খাদ্য শরীরের গঠন, বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পুষ্টিবিজ্ঞানে কাঁচা সবজি সবচেয়ে বেশি পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ বলে মনে করা হয়। এর কারন হল, রান্না করলেই খাদ্যের পুষ্টিগুন নষ্ট হয়ে যায়। তাই শরীর সুস্থ রাখতে খাবারের যেমন প্রয়োজন, একইভাবে টাটকা খাবার খাওয়াও প্রয়োজন। এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলি একবার রান্না করার পর, খাবার সময়ে আবারও তা গরম করে খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে যে শুধু খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট হচ্ছে এমনটা নয়, এতে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে এমনকী, হতে পারে ক্যানসার-এর মত মারণ রোগও। 

বিট: আয়রনে পরিপূর্ণ একটি সবজি হল বিট। কাঁচা অবস্থায় বা স্যালাডে খেলে এর যা পুষ্টিগুন থাকে রান্না করে বা ফ্রিজে রাখার পর সেই সবজি গরম করে খেলে, তা হতে পারে ততটাই ক্ষতিকারক।

পালং শাক: বিটের মত পালং শাকেও রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন এবং নাইট্রেট। এই দুই উপাদান থাকার কারণে পালং শাক গরম করলে কার্সিনোজেনিক নামক এক উপাদান উৎপন্ন করে, যা শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক।

ডিম: ডিমকে বলা হয় প্রোটিনের পাওয়ার হাউজ। ডিমের যে কোনও পদ রান্না হওয়ার পর তা আবার গরম করলে টক্সিন উৎপন্ন হয়, যা হজমের মত সমস্যার সৃষ্টি করে।

মাশরুম: মাশরুম কাটার সঙ্গে সঙ্গেই এর পুষ্টিগুন কমতে শুরু করে। তাই মাশরুম কাটার সঙ্গে সঙ্গেই তা রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। তাই মাশরুম কখনই ফ্রিজে রেখে খাওয়া উচিত নয়।

আরও পড়ুন- পাঁচ নয়া ফিচার হোয়াটসঅ্যাপে! দেখে নিন কি কি সেই ফিচার

রান্নার তেল: রান্নার অতিরিক্ত তেল অনেকেই রেখে পরবর্তী সময়ে তা ব্যবহার করেন। একবারের অধিক রান্নার তেল ব্যবহার করা মারাত্ম ক্ষতিকর। সেই কারনেই বাইরের খাবার খেতে নিষেধ করেন অনেকেই। বাইরের দোকানগুলি সব সময়েই ভাজা পোড়া তেল অধিকবার ব্যবহার করেন।

চিকেন: চিকেন-এ আছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন। চিকেন ফ্রিজে রেখে দিলেই এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে শুরু করে। এরপরে খাবারের সময় তা গরম করলে হতে পারে হজমের সমস্যা। তাই ফ্রিজে চিকেন রেখে খেতে হলে তা খুব ভালো মত সেদ্ধ করে নিতে হবে। এতে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

ভাত: ভাতের পুষ্টিগুণ নির্ভর করে চালের উপর। ধান উৎপাদনের সময় ব্যবহার করা হয় প্রচুর পরিমানে কীটনাষক। সেইগুলি থেকে যায় চালের মধ্যেই। এরপর যখন আমরা রান্না করা ভাত ফ্রিজে রেখে আবার গরম করি তা শরীরের মারাত্ম ক্ষতি করে। তাই আগের দিনের ভাত খেতে হলে জল ঢেলে রাখুন।