সন্তানের ভালো চাইলে তার সামনে পোশাক বদলের মতো ভুল করা থেকে বিরত থাকুন এবং একটি সুস্থ ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি করুন।
সন্তানের সামনে বাবা-মায়ের পোশাক বদলানো উচিত নয়, কারণ এটি তাদের মধ্যে প্রাইভেসি (গোপনীয়তা) ও বডি ইমেজ (শারীরিক ভাবমূর্তি) সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে এবং আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে, তাই সবসময় অন্য ঘরে বা বাথরুমে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করা ভালো, যা শিশুদের নিজস্ব সীমানা এবং অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ শেখায়।
বিস্তারিত আলোচনা:
১. কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ:
* প্রাইভেসি শেখানো: শিশুরা দেখে শেখে, তাই বাবা-মা যদি নিজেদের শরীরকে সম্মান করে এবং প্রাইভেট স্পেস বজায় রাখে, তবে তারাও শিখবে যে প্রত্যেকেরই গোপনীয়তা প্রয়োজন।
* বডি ইমেজ ও আত্মসম্মান: শিশুদের সামনে এমনভাবে পোশাক পরিবর্তন করলে তাদের মনে শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে দ্বিধা বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে, যা তাদের আত্মসম্মানবোধে আঘাত করে।
* সীমানা তৈরি: এটি শিশুদের 'পাবলিক' ও 'প্রাইভেট' স্পেসের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে এবং শেখায় যে তাদের শরীরও একটি ব্যক্তিগত বিষয়।
* ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা: ছোটবেলা থেকে এই অভ্যাস গড়ে উঠলে তারা বড় হয়ে নিজেদের শরীরকে সম্মান করতে শেখে এবং অন্যদের সীমানাকেও সম্মান করতে শেখে।
২. কী করা উচিত:
* অন্য ঘরে যান: বাথরুম বা বেডরুমের মতো ব্যক্তিগত জায়গায় গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করুন, এমনকি ছোট বাচ্চা থাকলেও।
* ‘প্রাইভেট’ মানে ‘প্রাইভেট’: শিশুদের শেখান যে তাদের শরীরের যে অংশগুলো সাঁতারের পোশাকের নিচে ঢাকা থাকে, সেগুলো প্রাইভেট এবং সেগুলোতে শুধু স্বাস্থ্যগত কারণে বা বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়েই স্পর্শ করা উচিত।
* ‘না’ বলতে শেখান: শিশুদের শেখান যেন তারা অস্বস্তিকর স্পর্শের বিরুদ্ধে 'না' বলতে পারে, এমনকি সেটা পরিচিত মানুষ হলেও।
* সরাসরি কথা বলুন: তাদের শরীর ও প্রাইভেসি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলুন, প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করুন এবং কোনো প্রশ্নকে ধামাচাপা দেবেন না।

