফুড বন্ধ। বাচ্চাকে দৌড়াতে দাও, খেলতে দাও, ঘাম ঝরাতে দাও। খিদে পেলে বাচ্চা নিজেই "মা ভাত দাও" বলবে। জোর করে ১ চামচও খাওয়াতে হবে না। মনে রাখো - সুস্থ বাচ্চা কখনো না খেয়ে মরে না।
৩টি ভুল যা করছো তুমি : ১. "১ চামচের জন্য কার্টুন": আজ ১ চামচ, কাল পুরো প্লেট। বাচ্চা ব্ল্যাকমেইল শিখে যায়। ২. দৌড়ে দৌড়ে খাওয়ানো: বাচ্চার পিছনে থালা নিয়ে দৌড়ালে ও খেলনা ভাবে। টেবিলে বসার অভ্যাস নষ্ট হয়। ৩. রেগে গিয়ে ধমকানো: খাওয়া নিয়ে মারামারি করলে বাচ্চা খাবারকে ভয় পাবে। খাওয়া হবে শাস্তি।
শেষ কথা মোবাইল হলো শর্টকাট। শর্টকাটে বাচ্চা বড় হয় না, নষ্ট হয়। প্রথম ১০ দিন তোমার ধৈর্যের পরীক্ষা হবে। বাচ্চা কাঁদবে, তুমিও কাঁদবে। কিন্তু ১তম দিন থেকে বাচ্চা নিজে হাতে ভাত মাখাবে। সেদিন বুঝবে - মা হওয়া/বাবা হওয়া মানে যুদ্ধ জেতা।
এটা সাধারণ প্যারেন্টিং অভিজ্ঞতা থেকে লেখা। বাচ্চার গ্রোথ, ওজন নিয়ে চিন্তা থাকলে শিশু ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ২ বছরের কম বাচ্চার স্ক্রিন টাইম একদম জিরো রাখাই ভালো।


