- Home
- Lifestyle
- Parenting Tips
- শিশু মনোবিজ্ঞান: কালো, মোটা বললে শিশুদের মনে কী প্রভাব পড়ে? জেনে নিন কিছু তথ্য
শিশু মনোবিজ্ঞান: কালো, মোটা বললে শিশুদের মনে কী প্রভাব পড়ে? জেনে নিন কিছু তথ্য
শিশু মনোবিজ্ঞান: সব শিশু একরকম হয় না। কেউ হয়তো শ্যামবর্ণ, কেউ বা একটু গোলগাল। কিন্তু ছোটবেলায় তাদের গায়ের রঙ বা ওজন নিয়ে বাবা-মা বা আত্মীয়দের মন্তব্য তাদের কতটা কষ্ট দেয়? মনোবিজ্ঞান কী বলছে?

অনেকেই খুব সহজে শিশুদের বিচার করে ফেলেন। অন্য শিশুদের সঙ্গে তুলনা করেন। শিশু কোনো রঙিন পোশাক বেছে নিলে, বাড়ির লোকেরাই সহজে বলে দেন, 'তুমি তো কালো, এই রঙটা মানাবে না'। আবার একটু বেশি খেলে বলা হয়, 'এমনিতেই মোটা, এত খেও না'। বাড়ির লোক বা আত্মীয়রা এই কথাগুলো খুব সাধারণভাবে বললেও, মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এগুলি শিশুদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।
বডি শেমিং এবং বর্ণবৈষম্য শিশুদের কোমল মনে গভীর প্রভাব ফেলে। অন্যদের মন্তব্য তাদের বেড়ে ওঠা এবং চিন্তাভাবনার উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে, সে সম্পর্কে মনোবিজ্ঞানীরা কী বলছেন, তা জেনে নেওয়া যাক।
১. আত্মসম্মান কমে যাওয়া (Low Self Esteem)
শিশুরা নিজেদের সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে অন্যদের কথার উপর ভিত্তি করে। মনোবিজ্ঞানে একে 'লুকিং গ্লাস সেলফ' (Looking Glass self) বলা হয়।
যখন কেউ শিশুদের 'মোটা' বা 'কালো' বলে উপহাস করে, তখন তারা নিজেদের ছোট করে দেখতে শুরু করে। ফলে, আয়নায় তাকালে তারা কেবল নিজেদের ত্রুটিগুলোই খোঁজে। 'আমি সুন্দর নই, আমাকে কিছুতেই মানায় না' - এই ধারণা তাদের মনে গেঁথে যায়।
২. অভ্যন্তরীণ যন্ত্রণা (Internalization)
মনোবিজ্ঞানে একে 'ইন্টারনালাইজড অপ্রেশন' (Internalized Oppression) বলা হয়। অর্থাৎ, সমাজ বা অন্যদের বলা নেতিবাচক কথাগুলো শিশুরা সত্যি বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে। তারা ভুলবশত ভাবে, "আমি ফর্সা হলেই সবাই ভালোবাসবে" বা "রোগা হলেই আমি স্বীকৃতি পাব"। এর ফলে তাদের স্বাভাবিক প্রতিভা दबে যায় এবং তারা নিজেদের শরীরকে ঘৃণা করতে শুরু করে।
৩. সামাজিক উদ্বেগ (Social Anxiety & Withdrawal)
চারজনের মধ্যে গেলে উপহাসের শিকার হওয়ার ভয় তাদের তাড়া করে। ফলে তারা স্কুলের অনুষ্ঠানে অংশ নেয় না, নতুন বন্ধু তৈরি করতে চায় না এবং ছবি তুলতে দ্বিধা বোধ করে। ধীরে ধীরে তারা একাকীত্বে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।
৪. খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য সমস্যা
বডি শেমিং-এর শিকার হওয়া শিশুদের মধ্যে ইটিং ডিসঅর্ডার (Eating Disorders) হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এর কারণে তারা রোগা হওয়ার জন্য খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। আবার, মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে অতিরিক্ত খেতে শুরু করে। এর ফলে তাদের শারীরিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে।
৫. বর্ণবৈষম্য - পরিচয় সংকট (Identity Crisis)
গায়ের রঙের ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার হলে শিশুরা তাদের সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যকে ছোট করে দেখতে পারে। তারা মনে করে, শুধু গায়ের রঙের কারণেই তারা সুযোগ পাচ্ছে না বা সবার থেকে দূরে থাকছে। এর ফলে তাদের মধ্যে তীব্র ঈর্ষা বা বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি হয়।
মনোবিজ্ঞান অনুসারে, শৈশবে এই ধরনের বৈষম্যের শিকার শিশুরা বড় হয়ে অন্যরকম হয়ে যায়। তাদের মধ্যে কিছু লক্ষণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
অতিরিক্ত মানিয়ে চলা (People Pleasing): অন্যদের প্রশংসা পাওয়ার জন্য তারা ক্রমাগত নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করে।
সম্পর্কে সমস্যা: সঙ্গী কি সত্যিই ভালোবাসে নাকি শুধু করুণা করছে, এই সন্দেহ তাদের তাড়া করে বেড়ায়।
ডিপ্রেশন: ছোটবেলার মানসিক আঘাত (Childhood Trauma) না সারলে, বড় হয়ে তা তীব্র অবসাদের কারণ হতে পারে।
বাবা-মা ও শিক্ষকদের কী করা উচিত?
বৈচিত্র্যকে সম্মান করতে শেখানো: পৃথিবীতে মানুষ বিভিন্ন রঙ এবং আকৃতির হয়, প্রত্যেকের মধ্যেই বিশেষ কিছু থাকে, তা বোঝাতে হবে।
বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে ব্যক্তিত্ব জরুরি: "তুমি দেখতে কেমন, সেটা বড় কথা নয়, তোমার ব্যবহার কেমন, সেটাই আসল" - এই বিষয়টি শিশুদের মনে গেঁথে দিতে হবে।
উৎসাহ প্রদান: শিশুদের প্রতিভা (পড়াশোনা, খেলাধুলা, শিল্পকলা) గుర్తించి প্রশংসা করলে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

